শিল্পাঞ্চল সাভারে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য

ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৮ আশ্বিন ১৪২৭

শিল্পাঞ্চল সাভারে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য

সাভার প্রতিনিধি ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৯, ২০২০

print
শিল্পাঞ্চল সাভারে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য

গত কয়েকদিন আগেই উদযাপিত হলো ঈদুল আজহা। ঈদের সময়টাতে নীরব-নিথর নিষ্প্রাণ ছিল সাভার শিল্পাঞ্চল এলাকাটি। ঈদ উদযাপন শেষে শ্রমিকরা গ্রামের বাড়ি থেকে ফের কর্মস্থলে যোগদান করায় আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল। গতকাল শনিবার সকাল থেকেই দেখা গেছে পোশাক শ্রমিকরা বিভিন্ন উপায়ে কর্মস্থল (কারখানায়) পৌঁছানোর সেই চিরচেনা দৃশ্য।

ঈদের ছুটি কাটিয়ে গত শুক্রবার কর্মস্থানে ফিরেছেন অনেকেই। পোশাক কারখানাগুলোর ছুটির মেয়াদ প্রায় একই দিন হওয়ায় শুক্রবারের ভেতর সাভারে ও আশুলিয়ার কর্মস্থানে থাকতে হয়েছে সবার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাভার ও আশুলিয়ার অধিকাংশ কারখানা তাদের উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে। পোশাক কারখানাগুলো খুলে দেওয়ায় পাশে থাকা চায়ের দোকান, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন দোকানও চালু করেছে দোকানিরা। এতে সাভার ফিরে পেয়েছে আবার আগের রূপ, কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে এ শিল্পাঞ্চল।

আশুলিয়ার চারাবাগে অবস্থিত এম কে অ্যাপারেলস ঈদুল আজহার একদিন আগে অর্থাৎ (৩০ জুলাই) তাদের কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছিল। তাদের কারখানা বন্ধের মেয়াদ ৮ আগস্ট পর্যন্ত থাকায় অনেক শ্রমিকই ৭ আগস্ট গ্রামের বাড়ি থেকে আশুলিয়ায় এসেছেন। তাদের মধ্যে কারখানাটির একজন অপারেটর বিলকিস। তিনি ঈদ কাটাতে গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে গিয়েছিলেন। ৭ আগস্ট ছুটির শেষ হওয়ায় আশুলিয়ায় আবার এসেছেন।

বিলকিস বলেন, আমি ভেবেছিলাম করোনার কারণে এবারও ঈদের ছুটি কম হবে। কিন্তু না, এবার ঈদের ছুটি একটু বাড়তিই পেয়েছিলাম। তাই সবার সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি গিয়েছিলাম। ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় শুক্রবার সাভার ফিরেছি। শনিবার কারখানা খোলা, তাই কাজে যাচ্ছি।

আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার চায়ের দোকানি রাফিকুল ইসলাম বলেন, আমার দোকানের আশপাশে চারটি পোশাক কারখানা। কারখানাগুলো যখন ঈদের ছুটি দিয়েছিল আমিও তখন পরিবার নিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। শনিবার আবার কারখানাগুলো খুলেছে, তাই বাড়ি থেকে ফিরে দোকানও খুলেছি। গার্মেন্ট বন্ধ থাকলে আমারও দোকানের ব্যবসাও বন্ধ থাকে।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, সাভার ও আশুলিয়ায় প্রায় ৯০ শতাংশ পোশাক কারখানা খুলেছে। সেই সঙ্গে সকালে সড়কের পাশ দিয়ে পোশাক শ্রমিকদের কারখানায় যাওয়া তোরজোরও আগের মতোই দেখা গেছে।

বিষয়টি নিয়ে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম মিন্টু বলেন, সকালে বাসা থেকে বের হয়ে গাজীপুরের দিকে রওনা দেই। পথে দেখা গেছে শ্রমিকদের সেই চিরচেনা আনাগোনা। বেশিরভাগ পোশাক কারখানা খুলে দিয়েছে। এছাড়া নতুন চাকরির জন্য বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে শ্রমিকরা দলবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে।