বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৯ আশ্বিন ১৪২৭

বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৯, ২০২০

print
বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

রাজধানীতে গত কয়েক বছরে দুই শতাধিক কিশোর গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিভিন্ন জেলা শহরের কিশোররাও নানা অপরাধে জড়াচ্ছে। করোনার এ দুঃসময়েও থেমে নেই তাদের অপরাধ কার্যক্রম। ১০ থেকে ১২ বছরের এসব কিশোর বেশিরভাগই স্কুলপড়ুয়া। তারা অলিগলিতে চায়ের দোকান বা বিশেষ কিছু স্থানে অবস্থান নেয়। মোটরসাইকেল চুরি, ইয়াবা সেবন, ছিনতাই, মদ বিক্রি, মানুষকে জিম্মি রেখে মুক্তিপণ আদায়সহ ভয়ঙ্কর সব অপরাধ করে।

সম্প্রতি ঢাকার তেজগাঁও ও মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে কিশোর অপরাধের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৪৬ কিশোরকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল লতিফ গণমাধ্যমকে বলেন, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, মাদক সেবন বা বিক্রির অপরাধে তাদের আটক করা হয়েছিল।

সবাই বয়সে কিশোর। ঢাকার মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, হাজারীবাগ, বংশাল, তাঁতীবাজার, আগারগাঁও, উত্তরাসহ রাজধানীর ৫০ থানার বিভিন্ন এলাকায় এ কালচার গড়ে উঠেছে। প্রায়ই সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে খুন-খারাবিতেও তারা লিপ্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাং কালচারে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা কিশোররা সমাজের কারও না কারও মদদপুষ্ট। তাদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি পুনর্বাসনেও জোর দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম। তিনি বলেন, কিশোরদের নিয়ন্ত্রণ বা সংশোধনের জন্য অভিভাবকদের সচেতন ও সক্রিয় হওয়া জরুরি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয়ের অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. জিয়া রহমান বলেন, কিশোর বয়সে যদি ক্ষমতা বিষয়টি তাদের মাথায় দেওয়া যায়, তবে তারা সহিংসতাকেই হাতিয়ার মনে করে। এটি রোধ করা না গেলে রাষ্ট্র বা সমাজকে চরম মূল্য দিতে হবে। গত ১৪ মে ভাসানটেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণ করে ১৪ বছরের এক কিশোর। পুলিশ তাকে আটক করে। থানায় এসে ওই কিশোরের অভিভাবক জানতে পারেন ছেলের অপরাধ। কিশোরের বাবা রাসেল শিকদার বলেন, আমি নিরুপায়। ছেলেটি ঠিকমতো পড়াশোনা করে না। 

শুধু বাইরে ঘুরে বেড়ায়। মারধর করলেও কথা শোনে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের একজন অভিভাবক বলেন, ছেলেটি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয় জানি। কিন্তু তারা যে অপরাধ করছে তা তো জানি না।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আগে পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবারই তাদের সুস্থভাবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। অপরাধ করলেই আমরা তাদের আইনে আওতায় নিয়ে আসছি।