কামাল ছিলেন সেরা সংগঠক

ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

খুব কাছ থেকে দেখা শেখ কামাল (৩)

কামাল ছিলেন সেরা সংগঠক

বদরুল আলম চৌধুরী ১০:১৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৭, ২০২০

print
কামাল ছিলেন সেরা সংগঠক

বাংলাদেশের আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তক বলা হয় তাকে। যার ধ্যান-জ্ঞান সার্বক্ষণিক খেলাধুলা আর সংস্কৃতিতে ছিল মিশে। ছিলেন খেলোয়াড়, দক্ষ সংগঠক। বাংলাদেশের খেলাধুলাকে আলোচিত জায়গায় নিয়ে যাওয়াই ছিল যার লক্ষ্য। তিনি হচ্ছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল। এই আগষ্টেই তার জন্ম এবং মৃত্যু। খেলাধুলায় শেখ কামালের মেধা, চিন্তা চেতনা নিয়ে কাছের লোকদের ধারাবাহিক কথোপকথন খোলা কাগজের পাঠকদের কাছে পৌছে দিতে সিনিয়র রিপোর্টার বদরুল আলম চৌধুরীর লেখায়- ‘খুব কাছ থেকে দেখা শেখ কামাল’...

‘হি ওয়াজ গ্রেটেস্ট অর্গানাইজার।’ তার ভিশন অনেক উঁচুতে, ১০ বছর, ২০ বছর আগে দেখে। সে ভাবেই সে কাজ করে আবাহনী ক্লাব গড়েছে। এবং আবাহনী ক্লাব একটা ক্লাব না, একটা প্রতিষ্ঠান। আপনি যদি ঢাকা ইউনিভার্সিটি কিংবা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের কথা আলাপ করেন বাংলাদেশের সবাই চেনে এবং আবাহনীর নামও যদি বলেন, সেটাও সবাই চেনে। উনি মাত্র চার বছরে যে জিনিসটা করে গেছেন এটা অনেকের ৫০ বছর লাগে। 

আজকে কামাল আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু তার করে যাওয়া কাজগুলো আমরা দেখতে পাচ্ছি। ওর সঙ্গে আমি স্কুলে এক সঙ্গে কাজ করেছি। আমরা শাহিন স্কুলে পড়তাম। ওর যে ভিশন যে কথাটি আমি বলছিলাম, স্বাধীনতার পরে আমার সঙ্গে আলাপ করেনি যে ফুটবল টিম গঠন করবে। তো সত্যি কথা বলতে কি আমি এতে একটু নিম রাজি ছিলাম। কিন্তু জ্জ দিন পর যখন আমার বাসায় এসে সব কিছু দেখাল তখন আমি বুঝে গেলাম হিজ ভিশন ইজ ভেরি হাই এন্ড হি উইল মেবি সাক্সেসফুল। ও’ অল রেডি টিম বানিয়ে নিয়ে এসেছে। তখন আমাকে বলল তুই এখানে সই কর। আমি করলাম।

তারপর আরেকটা জিনিস দেখেন ওর ভিশনটা যেটা ছিল তখন কামালের সঙ্গে জয়েন্ট করার জন্য মন্ত্রী, এমপি সবাই চেষ্টা করেছিল আবাহনী ক্লাবে আসতে। উনি কিন্তু রেখেছেন সালমান এফ রহমান, হারুণ ভাই ও তান্নাকে, যেন ক্লাবটা প্রপারলি অর্গানাইজ থাকে। এবং আমার সঙ্গে আরও তিন/চারটা প্লেয়ার রেখেছে। এ কথাটি আমি কেন বললাম- ৭৫’র ১৫ আগষ্ট কালোদিনে কামাল মারা যাওয়ার পরে আমাদের ওপর দিয়ে যে ঝড় ঝাপটা গেছে, আবাহনী ক্লাব ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমরা ন্যাশনাল প্লেয়ার যারা ছিলাম, তাদের বহুটোপ দেওয়া হয়েছিল, টাকা পয়সা দিয়ে নিতে চেয়েছিল, নিতে পারেনি। এবং সালমান এফ রহমান, হারুণ ভাই, তান্না, ওরাও অর্গানাইজ হিসেবে স্ট্রং ছিল।

এজন্য আমাদের ওপর যতই অত্যাচার করেছে, আমাদের খাওয়ার পয়সা ছিল না, বাসে খুব কষ্ট করে যেতে হয়েছে। কিন্তু আমরা আবাহনী ক্লাব ধরে রেখেছি। কারণটা হল কামালের জন্য। বিকস কামাল আমাদের যে আদরটা দিয়েছে ৪ বছরে, এ আদরটা আমরা ভুলতে পারিনি। আমি মনে করি তার ভিশনটা শুধু ক্লাব উন্নয়নে সঠিক অর্গানাইজার পিক করা না, সঠিক খেলোয়াড় পিক করা। আমাদের থেকে ২/৪ জন চলে গেছে, কিন্তু আবাহনী এক বছর পরেই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

এ কৃতিত্বের মোটা দাগটা কিন্তু কামালের। বিকস কামাল যে আদরটা দিয়েছে, যে আদরটা আমরা ইমপ্লিমেন্ট করতে যাচ্ছি, তা আমরা ঠিকমতো ইমপ্লিমেন্ট করতে পারিনি।

আরেকটা কথা আবাহনী সম্পর্কে উঠলে সবাই বলে ফুটবলে আবাহনী ইজ দ্য পাইওনিয়র, ইটিস ট্রুু। কামাল আমার সঙ্গে আলাপ করল, বলল একটা ফরেইন কোচ দরকার, টু গো টু দ্য নেক্সট লেবেল। তখন কামাল আমায় বলল তোর ফোন থেকে একটা কনট্রাক্ট অ্যারেঞ্জ কর।

আমার ফোন থেকে আমি একটা নম্বর অ্যারেঞ্জ করলাম, ফরেইন কোচ উইলিয়াম বিল হার্ট, আইরিশ। আমার বাসায় এক মিটিংয়ের পরে কামাল রাজি হল। এবং ৭৪’ এ আমরা লিগ চ্যাম্পিয়ন হলাম। এবং তখনি গোটা বাংলাদেশ চলে আসল যে আবাহনী মর্ডান ফুটবল করেছে। কামালের ভিশনটা কত আগের, বলার শেষের দিক করে ফেলেছে।