ব্রডব্যান্ড কেবল অপসারণ সময়োপযোগী নয়

ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৪ আশ্বিন ১৪২৭

ব্রডব্যান্ড কেবল অপসারণ সময়োপযোগী নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:১৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৬, ২০২০

print
ব্রডব্যান্ড কেবল অপসারণ সময়োপযোগী নয়

ব্রডব্যান্ড কেবল অপসারণ সময়োপযোগী নয় বলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাতের গ্রাহক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গতকাল দক্ষিণ সিটি করপোরেশন হঠাৎ করেই সড়ক থেকে কেবল অপসারণ কার্যক্রম শুরু করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে।

এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে বহুদিন আগে থেকেই আমরা বলে আসছি। যাতে গণমাধ্যমগুলো বারবার প্রধান শিরোনাম করলেও ডিপিডিসি, বিটিআরসি কিংবা সিটি করপোরেশন কেউই উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। কিন্তু বর্তমান করোনা মহামারিতে সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও যখন এই দুর্যোগ মোকাবেলা করছে সেই সময় যোগাযোগ এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমসহ রাষ্ট্রীয় সব কার্যক্রমের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে ইন্টারনেট। এমন সময়ে এই কেবল অপসারণের সিদ্ধান্ত এক ধরনের হঠকারি সিদ্ধান্ত বলে মনে করছি। 

সিটি করপোরেশনের কাজ নাগরিক অধিকার রক্ষা করা, ক্ষুণœ করা নয়। তারের জঞ্জাল সারা রাজধানীকে ঢেকে ফেলেছে এ কথা সত্য। তবে এমনটি কেন হলো?

কারা এর জন্য দায়ী? তাদেরকে শাস্তি না দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে গ্রাহকদের শাস্তির মানে কি? কেবল নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন-২০০৬-এর ২৫ ধারায় বলা হয়েছে সেবা প্রদানকারী কেবল সংযোগের কাজে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার স্থানীয় কার্যক্রমের লিখিত অনুমোদন ব্যতীত কোনো স্থাপনা ব্যবহার বা সুবিধা গ্রহণ করিতে পারিবে না। একই সাথে উপধারা ২৮(২) অনুযায়ী অনুমিত ছাড়া কার্যক্রম করিলে ২ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড বা ১ লক্ষ টাকা জরিমানা বা ৫০ হাজার টাকা ন্যূনতম জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে। পুনরায় করিলে ৩ বছর জেল বা ২ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দ- হইতে পারে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কীভাবে তারের জঞ্জালে ঢেকে দেওয়া হলো রাজধানী। আজ কেনই বা জরুরি প্রয়োজনের সময় কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা বা বিকল্প ব্যবস্থা না করেই কেবল অপসারণ করা হলো। সিটি করপোরেশন অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে বর্তমান জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা না করে নয়। আমাদের দাবি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সকল পক্ষের সমন্বয় করে বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।