তাদের উত্থান যেন রূপকথা

ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

তাদের উত্থান যেন রূপকথা

নিজস্ব প্রতিবেদক ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০

print
তাদের উত্থান যেন রূপকথা


জেকেজি হেলথকেয়ারের করোনার ভুয়া রিপোর্ট তৈরির ঘটনায় অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত রোববার ডা. সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের তেজগাঁও ডিসি কার্যালয়ে ডাকা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে জেকেজি হাসপাতালে করোনার ভুয়া রিপোর্ট তৈরির বিষয়ে অস্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। এ সময় আরিফ চৌধুরীর সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও অস্বীকার করেন তিনি। এদিকে একই অভিযোগে ডা. সাবরিনা চৌধুরীর স্বামী ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী আরিফ চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলেই এই প্রতারণার জাল বোনা শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

জানা যায়, আরিফ-সাবরিনা দম্পতির জীবনও রূপকথার গল্পের মতো। আরিফের চতুর্থ স্ত্রী সাবরিনা। আরিফের আরেক স্ত্রী থাকেন রাশিয়ায়, অন্যজন লন্ডনে। তবে ইতোমধ্যে আরেক স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়িও হয়ে গেছে আরিফের। তবে ছাড়াছাড়ির পরও সাবেক ওই স্ত্রী উচ্চমহলে আরিফের জন্য দেনদরবার করে যাচ্ছেন।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, মূলত সাবরিনার হাত ধরেই করোনার স্যাম্পল কালেকশনের কাজটি বাগিয়ে নেয় অনেকটা অখ্যাত জেকেজি নামে উক্ত প্রতিষ্ঠান। প্রথমে তিতুমীর কলেজ মাঠে স্যাম্পল কালেকশন বুথ স্থাপনের অনুমতি মিললেও প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার অন্য এলাকা এবং অনেক জেলা থেকেও নমুনা সংগ্রহ করছিল মহলটি।

স্বামী-স্ত্রী মিলে এমন লোক ঠকানো ‘ব্যবসা’ চালু করলেও তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের নয়। গত ৪ জুন শেরেবাংলা নগর থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে জিডি করেন ডা. সাবরিনা। এর দুই মাস আগেই তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে দাবি সাবরিনার।

এছাড়া জেকেজির এক কর্মীকে অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনায় গুলশান থানায় আরিফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলাও রয়েছে। ডা. সাবরিনা বিএমএর নেতার পরিচয় ভাঙিয়ে চলাফেরা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আরিফ-সাবরিনার প্রতিষ্ঠান জেকেজির বিরুদ্ধে অভিযোগ, সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিয়ে ‘বুকিং বিডি’ ও ‘হেলথকেয়ার’ নামে দুটি সাইটের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই প্রদান করা হচ্ছিল ভুয়া করোনা রিপোর্টের সনদ। পুলিশ জানায়, জেকেজি হেলথকেয়ার থেকে ২৭ হাজার রোগীকে করোনার টেস্টের রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৪০ জনের করোনার নমুনার আইইডিসিআরের মাধ্যমে সঠিক পরীক্ষা করানো হয়েছিল। বাকি ১৫ হাজার ৪৬০ রিপোর্ট প্রতিষ্ঠানটির ল্যাপটপে তৈরি করা হয়। জব্দ করা ল্যাপটপে তার প্রমাণ পাওয়া যায়।

জেকেজির মাঠকর্মীরা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে করোনা উপসর্গ দেখা দেওয়া মানুষের নমুনা সংগ্রহ করতেন। প্রতি রিপোর্টে ৫-১০ হাজার টাকা নেওয়া হতো। আর বিদেশিদের কাছ থেকে নেন ১০০ ডলার। সেই হিসাবে ইতোমধ্যে করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্টে প্রায় ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জেকেজি।

ডা. সাবরিনা ৩ দিনের রিমান্ডে : ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত গতকাল সোমবার এ রিমান্ডের আদেশ দেন। সিএমএম আদালতের হাজতখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই শহীদুল ইসলাম জানান, সাবরিনাকে আদালতে হাজির করে ৪ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ।

শুনানি শেষে আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। করোনার নমুনা পরীক্ষার জালিয়াতির অভিযোগে সাবরিনাকে গত রোববার গ্রেফতার করে পুলিশ। জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ার, সংক্ষেপে জেকেজি কাজ শুরু করেছিল ২০১৫ সালে। ওই বছরই চিকিৎসক সাবরিনা শারমিন হুসেইনকে বিয়ের পর ব্যবসায়ী আরিফুল হক চৌধুরী তার দাদির নামে এ ‘অলাভজনক’ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন।