ডিজিটাল শিক্ষায় অনন্য বর্ণমালা বিদ্যালয়

ঢাকা, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২০ | ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭

ডিজিটাল শিক্ষায় অনন্য বর্ণমালা বিদ্যালয়

রবিউল ইসলাম ১০:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২০

print
ডিজিটাল শিক্ষায় অনন্য বর্ণমালা বিদ্যালয়

আদর্শ জাতি গঠনে সুনামের সঙ্গে এগিয়ে চলছে বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যেও সব কার্যক্রম চলছে সুন্দরভাবে। শিক্ষার্থীরা যেন পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য করোনার শুরু থেকেই অনলাইন ক্লাস শুরু করা হয়। বর্তমানে বাসায় নিরাপদে থেকে অনলাইনে ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছে তারা। গত ১৭ মার্চ থেকে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর বিলম্ব না করেই অনলাইনে কার্যক্রম শুরু করে বর্ণমালা আদর্শ বিদ্যালয়।

জানা যায়, গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষের নির্দেশনায় অনলাইন কার্যক্রম শুরু হয়। রাখা হয় শিক্ষার্থীদের খোঁজ-খবর। দেওয়া হয় পড়াশোনার নির্দেশনা। রমজানেও দশম ও একাদশ শ্রেণির কিছু ক্লাস অনলাইনে নেওয়া হয়। করোনায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে গত ১৩ জুন এক অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিনের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় তৃতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব ক্লাস পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।

তবে করোনার শুরু থেকেই অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস চলে আসছে। নির্দেশনাক্রমে শিক্ষকরা রুটিন মাফিক ক্লাস রেকর্ড করে ইউটিউব ও ফেসবুকে প্রকাশ করে আসছেন। প্রতিটি ক্লাসের বিষয়েই তারা সহপ্রধান শিক্ষক ও ইনচার্জদের অবহিত করছেন।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ ভূঁইয়া আবদুর রহমান বলেন, যাত্রাবাড়ী থানা এলাকার স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। এখানে ১৬০ জন শিক্ষক ও ৩০ জন কর্মচারী বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ৬০ জন এমপিওভুক্ত ও বাকিরা এমপিওবিহীন। করোনার কারণে ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনার পর গভর্নিং বডির সভাপতি আলহাজ মো. আব্দুস সালাম বাবুর নির্দেশনাক্রমে সভা আহ্বান করা হয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের খোঁজ-খবর নেওয়া এবং শিক্ষার মান অব্যাহত রাখার নিদের্শনা দেন সভাপতি।

এরপর থেকে সেভাবেই চলছে। পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়েও লক্ষ রাখা হচ্ছে। অধ্যক্ষ বলেন, ৩০ জন শিক্ষকের একটি তালিকা করে তৃতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অনলাইন ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের কেউ যেন অর্থকষ্টে না থাকেন সেটিও দেখা হচ্ছে। এজন্য একটি ফান্ডের মাধ্যমে সহায়তা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে গভর্নিং বডির সভাপতি আলহাজ মো. আব্দুস সালাম বাবু বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, তারা যেন ঝুঁকিতে না না পড়েÑসেটিই আমাদের প্রথম চিন্তা ছিল। শিক্ষকরা ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসছেন। অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন। সার্বিক খোঁজ-খবরও রাখছেন। এতে আমার শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিমুক্ত থাকছে। পাশাপাশি পড়ালেখাও চলছে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার দনিয়া এলাকায় ১৯৭৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৮৫ সালে একাডেমিক স্বীকৃতি ও ১৯৯৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক অনুমোদন লাভ করে। ২০০২ সালে কলেজ এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দিবা ও প্রভাতি শিফটে ক্লাস নেওয়া হয়। প্রাথমিকে ১ হাজার ৩৮ জন, মাধ্যমিকে ৩ হাজার ৯৪৫ জন এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ৫৪০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। গত ৮ বছরে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষায় পাসের হার শতভাগ অর্জন করে চলেছে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায়ও মেধার স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। নিয়মিত মেধাবী, অস্বচ্ছল ও এতিম শিক্ষার্থীদের বই কেনাসহ নানাভাবে আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে।