মানবেতর জীবনে রিকশাচালকরা

ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

মানবেতর জীবনে রিকশাচালকরা

শাকিল আহমেদ ৯:২৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২০

print
মানবেতর জীবনে রিকশাচালকরা

মহামারি যে দিকটির ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে সেটি হল অর্থনৈতিক খাত। প্লেগ, কলেরার মতো ফ্লুগুলো পুরো বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। একইভাবে ২০২০ সালের করোনাভাইরাস নাড়া দিয়েছে পুরো বিশ্বকে। ক্ষতিগ্রস্ত পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক খাত। অর্থনৈতিক খাত বিপর্যস্ত হলেই চলে আসে দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস। 

ফলে একদিকে মানুষের মধ্যে চাকরি হারানোর শঙ্কা। অন্যদিকে রোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে নানা চিন্তার জোয়ার। করোনার এ কঠিন যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন সকলেই। তেমনি এ যাতাকলের শিকার রিকশাচালকরা।

সকাল থেকে রাত শহরের অলিগলি কিংবা সড়কে তাকালেই চোখে পড়ে রিকশা। তিন চাকার এ যানটি যেন একটি পরিবারের দায়িত্ব। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সব পেশাজীবী মানুষই চড়েন রিকশায়। এ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতেই সড়কে অপেক্ষায় থাকেন চালকরা। স্বল্প আয়ে চলে বৃদ্ধ পিতা-মাতার ওষুধ, সন্তানের পড়াশোনা, আর স্ত্রীর সামান্য চাহিদা। তিন বেলা পেট পুরে খেতে পারলেই হয়তো সেদিন একটু তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন তারা। কিন্তু আজ তাদের সেই তৃপ্তির ঢেকুর তোলার সোনালি দিনটি কেড়ে নিয়েছে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস।

চোখে মুখে শুধু হতাশার ছাপ। সারাদিন দিগি¦দিক ঘুরে যা আয় হয় তাও চাহিদার তুলনায় স্বল্প। এ যেন সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘হে মহাজীবন’ কবিতার দুটি লাইন ‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’। তবে তারপরও তাদের চোখের কোটরে জমে থাকা স্বল্প পানি যেন পূর্বাভাস দেয় সেই সোনালি দিনের। আবার স্বাভাবিক হবে পৃথিবী। আবার জীবন হবে স্বাভাবিক।

রিকশাচালক মোতালেব মিয়া বলেন, ‘বাড়ি ঘর তো গাঙ্গে নিছে। এহন ঢাহা আইছি পেটটা বাঁচানোর লেইগগা। কিন্তু করোনার কারণে রোজগারের রাস্তা থাইম্মা গেছে। সংসার চালামু কেমনে ওই টেনশনে রাইতে ঘুম আহে না।‘ আরেক রিকশাচালক বলেন, ‘কাম কাইজ নাই আগের মতো মামা। করোনার পর থেইক্কা রুজি রোজগারের অবস্থা ভালা না। এদিকে আব্বায় অসুস্থ। আবার মাস গেলেই ঘর ভাড়ার চাপ। খুব টেনশনে আছি।‘

আরও কয়েকজন রিকশাচালক জানান, করোনার পর থেকে তাদের প্রত্যেকের অবস্থা খারাপ। করোনার পূর্বে যা ইনকাম হতো তার থেকে এখন আরও কম। এজন্য তারা হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন শহরে টিকে থাকতে। কেউ কেউ বলেন, শহরে থেকে ঘর ভাড়া, সন্তানদের লেখাপড়া, পরিবারের চাহিদা পূরণ করতে পারছি না তাই স্ত্রী সন্তানদের গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছি।