২৩ জেলার আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২০ | ২০ শ্রাবণ ১৪২৭

পদ্মা মেঘনা যমুনায় পানি বৃদ্ধি

২৩ জেলার আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২০

print
২৩ জেলার আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ

পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বেড়ে নতুন করে ২৩টি জেলা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওইসব জেলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করতে ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এ দফায় রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, রাজবাড়ী, শরিয়তপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, চাঁদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁ জেলা নতুন করে বন্যাদুর্গত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয় থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ নির্দেশনার কথা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কঠিন সময় মোকাবেলা করছে, আমরা আম্পান মোকাবেলা করলাম। এরপরই ২৬ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি বন্যা মোকাবেলা করছি। ৭ জুলাই থেকে ১২টি জেলায় বন্যা অনেকটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে চলে এসেছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ১০-১১ জুলাই থেকে আবারও পানি বাড়বে। ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা নদীর পানি বাড়ায় ২০ থেকে ২৪টি জেলা প্লাবিত হবে। এবার বন্যার স্থায়িত্ব দীর্ঘায়িত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। নতুন করে বন্যার পূর্বাভাস পেয়ে গতকাল সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সভা করার কথা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান।

তিনি বলেন, যেহেতু বন্যায় এবার বেশি এলাকা প্লাবিত হবে, তাই মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার বিষয়ে তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। সেজন্য আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, ডিসিরা যেন বেশি বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেন। কারণ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চলছে, এ পরিস্থিতিতে যেন সামজিক দূরত্ব বজায় রাখা যায়। এ সময় তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে মাস্ক ব্যবহারেরও নির্দেশনা দেন।

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ২৩টি জেলায় পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে সব জেলায় ২০০ মেট্রিকটন করে চাল, দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং শিশু খাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা, গো-খাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা এবং নগদ তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। পানি বাড়লেও মাঠ প্রশাসন যেন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারে, সেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বন্যাকবলিত এলাকার জনগণকে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা আতঙ্কিত হবেন না, প্রধানমন্ত্রী আপনাদের পাশে আছেন, তিনি সবসময় আপনাদের খবর রাখেন এবং আমাদের নির্দেশ দেন। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে। কাজেই কোনো অবস্থাতেই খাবারের কোনো সংকট হবে না।

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বন্যা, নদীভাঙন, পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, অগ্নিকা-সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা দিতে গত ৬ জুলাই সারা দেশে ১০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন চাল এবং এক কোটি ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

এছাড়া বন্যাদুর্গত ১২ জেলায় ২৪ হাজার প্যাকেট-বস্তা শুকনো ও অন্যান্য খাবার, শিশু খাদ্য কিনতে ২৪ লাখ টাকা এবং গো-খাদ্য কিনতে আরও ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।