সুরক্ষাসামগ্রীর মান নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২০ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭

সুরক্ষাসামগ্রীর মান নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ০৫, ২০২০

print
সুরক্ষাসামগ্রীর মান নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা

দেশে করোনা সংক্রমণ রোধে সম্মুখসারিতে কাজ করছেন চিকিৎসকরা। ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়ও আছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এ করোনা যোদ্ধারা আক্রান্ত ও মৃত্যুতেও আছে প্রথম সারিতে। ইতোমধ্যেই এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬০ চিকিৎসক। নিম্নমানের সুরক্ষাসামগ্রী মাস্ক, পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) এবং যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাবেই স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন বলেও মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) সূত্রে জানা গেছে, ২ জুলাই বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্ত ৪ হাজার ৯০৩ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে ১ হাজার ৬৫৮ জন চিকিৎসক, ১ হাজার ৩৪১ জন নার্স এবং ১ হাজার ৯০৪ জন অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। মোট আক্রান্তদের মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকায়। রাজধানীতে ৬৬৫ জন চিকিৎসক, ৬২৪ জন নার্স ও ৪২০ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটিসের (এফডিএসআর) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ডা. শাহেদ ইমরান জানান, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত চিকিৎসকের সংখ্যা এক হাজার ৫৬১ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬৭ জনের। আবার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আটজন। এছাড়া এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৮০০ জন। সংগঠনের হিসাব মতে, যে আটজন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন, তাদের পরে করোনা শনাক্ত হয়েছে মর্মে মোট ৬৭ জন করোনা আক্রান্ত চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংগঠনটি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী। এ ছাড়া অনেক রোগী তথ্য গোপন করে হাসপাতালে চলে আসার কারণে অনেকেই আক্রান্ত হন। এতে স্বাস্থ্যখাতে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় ঝুঁকি বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন তারা।

নাগরিক সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ করোনাভাইরাস মহামারিতে সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর করা গবেষণা তথ্য প্রকাশ করেছে। জরিপের তথ্য বলছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যসেবাদানকারীরা গত মে মাস পর্যন্ত ২৬ শতাংশ ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী বা পিপিই পাননি। এ ছাড়া স্বাস্থ্যকর্মীরা পিপিইর মান এবং ব্যবহারের প্রশিক্ষণ না থাকায় উদ্বিগ্ন।

গবেষণায় বলা হয়, মে মাসে সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় ২৪ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, তারা তখন পর্যন্ত পিপিই পাননি। এদের মধ্যে ২৩ দশমিক ১ শতাংশ এমবিবিএস চিকিৎসক, ৫০ শতাংশ নার্স ও মিডওয়াইফ এবং ১২ দশমিক ৫ শতাংশ প্যারামেডিকস।

তবে সংস্থাটি জানায়, এপ্রিল মাসের জরিপের চেয়ে পিপিই বিতরণে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে প্যারামেডিকদের মধ্যে পিপিই সরবরাহ বেড়েছে। যদিও জরিপকালে সম্মুখসারির স্বাস্থ্য সেবাদানকারী সরবরাহকৃত পিপিইর মান এবং প্রশিক্ষণের অভাবে পিপিই সঠিকভাবে ব্যবহার না হওয়ার বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

এই অবস্থায় পিপিইর পরিমাণ ও গুণগতমান নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষণ প্রদান, সম্মুখসারির স্বাস্থ্য সেবাদানকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠানটি।