দুর্গম এলাকায় নেট নিচ্ছে টেলিটক

ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

দুর্গম এলাকায় নেট নিচ্ছে টেলিটক

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:২০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ০৩, ২০২০

print
দুর্গম এলাকায় নেট নিচ্ছে টেলিটক

দেশের দুর্গম এলাকায় উচ্চগতির ইন্টারনেট ও ভয়েসসেবা পৌঁছে দিতে চায় রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক। এ লক্ষ্যে নেটওয়ার্ক নেইÑ এমন এলাকায় ৪০০ বিটিএস স্থাপন করা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এসব এলাকায় ইন্টারনেট পৌঁছে যাবে।

এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ইতোমধ্যে ২০০ বিটিএস স্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে এ প্রকল্প শেষ হবে। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক বিটিআরসির সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল বা এসওএফ ফান্ড থেকে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দুর্গম এলাকার সেবা বঞ্চিতরা উচ্চগতির ইন্টারনেট ও ভয়েস সেবা পাওয়ায় শিক্ষা, ব্যবসাসহ ক্ষমতায়নে এগিয়ে যাবে। দেশের হাওর, বিল, প্রত্যন্ত এলাকা ও দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের প্রায় ৭৭২টি ইউনিয়ন এখনো উচ্চগিতর ইন্টারনেট সেবাবঞ্চিত। অন্য একটি প্রকল্পের কাজ চলছে, প্রকল্পটির কাজ শেষে হলে ২০২১ সাল নাগাদ এসব ইউনিয়নে উচ্চগতির ইন্টারনেট দেওয়া সম্ভব হবে।

টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহাব উদ্দিন জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দুর্গম এলাকার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ টেলিটকের উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধার আতায় আসছে। তিনি বলেন, দুর্গম এলাকা নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে ৪০০টি বিটিএস স্থাপন করা হচ্ছে। কাজ অর্ধেক শেষ হয়েছে। তবে দুর্গম এলাকায় বর্ষায় কাজ কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। বর্ষা শেষ হওয়ার পরপরই আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ওইসব এলাকার লোকজন এ সেবা পাবে।

কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, পার্বত্য এলাকা, নোয়াখালী ও কয়েকটি ছিটমহলে এ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে কাজ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে প্রায় ৩৮০ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে জানিয়ে টেলিটক ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এসব সাইটে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা হবে ফোরজি প্রযুক্তির মাধ্যমে। দুর্গম এলাকায় বিটিএস স্থাপন কষ্টসাধ্য এবং বিটিএসগুলো চালু রাখতে কমার্শিয়াল, জেনারেটর ও সোলারের মতো ব্যবস্থা থাকতে হবে।

এছাড়া ওইসব এলাকায় নেটওয়ার্ক ট্রান্সমিশন সেবাদাতা এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান বা টাওয়ার কোম্পানিগুলো নেই। মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে এক টাওয়ার থেকে অন্য টাওয়ারে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হবে। যেসব স্থানে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ খুবই জটিল হবে সেসব স্থানে ভি-স্যাট এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সচল করা হবে।

উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধার সঙ্গে ফ্রি ওয়াইফাই জোন স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সাহাব উদ্দিন বলেন, দুর্গম এলাকার স্কুল ও কলেজগুলোতে টেলিটকের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ফ্রি ওয়াইফাই স্পট গড়ে তোলা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা খুব সহজে ইন্টারনেট সেবা পেতে পারে। বর্তমানে দেশের সব বড় শহরগুলোতে টেলিটকের ফোরজি সেবা রয়েছে এবং উপজেলা পর্যায়ে ফোরজি সেবা সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিটিআরসির হিসাবে, এপ্রিল শেষে দেশে মোট মোবাইল গ্রাহক ছিল ১৬ কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে সাত কোটি ৪৩ লাখ ৬১ হাজার গ্রাহক নিয়ে শীর্ষে রয়েছে গ্রামীণফোন। এছাড়া রবির ৪ কোটি ৮৮ লাখ ৪৩ হাজার, বাংলালিংকের ৩ কোটি ৪৮ লাখ ৭৬ হাজার এবং টেলিটকের ৪৮ লাখ ৪০ হাজার গ্রাহক রয়েছে।