পুলিশকে ভালোবাসার জায়গায় নিতে চাই

ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২০ | ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭

পুলিশকে ভালোবাসার জায়গায় নিতে চাই

ড. বেনজীর আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ০২, ২০২০

print
পুলিশকে ভালোবাসার জায়গায় নিতে চাই

আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, পুলিশকে মানুষের প্রকৃত ভালোবাসা, সম্মান ও শ্রদ্ধার জায়গায় নিয়ে যেতে চাই। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে উন্নত দেশের উপযোগী আধুনিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কনস্টেবল থেকে শুরু করে সকল পদমর্যাদার অফিসার ও ফোর্সের মতামত নিয়ে কাজ করতে চাই। তাহলেই পুলিশ জনগণের হৃদয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী আসন করে নিতে পারবে।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত সকল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যর মতামত গ্রহণবিষয়ক পাঁচ দিনের কর্মশালা শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বর্তমান করোনাকালে পুলিশের ভূমিকা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণের প্রথম দিন থেকেই কোনো ধরনের ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রীর জন্য অপেক্ষা না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক পুলিশ সদস্য নিজের অজান্তেই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, জীবন দিয়েছেন ৪৪ জন সম্মুখযোদ্ধা বীর পুলিশ সদস্য।

আইজিপি বলেন, করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালকে মাত্র দুই সপ্তাহে ২৫০ থেকে ৫০০ বেডের কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়েছে। করোনা পরীক্ষার জন্য মাত্র ১২ দিনে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকায় আধুনিক চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন একটি হাসপাতালও ভাড়া ছাড়াও ঢাকার বাইরে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালেও কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের ন্যায় একই প্রটোকলে করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা করা হচ্ছে। ফলে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।

চলমান করোনায় জনগণের সেবায় পুলিশের অনন্য অবদানের কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, বর্তমান করোনাকালে পুলিশ যেভাবে জনগণের কাছে গিয়েছে তাদের পাশে থেকেছে, তাদের সুরক্ষা দিয়েছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের প্রশংসা করছে।

তিনি বলেন, করোনায় পুলিশ শুধু কোয়ারান্টিন, লকডাউনই বাস্তবায়ন করেনি অসহায় মানুষের বাসায় খাবার পৌঁছে দিয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে তাদের জানাজা, দাফন এবং সৎকারের ব্যবস্থা করেছে নিজেদের মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে করেছে। এজন্য মাত্র তিন মাসে পুলিশ মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছে।

আইজিপি বলেন, ৫০ বছর আগে মহান মুক্তিযুদ্ধ দেশ সেবায় পুলিশের জন্য একটা সুযোগ তৈরি করেছিল। ৫০ বছর পর করোনা আবার জনগণের কাছে যাওয়ার একটা সুযোগ নিয়ে এসেছে। মানুষের ভালোবাসা, সম্মান, শ্রদ্ধা কেনা যায়না, অর্জন করতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের পুলিশ হতে হলে জনগণকে ভালোবাসতে হবে, দমন পীড়ন থেকে বেরিয়ে আইনি সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি পুলিশকে সকল ধরনের দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ পুলিশের সকল ইউনিটকে পাঁচটি ক্লাস্টারে ভাগ করে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত সকল পদমর্যাদার পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য উত্তম চর্চা, ক্যারিয়ার, দুর্নীতি, ওয়েলফেয়ারসহ অন্যান্য বিষয়ে লিখিত মতামত দিয়েছেন।