পঙ্গপালের আশঙ্কায় দেশে জোর প্রস্তুতি

ঢাকা, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০ | ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

পঙ্গপালের আশঙ্কায় দেশে জোর প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ০৬, ২০২০

print
পঙ্গপালের আশঙ্কায় দেশে জোর প্রস্তুতি

পঙ্গপালের আক্রমণের আশঙ্কায় দেশে আগাম সতর্কতামূলক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশের দেশ ভারতে পঙ্গপালের ব্যাপক আক্রমণ হওয়ায় বিষয়টি দেশের সরকার এবং কৃষিবিদদের ভাবিয়ে তুলেছে। ভারতে পঙ্গপালের ঝাঁক বর্তমানে বাংলাদেশের সীমানার কাছাকাছি রাজ্যগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, পাকিস্তান থেকে এই পতঙ্গের ঝাঁক ভারতে আসার পর থেকেই বাংলাদেশের কৃষিবিভাগ সতর্ক নজর রাখতে শুরু করে। ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্তান ও মহারাষ্ট্র রাজ্যে এই পতঙ্গ ক্ষেতের ফসল ও গাছের পাতা খেয়ে সাবাড় করে ফেলে। ক্রমান্বয়ে পঙ্গপালের ঝাঁক দেশটির উত্তর প্রদেশ রাজ্যের দিকে এগোতে থাকে এবং সেখানে হানা দেয়। সেখানে ফসল ও পাতা সাবার করে ভূপাল ও ওডিশা রাজ্যে আক্রমণ করেছে। ভারতের এই রাজ্যগুলোর অবস্থান বাংলাদেশের কাছাকাছি।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, পঙ্গপালের ব্যাপারে দেশের মাঠপর্যায়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কীটতত্ত্ব বিভাগ ভারতে পঙ্গপালের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে চলেছে। জাতীয় পর্যায়ে পঙ্গপাল সম্পর্কিত একটি টাস্কফোর্স গঠন এবং একটি অ্যাপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ের অনুরোধে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বাংলাদেশে পঙ্গপালের আক্রমণের আশঙ্কা কতটুকু এবং এই পতঙ্গ যদি চলে আসে, তাহলে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে সে সম্পর্কিত প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এফএওর বৈশ্বিক পঙ্গপাল পর্যবেক্ষণ বিষয়ক সংগঠন লুকাস্ট ওয়াচ এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পঙ্গপাল আক্রমণের আশঙ্কা খুব কম। যদি আক্রমণ হয় তাহলে পঙ্গপাল দমনে অযথা বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার না করাই উত্তম। গত এপ্রিলে কক্সবাজারের টেকনাফে পঙ্গপালসদৃশ একধরনের পতঙ্গ দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক তৈরি হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের আতঙ্কে পড়ে কৃষক যাতে অযথা ফসলে কীটনাশক ব্যবহার না করেন, সে ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। কারণ, পঙ্গপাল দমনে বিশ্বজুড়ে যেসব কীটনাশক ব্যবহার হয়, তাতে পতঙ্গ মারা যায় ঠিক; কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ফসল, মাঠ, পানি ও আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিষাক্ত হয়ে ওঠে।

এ ব্যাপারে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, পঙ্গপালের আক্রমণ হলে যাতে বড় ধরনের বিপর্যয় না ঘটে, সে জন্য মাঠপর্যায়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পঙ্গপালের ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোথাও পঙ্গপাল দেখা গেলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচ্চ পর্যায়ে জানাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে এই পতঙ্গ দমন করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক দেবাশীষ সরকার বলেন, পঙ্গপালের কোনো কারণে যদি বাংলাদেশে আসে তাহলে কৃষিক্ষেত্রে বেজায় ক্ষতি হয়ে যাবে। এ বিষয়ে এখন থেকেই সবাইকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকতে হবে। আর সে নির্দেশনা ইতিমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে দেওয়া হয়েছে।