সস্তায় বাজিমাত করতে চায় সরকার: কৃষক সংগ্রাম সমিতি

ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

সস্তায় বাজিমাত করতে চায় সরকার: কৃষক সংগ্রাম সমিতি

ডেস্ক রিপোর্ট ৮:৩৩ অপরাহ্ণ, জুন ০৪, ২০২০

print
সস্তায় বাজিমাত করতে চায় সরকার: কৃষক সংগ্রাম সমিতি

সস্তায় বাজিমাত করার জন্য ‘চাষের জমি ফেলে রাখলে অধিগ্রহণ করা হবে’ এমন বক্তব্য ছুড়ে দিয়েছে সরকার। চাষ না করে ফেলে রাখার দায়ে যদি কৃষকের জমি অধিগ্রহণ করতে হয় তাহলে রাষ্ট্র ও সরকারের গণবিরোধী ভূমিকার কারণে যে কৃষক কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পায়নি তার দায়ও সরকারকেই বহন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির এক যুক্ত বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। ‘করোনা ভাইরাস : বাংলাদেশে চাষ না করে কৃষি জমি ফেলে রাখলে সরকার নিয়ে (অধিগ্রহণ) নেবে’ বিজ্ঞপ্তি জারির প্রেক্ষিতে এ বিবৃতি দেন তারা।

বিবৃতিতে হাফিজুর রহমান ও শাহজাহান কবির বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কৃষক, কৃষি ও জাতীয় স্বার্থে আমরা ২১ মার্চ, ৫, ১৭, ২২ ও ৩০ এপ্রিল এবং ১৪ ও ২২ মে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেছিলাম। উৎপাদন খরচ কমানো, ভূমির সুষ্ঠু বণ্টন, চাষে কৃষককে সরাসরি ভর্তুকি প্রদান করে কৃষি ও কৃষককে রক্ষা করা প্রয়োজন। কিন্তু সরকার সে পথে না হেঁটে সস্তায় বাজিমাত করার জন্য ‘চাষের জমি ফেলে রাখলে অধিগ্রহণ করা হবে’- এ বক্তব্য ছুড়ে দিয়েছে।

তারা বলেন, ধান বাদে চিংড়ি ও অন্যান্য মৎস্য চাষ হয়েছে রাষ্ট্রীয় মদদে। তারাই অপরিকল্পিতভাবে ফসলি জমি ধ্বংস করে অপরিকল্পিত অবকাঠামো ও স্থাপনা নির্মাণ করে চলেছে। কৃষি উৎপাদনের উপকরণকে বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তরিত করেছে এবং কৃষিক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত নয়া উপনিবেশিক ও আধা সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা কার্যকরী রেখেছে। বার বার আবেদন করার পরও খাস জমি ভূমিহীন কৃষকদের মাঝে বণ্টন করেনি। তারা সুন্দরবন ধ্বংস, ওয়াপদ বাঁধ সৃষ্টি, জলবায়ু ধ্বংস করে দেশের বন্যা, জলাবদ্ধতা তথা প্রাকৃতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করায় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা, পানির স্তর নেমে যাওয়ার মত সংকটসহ সামগ্রীক বিপর্যয় সৃষ্টি করে কৃষকের ঘাম ঝরানো ফসল বার বার ধ্বংস করেছে। নদ-নদী ভরাট হয়ে বন্যা-অকাল বন্যায় ফসলহানিও ঘটে চলেছে।

অপরদিকে কৃষি উৎপাদনে সার-বীজ-কীটনাশকসহ সেচে ব্যবহৃত তেল-ডিজেল বিনামূল্যে ও অন্যান্য উপকরণ ভর্তুকি মূল্যে প্রদান এবং উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ মূল্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা না করে মধ্যস্বত্তভোগীদের স্বার্থ রক্ষা করে চলেছে। ফলশ্রুতিতে ধনী কৃষক মধ্যম কৃষকে, মধ্যম কৃষক গরিব কৃষকে আর গরিব কৃষক ভূমিহীন কৃষকে পরিণত হয়ে চলেছে। কৃষি উৎপাদন বিমুখ হয়ে কৃষিতে জীবিকা নির্বাহ করতে না পেরে দেশের শহর বন্দরসহ বিদেশে শ্রুম দাসত্ব করতে বাধ্য হচ্ছে। অথচ সরকার তার দায়িত্ব পালন না করে এ ধরনের নির্দেশ দেওয়া সম্পূর্ণ গণবিরোধী। আমরা এ নির্দেশনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্থাপিত দাবিসমূহসহ কৃষকের সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই।