রাজধানীতে পাল্লা দিয়ে এলোমেলো চলছে বাস

ঢাকা, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০ | ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

রাজধানীতে পাল্লা দিয়ে এলোমেলো চলছে বাস

তোফাজ্জল হোসেন ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ০২, ২০২০

print
রাজধানীতে পাল্লা দিয়ে এলোমেলো চলছে বাস

করোনাভাইরাসের মধ্যেও সরকার দেশের অর্থনীতি, খেটে খাওয়া মানুষের কথা চিন্তা করে বিশেষ করে বাস শ্রমিক, হোটেল শ্রমিক, গার্মেন্টস শ্রমিক, নৌ-স্থল বন্দরের হাজার হাজার শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের হাহাকার মিটাতে দীর্ঘ ৬৭ দিন পর রাজধানীসহ সারাদেশে ছেড়েছে গণপরিবহন। গতকাল সোমবার রাজধানীতে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়। তবে বাসের ভেতর শারীরিক দূরত্ব কিছুটা থাকলেও যাত্রীদের গড়িতে উঠার সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। শারীরিক দূরত্ব তো দূরের কথা, মানুষের ব্যাপক ভিড়। স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য সরকারকে কঠোর হতে হবে। এছাড়া করোনা ভয়াবহ রূপে দেখা দেবে বলে মনে করছেন নগরপরিকল্পনাবিদরা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গতকাল প্রথম দিন হওয়ায় অনেক গণপরিবহনই শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রী তুলেছে। তবে গাড়ির ভেতর অনেক যাত্রীরই মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লাভস নেই। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই গাড়িতে উঠছে যাত্রীরা। দীর্ঘদিন পর সড়কে গণপরিবহন নামলেও দেখা যায়নি কোনো শৃঙ্খলা। ফের এলোমেলো ও পাল্লা দিয়ে বাস চালাতে দেখা যায়। 

গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, মানুষের উপচেপড়া ভিড়। কাউন্টারের বাইরে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিতের দায়িত্ব যেন কারো নেই। অনেক যাত্রীই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা। গাবতলী থেকে ভোর থেকেই বিভিন্ন গন্তব্যে বাস ছেড়ে যায়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নগরপরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম খোলা কাগজকে বলেন, দীর্ঘ দুই মাস পর রাজধানীতে গণপরিবহন চলাচল করতে শুরু করেছে। সেখানে সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনার দরকার যে, করোনাভাইরাসের কারণে এতদিন বাস চলাচল বন্ধ ছিল। কোনো পরিকল্পনা ছাড়া সেই বাস যদি সড়কে নামে মানুষের ভেতরেই ভয়ের সৃষ্টি হবে। সংক্রমণ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে।

মহাখালী ও যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালেও একই অবস্থা। কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা স্বাস্থ্যবিধি মানলেও যাত্রীদের সুরক্ষায় কাউন্টার ও বাসে নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার। ফলে কতটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চালাতে পারবে, সেই শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আবাবিল পরিবহনের সহকারী শিবলু গতকাল দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, আমরা চেষ্টা করছি আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী উঠাতে। কিন্তু যাত্রীরা তা না মেনে জোর করে ওঠার চেষ্টা করছেন।

যাত্রীরা বলছেন, বাসে স্বাস্থ্যবিধি বলতে শুধু শারীরিক দূরত্ব? এখানে অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। নিয়মিত তদারকি না করলে ফের পুরনো চেহারায় ফিরবে গণপরিবহন। প্রথম দিনেই স্বাস্থ্যবিধি মানছে না, পরবর্তী দিনগুলোতেও স্বাস্থ্যবিধি মানা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে পুলিশকে সক্রিয় হতে হবে।

উত্তরা রাজলক্ষ্মীতে অর্ধেক যাত্রী নিয়েই গণপরিবহনগুলো নগরে চলাচল করছে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রীরা যাতায়াত করছেন। আগের মতো ধাক্কাধাক্কি, তাড়াহুড়ো কোনোটাই না থাকলেও যাত্রী উঠা নিয়ে বাসের পাল্লাপাল্লি রয়েছে।

স্বাধীন, তরঙ্গ, তুরাগ, প্রচেষ্টা, নূর ও আবাবিল পরিবহনে দেখা যায়, আগের মতো যাত্রীদের তাড়াহুড়ো নেই। নির্ধারিত আসনেই বসে যাতায়াত করছেন লোকজন। প্রথম দিন যাত্রীও অনেকটা কম। যাত্রী বাড়লে অবস্থা এমন থাকে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কায় যাতায়াতকারীরা। তবে দুরত্ব বজায় না রেখে যাত্রী বহন করলেই ভ্রম্যমাণ আদালতের কাছে জরিমানা গুনতে হবে।

তরঙ্গ পরিবহনের যাত্রী সায়মা বলেন, প্রথম দিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলছে। তবে সেটা কতটুকু কন্টিনিউ করতে পারে, সেটা দেখার বিষয়। যদি নিয়মিত তদারকি করা না হয়, তাহলে ফের পুরনো চেহারায় ফিরবে গণপরিবহন। বিহঙ্গ পরিবহনের চালকের সহকারী ইকরাম হোসেন দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অর্ধেক যাত্রী তুলছি। এছাড়াও যাত্রীদের মাস্ক ছাড়া উঠতে দিচ্ছি না।
প্রচেষ্টা পরিবহনের চালক সাকির হোসেন বলেন, মালিক সমিতির নির্দেশনা মোতাবেক যাত্রী পরিবহন করছি। অতিরিক্ত যাত্রী নিচ্ছি না।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ও নগরপরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মোহাম্মদ খান দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, আমাদের আরও একটু সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা সবার মধ্যে বাড়াতে হবে।

এছাড়া গণপরিবহন চলাচল করার আগে সরকারের সঠিক পরিকল্পনা জনগণের মাঝে তুলে ধরতে হতো। এরপর গণপরিবহন চালু করা দরকার ছিল। এখন যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চলছে তা কিছুদিন পর থাকবে না বলে আশঙ্কা এ নগরবিদের। তখন বাসের ভাড়া কমানো হবে না। মাঝখান থেকে সরকার বাসমালিক সমিতিকে লাভবান করার ব্যবস্থা করে দিলেন। একথায় জনগণের পকেট কাটা ছাড়া সরকারের কোন উপায় নেই।