মানবতার ফেরিওয়ালা এসআই মিল্টন কুমার

ঢাকা, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০ | ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

মানবতার ফেরিওয়ালা এসআই মিল্টন কুমার

রবিউল ইসলাম ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ০২, ২০২০

print
মানবতার ফেরিওয়ালা এসআই মিল্টন কুমার

বিখ্যাত সংগীতশিল্পী ভূপেন হাজারিকার কালজয়ী গান ‘মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না ও বন্ধু’ বিখ্যাত এ গানের কথাগুলোকে যেন জীবন্ত রূপ দিয়ে চলেছেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিল্টন কুমার দেবদাস।

সমাজে এরকম মানবিক মিল্টনদের কারণে গানটি আজও মানুষের হৃদয়ে খুব বেশি নাড়া দেয়। আজও মানুষকে ভাবায়। মানুষের চেতনাকে শাণিত করে; জাগিয়ে তোলে। এখনো অসহায় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে শক্তি যোগায়। সমাজের বঞ্চিত মানুষগুলোও তাই নতুন করে আশা দেখতে পান। খুঁজে পান জীবনের জয়গান। বুকের মধ্যে আগলে রাখতে চান বিপদে পাশে থাকা মিল্টনদের।

জানা গেছে, এসআই মিল্টন কুমার দেবদাস বর্তমানে নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলায় কর্মরত। সদা হস্যোজ্জ্বল এ মানুষটি নীরবে-নিভৃতে অসহায় মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন। বিশ^জুড়ে করোনাভাইরাসের মহামারি চলছে। এই সময়ে দেশে পুলিশ বাহিনী যেন নতুন রূপে আবির্ভূত হয়েছে। অঘোষিত দীর্ঘ লকডাউনে বিরামহীনভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ঘরবন্দি মানুষের সেবা করে চলেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বস্তা মাথায় করে মানুষের ঘরে পৌঁছে দিয়েছে। এক্ষেত্রে এসআই মিল্টন কুমার দেবদাস যেন একধাপ এগিয়ে। তিনি শ্রমিক-কর্মচারী, দোকানদার থেকে শুরু করে ভাসমান ও অসহায় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চলেছেন।

শুধু করোনার এ কঠিন দুঃসময়েই নয়, চাকরিজীবনের শুরু থেকেই এসআই মিল্টন কুমার মানুষের পাশে থেকে কাজ করে চলেছেন। এ বিষয়ে প্রচারবিমুখ এসআই মিল্টন কুমার দেবদাস দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, একেকজন মানুষ একেক ধরনের হয়। কেউ ঘুরতে ভালোবাসে। কেউ গাইতে। কেউ খেতে ভালোবাসে। কেউ মানুষকে খাওয়াতে। আমি একজন সাধারণ মানুষ। সমাজের প্রতি আমারও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। এক্ষেত্রে আমি সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কিছু করার চেষ্টা করি। সাধ্য অনুযায়ী সমাজের বঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করতে চেষ্টা করি। বলতে পারেন, আমি এতে আনন্দই পাই। তিনি বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি। বদলির কারণে বিভিন্ন সময়ে জায়গা পাল্টে যায়। যখন যে এলাকায় বদলি হয়, সে এলাকার বঞ্চিত মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি।

এসআই মিল্টন কুমার দেবদাস আরও বলেন, দেখেন, সমাজে চলতে ফিরতে এমন কিছু মানুষের দেখা মেলে, যারা আসলেই অসহায়। অনেক সময় তাদের দিনের খাবারটুকু সংগ্রহ করতেও কষ্ট হয়। সড়ক-মহাসড়কে অনেক ভাসমান মানুষ থাকে। কাউকে না কাউকে তো তাদের পাশে দাঁড়াতে হয়। কেউ না কেউ তো দাঁড়ায়ও। আমিও সেই তাড়না থেকে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। আপনারা দেখবেন, সমাজ কল্যাণ অধিদফতরের আওতায় সরকারও এসব মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে আর্থিকভাবে সচ্ছল অন্যদেরও উচিত এসব বঞ্চিত-অসহায় মানুষের পাশে থাকা।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নির্মূলে লোহাগড়া থানায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন পুলিশের এই চৌকশ অফিসার। বিশেষ করে ক্লুলেস হত্যা, ডাকাতি, মামলা তদন্তে স্পেশালিস্ট মিল্টন কুমার। শিশু রমজান হত্যা, ১০৫ বছরের বৃদ্ধা হাজেরা হত্যা, পলাশ হত্যাসহ একাধিক ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এবং লোহাগড়া থানার কচুবাড়িয়া ডাকাতি মামলায় ১১ জন ডাকাত গ্রেফতারে সক্ষম হন। তার সাহসী পদক্ষেপের কারণে ২০১৮ সালের নভেম্বরের পর থেকে লোহাগড়া থানায় কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।

তিনি মোটরসাইকেল চোরচক্র হোতাদের রুখে দেন। ফলে ২০১৯ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত লোহাগড়া-নড়াইলে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেনি। যা নড়াইল জেলার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করেছে। এসআই মিল্টন কুমার দেবদাসের নিজ জেলা রাজবাড়ী। পড়ালেখা সম্পন্ন করেছেন জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় থেকে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশে এসআই হিসেবে যোগদান করেন মিল্টন কুমার।