দুই মাস পর কর্মচঞ্চল সচিবালয়

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০ | ২৩ আষাঢ় ১৪২৭

দুই মাস পর কর্মচঞ্চল সচিবালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ, জুন ০১, ২০২০

print
দুই মাস পর কর্মচঞ্চল সচিবালয়

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে দুই মাসেরও বেশি সময় সাধারণ ছুটির পর কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে সচিবালয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গতকাল রোববার সকাল থেকে অফিস শুরু করেছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে উপস্থিতি কিছুটা কম। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। পরে পরিস্থিতির ক্রমাবনতি হলে প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়তে থাকে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী টানা ৬৬ দিনের ছুটি গত শনিবার শেষ হয়েছে। বিভিন্ন শর্ত পালন ও নির্দেশনা মানা সাপেক্ষে রোববার থেকে আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত অফিস খুলে দিয়েছে সরকার।

রোববার সকাল থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সচিবালয়ে আসতে থাকেন। কর্মচারীরা আগের মতোই স্টাফ বাসে সচিবালয়ে আসেন। দর্শনার্থী গেট দিয়ে তাপমাত্রা মেপে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সচিবালয়ে প্রবেশ করানো হয়। 

বাসে সচিবালয়ে আসেন। দর্শনার্থী গেট দিয়ে তাপমাত্রা মেপে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সচিবালয়ে প্রবেশ করানো হয়। সচিবালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুখে মাস্ক পড়তে দেখা গেছে। অনেকে গ্লাভস পড়ে অফিসে এসেছেন। অফিসে সহকর্মীদের সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন।
সচিবালয়ে দর্শনার্থী পাস দেওয়া আপাতত বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অফিস খোলা উপলক্ষে প্রায় সবগুলো ভবনের মেঝেতে জীবাণুনাশক ছিটানো হয়েছে। ফ্লোরে-ফ্লোরে বিভিন্ন স্থানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা হয়েছে। বসানো হয়েছে জীবাণুনাশক টানেল। চার নম্বর ভবনের চতুর্থ তলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েও জীবাণুনাশক টানেল বসানো হয়েছে।

সচিবালয়ে গাড়ি রাখার স্থানগুলো আগের মতোই গাড়িতে পূর্ণ রয়েছে। তবে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় অন্যান্যদের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে করোনা আতঙ্ক রয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, সরকারের নির্দেশনা মেনে অফিস করতে এসেছেন। তবে খুব ভয়ে আছেন তারা। অফিস করার কারণে তাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে গেল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘চাকরি করতে হলে তো অফিসে আসতেই হবে। তবে ভয়ে আছি, কারণ অনেক মানুষের সংস্পর্শে আসতে হবে। ফলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকছেই।’

দীর্ঘ ছুটির কারণে ইতোমধ্যে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা-ে স্থবিরতা নেমেছে। কষ্টে পড়েছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাই করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না হলেও জীবিকা ও অর্থনৈতিক কারণে ছুটির পথ থেকে সরে এসেছে সরকার।

অফিস খোলার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক আদেশে বলেছে, ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিসগুলো নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি, অসুস্থ কর্মচারী এবং সন্তান সম্ভবা নারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকবেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণের জন্য সর্বাবস্থায় মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত ১৩ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।