এবারও ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০ | ২৩ আষাঢ় ১৪২৭

এবারও ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে

সব সূচকে ঊর্ধ্ব মূখি

তোফাজ্জল হোসেন ৪:১০ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২০

print
এবারও ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সবগুলো সূচকে আগের বছরের চেয়ে ঊর্ধ্বমুখি। পাসের হার সামান্য বাড়লেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তশিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় অর্ধলাখ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন পরীক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবার শতভাগ পাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা যেমন বেড়েছে। তেমনি শতভাগ ফেলকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংখ্যা কমেছে। এবারও ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা ভালো ফলাফল করেছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে এবার ভার্চুয়াল ফলাফল প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

যে কারণে গত বছরের চেয়ে তুলনা মূলক ভালো ফল করলে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় আনন্দেও বন্যা ছিলনা। কাঙ্খিত ফলাফল করা শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই পরিবারের সাথে আনন্দ ভাগাভাগিকরে নেয়। বিগত দিনের মতো কোথাও ছিলনা শিক্ষার্থীদেও ঢোল-ড্রামসহ নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র নিয়ে উল্লাসে মেতেওঠার দৃশ্য। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনন্দে মেতে উঠেছিল

এবার ১১ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমানের এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে গতকাল রোববার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ করেন। এরপর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তন থেকে ফেইসবুক লাইভে ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি। এ সময়ে সকল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

ভালোফলের সূচক হিসেবে চারটি দিক ধরা হয়। এগুলো হচ্ছে- পাসের হার, মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্তশিক্ষার্থীর সংখ্যা, শতভাগ ও শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানেরসংখ্যা। এবার সবসূচকইঊর্ধ্বমুখী। এ কারণে এবারের ফলকে ভালো হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

এবার মাদ্রাসা ও কারিগরিসহ ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ২১ লাখ ২৭ হাজার ৮১৫ জনশিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদেরমধ্যে পাসকরেছে ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ জন। পাসেরহার ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। গত বছরযাছিল ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় পাসেরহার বেড়েছেমাত্র দশমিক ৬৭শতাংশ। তবেশুধু৯টি সাধারণশিক্ষা বোর্ডেও অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৮৩ দশমিক ৭৫ ভাগ, যা গত বছরছিলো ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ। পাসেরহার বেড়েছে ০ দশমিক ৯৫শতাংশ।এবারএসএসসিতে অংশ নেয় ১৬ লাখ ৩১ হাজার ৩০৮ জন, পাসকরেছে ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ২১৮জন। ১১ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন, যা গত বছর ছিলো ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। গতবারের চেয়ে এ সংখ্যা বেড়েছে ৩০হাজার ৩০৪টি।

এবার মানবিক ওব্যবসায় শিক্ষাবিভাগে বেড়েছে পাসের হার। এই দুইবিভাগেযথাক্রমে পাসেরহার ৭৬ দশমিক ৩৯ ও ৮৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। গত বছর মানবিকে পাসের হার ছিল ৭৪ দশকি ৩২ ভাগ ও ব্যবসায় শিক্ষায় ৮৩ দশমিকশুন্য তিনশতাংশ। এবার বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৫৪ ভাগ , যা গত ছিলো ৯৪ দশমিক ৭২ শতাংশ।

সব শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। কমেছে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানও। এবার ৩ হাজার ২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এ সংখ্যাছিল ২৫৮৩টি। এবার ১০৪টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। গত বছর এ ধরণের প্রতিষ্ঠান ছিলো ১০৭টি। এসব কারণে সার্বিকভাবে এবারের ফল তুলনা মূলকভালো হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

এবারও ছাত্রদেও তুলনায় ছাত্রীদেও পাসের হার বেশি। ছাত্রদেও পাসের হার ৮১ দশমিক ৬৩ ও ছাত্রীদেও পাসের হার ৮৪ দশমিক ১০ শতাংশ। এছাড়া জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকেও ছাত্রীরাই এগিয়ে। ৬৩ হাজার ৯৪৬ জনছাত্রী ও ৫৯ হাজার ১৮৫ জনছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে।

বোর্ড ভিত্তিক পাসের হার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯টি সাধারণ বোর্ডেও মধ্যে পাসে হারের শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৯০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। পাসের হারে সবার নিচে রয়েছে সিলেট বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৭৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। ঢাকা বোর্ডে পাসের হারম ৮২ দশমিক ৩৪ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৮৫ দশমিক ২২ শতাংশ,যশোর বোর্ডে ৮৭ দশমিক ৩১ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৮৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৭৯ দশমিক ৭০ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৮২দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৮০ দশমিক ১৩ শতাংশ। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাস করেছে ৮২ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাস করেছে ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। ঢাকা বোর্ডর অধীনে বিদেশেন ৯টি কেন্দ্রে পাসের শতকরা হার ৯৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

বিশ্লেষণেআরও দেখা গেছে, বিষয় ভিত্তিক পাসের হার কেবল বোর্ডেও ফলেই নয়,জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গত বছর ঢাকা বোর্ডে ২৯ হাজার ৬৮৭ জন। এবার ঢাকা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৬ হাজার ৪৭ জন।

গত বছরের চেয়ে জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে ৬ হাজার ৩৬০ জন। যার প্রভাব পড়েছে সার্বিক সংখ্যায়। যে কারণে সারা দেশে (১১ বোর্ড মিলে) গত বছরের চেয়ে ৩০ হাজার ৩০৪ জনশিক্ষার্থী জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে। রাজশাহী বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬ হাজার ১৬৭ জন। কুমিল্লা বোর্ডে ১০ হাজার ২৪৫ জন, যশোর বোর্ডে ১৩ হাজার ৭৬৪ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৯ হাজার ৮ জন, বরিশাল বোর্ডে ৪ হাজার ৪৮৩ জন, সিলেট বোর্ডে ৪ হাজার ২৬৩, দিনাজপুর বোর্ডে ১২ হাজার ৮৬ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭ হাজার ৪৩৪ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে ৭ হাজার ৫১৬ জন ও কারিগরি বোর্ডে ৪ হাজার ৮৮৫ জন।

পুনঃনিরীক্ষাঃ

আজ সোমবার থেকে প্রকাশিত ফল চ্যালেঞ্জ কওে শিক্ষার্থীরা ফলপুনঃ নিরীক্ষার আবেদন করতে পারবেন। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি সূত্রে এতথ্য জানা গেছে, এসএমএসের মাধ্যমে ফলপুনঃ নিরীক্ষার আবেদন করা যাবে ১ জুন থেকে ৭ জুন পর্যন্ত। টেলিটক নম্বর থেকে জঝঈ <স্পেস> বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর<স্পেস> রোল নম্বর <স্পেস>বিষয় কোড লিখে পাঠিয়ে দিতে হবে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।

একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের জন্য আবেদন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’দিয়ে লিখতে হবে। ফিরতি এসএমএসে চার্জেও অংক জানিয়ে একটি পিন নম্বর (পার্সোনাল আইডেন্টি ফিকেশন নম্বর) দেয়া হবে। এতে রাজি থাকলে জঝঈ<স্পেস> ণঊঝ <স্পেস>পিন নম্বর<স্পেস> যোগাযোগে রজন্য একটি মোবাইল নম্বও লিখে ১৬২২২ নম্বওে এসএমএস পাঠাতে হবে।

প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য ১২৫ টাকা হাওে চার্জ কাটা হবে। যেসব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র) রয়েছে, সেসব বিষয়ের ফলপুনঃ নিরীক্ষার আবেদন করলে মোট ২৫০ টাকা ফি কাটা হবে। আজ সোমবার (১ জুন) থেকে শুরু হবে ফলপুনঃ নিরীক্ষার আবেদন। যারা ফল আশানুরূপ বলে মনে করবেন না, তারা এই পুনঃ নিরীক্ষার আবেদন করতে পারবেন।