বিভিন্ন অপরাধে দু’মাসে ৭২ জনপ্রতিনিধি বরখাস্ত

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০ | ২৫ আষাঢ় ১৪২৭

বিভিন্ন অপরাধে দু’মাসে ৭২ জনপ্রতিনিধি বরখাস্ত

তোফাজ্জল হোসেন ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ, মে ৩০, ২০২০

print
বিভিন্ন অপরাধে দু’মাসে ৭২ জনপ্রতিনিধি বরখাস্ত


করোনাভাইরাস মহামারিতেও ত্রাণের চাল আত্মসাৎ দেশের বিভিন্ন উপজেলার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাজে বাধাগ্রস্ত লাঞ্ছিত করাসহ নানা ধরনের অপরাধের কারণে স্থানীয় সরকার, বিভিন্ন উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ গত দুই মাসে ৭২ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে গত বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান নাজমুল হুদাকে (নবীন) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। কিছু অসাধু চেয়ারম্যান-মেম্বার এখনো এসব অপকর্ম ছাড়তে চায় না। এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

গতকাল শুক্রবার দৈনিক খোলা কাগজকে তিনি বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে কাজ করছে। আর খোদ ইউপি চেয়ারম্যান-সদস্যরা ত্রাণের মালামাল আত্মসাৎ করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়ে কারাগারে অবস্থান করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব অপকর্মের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশংকাসহ অন্যান্য উপজেলায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বিবেচনায় নিয়ে পৃথক পৃথকভাবে তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ আইন-১৯৯৮ {উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১১ দ্বারা সংশোধিত} এর ১৩ ধারা অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে ১২ জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। এদের মধ্যে ৩ জন ইউপি চেয়ারম্যান ও ৯ জন ইউপি সদস্য। গত ১২ এপ্রিল ৩ জন ও ১৫ এপ্রিল ৯ জন ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এ পর্যন্ত মোট ৭২ জন জনপ্রতিনিধিকে ত্রাণ আত্মসাৎ সংক্রান্ত বিষয়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

সাময়িক বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যানরা হলেন সর্বশেষ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান নাজমুল হুদাকে (নবীন) বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও এপ্রিল মাসে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মখদুম কবীর তন্ময়, নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার অর্জুনপুর বরমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সাত্তার এবং বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মির্জা গোলাম হাফিজ সোহাগ।

একজন উপজেলা চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, জনপ্রতিনিধি ছাড়া সাধারণ মানুষ কার কাছে সেবা নিতে যাবে। যার কাছে যাবে সে যদি অসৎ হয় তা হলে সেবা নিশ্চিত করা মুশকিল। এই মহামারির সময় সরকারের একার পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। জনপ্রতিনিধিদের সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় মোট ৭২ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। দায়িত্বশীল পদে থেকে সরকারি অর্থ লুটপাটের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকারের বিভাগের একটি সূত্র জানায়, সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারি ত্রাণকার্য পরিচালনায় বাধা ও অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) মারধর করার অভিযোগে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান নাজমুল হুদাকে (নবীন) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর এ নিয়ে মোট ৭২ জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। এদের মধ্যে ২৩ জন ইউপি চেয়ারম্যান, ৪৫ জন ইউপি সদস্য, ১ জন জেলা পরিষদ সদস্য, ২ জন পৌর কাউন্সিলর এবং ১ জন উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ভাইস-চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা (নবীন) সরকারি জরুরি ত্রাণ তার ইচ্ছামতো তালিকা বহির্ভূতভাবে তাকে প্রদান না করার কারণে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআই) মারধর, লাঞ্ছিতকরণ, প্রাণনাশের হুমকি, হেনস্থা ও সরকারি কর্তব্য পালনে অযাচিত হস্তক্ষেপ করেছেন। ইতিপূর্বে তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের ব্রিজের টেন্ডারকাজে বাধা প্রদান ও সিডিউল বিক্রি না করার জন্য হুমকি প্রদানসহ ভূমিহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণে অবৈধ হস্তক্ষেপ ও পিআইও-র কাছে চাঁদা দাবি করেন।
এছাড়াও তিনি বৈশ্বিক মহামারিতে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা হিসেবে কর্মহীনদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে তালিকা প্রণয়নে অযাচিত হস্তক্ষেপ করেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, তার এহেন কর্মকা- উপজেলা পরিষদে কর্মরত কর্মচারীদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করতে পারে, যা সার্বিকভাবে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম বাস্তবায়নে অচলাবস্থার সৃষ্টি ও জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কাসহ অন্যান্য উপজেলায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বিবেচনায় তার বিরুদ্ধে জনস্বার্থে তাকে উপজেলা পরিষদ আইন-১৯৯৮ {উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১১ দ্বারা সংশোধিত} এর ১৩খ ধারা অনুযায়ী স্থায়ী পদ হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।