একদিনে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার রোগী শনাক্ত, মৃত্যু ২৩ জনের

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০ | ২৫ আষাঢ় ১৪২৭

একদিনে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার রোগী শনাক্ত, মৃত্যু ২৩ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক ৪:০০ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২০

print
একদিনে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার রোগী শনাক্ত, মৃত্যু ২৩ জনের

দেশে গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এ নিয়ে দেশে এই পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৮২ জন। গত ২৪ ঘন্টায় সর্বাধিক ১১ হাজার ৩০১টি নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৫২৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটি একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের হারও। বর্তমানে দেশে এ ভাইরাসে শনাক্ত ৪২ হাজার ৮৪৪ জন রোগী রয়েছেন।

শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিন পড়েন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ১৫ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন সুস্থ হয়েছেন ৫৯০ জন।
গতকালের চেয়ে আজ ৪৯৪ জন বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল আক্রান্ত হয়েছিলেন ২ হাজার ২৯ জন। আজ আক্রান্তের হার ২২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২১ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এর আগের দিন ছিল ১৯ দশমিক ২২ শতাংশ।

শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আগের দিন সুস্থতার হার ছিল ২০ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ছিল ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে সর্বাধিক ১২ হাজার ৯৮২টি। আগের দিন নমুনা সংগ্রহ হয়েছিল ৯ হাজার ২৬৭টি। আগের দিনের চেয়ে আজ ৩ হাজার ৭১৫টি নমুনা বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশে ৪৯টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১১ হাজার ৩০১টি। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ৯ হাজার ৩১০টি। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ১ হাজার ৯৯১টি বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭টি।

নতুন করে যারা মারা গেছেন, তাদের ১৯ জন পুরুষ, চারজন নারী। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১০ জন, চট্টগ্রাম বিভা‌গের নয়জ‌ন, রংপু‌র বিভাগের দুজন, সি‌লে‌ট বিভাগের একজন এবং ব‌রিশা‌ল বিভাগের একজন রয়েছেন। এলাকাভেদে ঢাকা শহরে চারজন, ঢাকা জেলায় একজন, নারায়ণগঞ্জে দুজন, মুন্সিগঞ্জে একজন, মানিকগঞ্জে একজন, কিশোরগঞ্জে একজন, চট্টগ্রাম শহরে ছয়জন, কুমিল্লায় একজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন, ফেনীতে একজন, রংপুরে দুজন, সিলেটে একজন ও ভোলায় একজন মারা গেছেন। বয়সের দিক থেকে ১১ থে‌কে ২০ বছরের একজন, ২১ থে‌কে ৩০ বছরের একজন, ত্রিশোর্ধ্ব দুজন, চল্লিশোর্ধ্ব পাঁচজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব পাঁচজন, ষাটোর্ধ্ব ছয়জন, সত্তরোর্ধ্ব দুজন এবং ৮১ থে‌কে ৯০ বছ‌র বয়সী একজন রয়েছেন।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরও ৩২৮ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন পাঁচ হাজার ১৪০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১৭২ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ৮১০ জন।

সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা আছে ১৩ হাজার ২৮৪টি। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় সাত হাজার ২৫০টি এবং ঢাকার বাইরে আছে ছয় হাজার ৩৪টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা আছে ৩৯৯টি এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০৬টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে চার হাজার ৯০০ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে দুই লাখ ৮০ হাজার পাঁচজনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ৯১৮ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন দুই লাখ ১৯ হাজার ৭৭০ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬০ হাজার ২৭৫ জন।

দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৬২৯টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দেয়া যাবে ৩১ হাজার ৯৯১ জনকে।

বরাবরের মতোই বুলেটিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।

চীনের উহান শহর থেকে গত ডিসেম্বরে ছড়ানো করোনাভাইরাসের প্রকোপে গোটা বিশ্ব মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সোয়া ৫৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে তিন লাখ ৬২ হাজার। তবে ২৬ লাখের মতো রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ।