কাঁচামরিচে ভিন্ন রূপ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

কাঁচামরিচে ভিন্ন রূপ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ, মে ২২, ২০২০

print
কাঁচামরিচে ভিন্ন রূপ

প্রায় প্রতিবছরই রোজার মধ্যে কাঁচামরিচ ও শসার দাম থাকে ঊর্ধ্বমুখী। তবে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এবার রমজানে কাঁচামরিচ ও শসার দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে মাত্র ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ। শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতি বছর রোজায় কাঁচামরিচ, শসা ও বেগুনের দাম বাড়ে। বরাবরের মতো এবারও রোজার শুরুতে এ তিন পণ্যের দাম বেড়ে যায়। কিন্তু ১০ রোজা যেতে না যেতেই কাঁচামরিচ ও শসার দাম কমে গেছে। তবে বেগুনের দাম এখনো চড়া। রোজার আগে কাঁচামরিচের কেজি ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। প্রথম রোজায় তা এক লাফে বেড়ে হয় ১০০ টাকা। ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসার দাম বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা হয়। একইভাবে ২০ টাকার বেগুনের কেজি বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা হয়। রোজার মধ্যে কয়েক দফা দাম কমে এখন রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কাঁচামরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকা। শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা।

খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী আলম বলেন, রোজাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর কাঁচামরিচ, শসা ও বেগুনের দাম বেড়ে যাওয়ার পর রোজার মধ্যে সাধারণত কমে না। কিন্তু এবার ক্রেতা কম থাকায় এবং ইফতারের খ-কালীন দোকান বন্ধ থাকায় এসব পণ্যের চাহিদা তুলনামূলক বেশ কম। 

তাছাড়া কাঁচামরিচ ও শসার এখন ভরা মৌসুম। এ কারণে রোজার মধ্যে আগে যা ঘটেনি, এবার তাই ঘটেছে। বিশেষ করে কাঁচামরিচ ও শসার দাম অস্বাভাবিক কমে গেছে। যাত্রাবাড়ীতে ২০ টাকা কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি করছেন আরিফ। তিনি বলেন, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে কাঁচামালের ব্যবসা করছি। রোজার ভেতরে কাঁচামরিচের কেজি এর আগে কখনো ২০ টাকা হয়নি। কিন্তু এবার ২০ টাকা কেজিতেও ক্রেতা সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। মরিচ চাষ করে এবার চাষিরা লোকসানের কবলে পড়েছেন। এ ব্যবসায়ী বলেন, শুনছি ঝড়ের কারণে ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের ধারণা, এ কারণে সামনে কাঁচামরিচসহ সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে যাবে। কিন্তু তার সুফল চাষিরা কতটুকু পাবেন তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

কাঁচামরিচ ও শসার দাম কমলেও রোজার মধ্যে পাকা টমেটো, গাজর ও পেঁপের দাম বেড়েছে। রোজার আগে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া গাজরের দাম বেড়ে হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাকা টমেটোর দাম বেড়ে হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এছাড়া ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া চিচিংগার দাম বেড়ে হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পেঁপের দাম বেড়ে হয়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। রোজায় বেশকিছু সবজির দাম বাড়লেও করলা, বরবটি, পটল, ঝিঙের দাম আগের মতোই স্থির রয়েছে। বাজার ও মানভেদে পটল বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি। করলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। বরবটি পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। ঝিঙে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী শরিফ বলেন, বেগুনসহ দু-একটি সবজি ছাড়া বেশিরভাগ সবজির দাম তুলনামূলক কম। তবে রোজার আগের তুলনায় কিছু সবজির দাম বেড়েছে। আমাদের ধারণা, ঈদের পর সব ধরনের সবজির দাম আরও বাড়বে।

এদিকে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মুরগি, গরু ও খাসির মাংস। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা। খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। আগের মতোই রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০-৫০০ টাকা। নলা বিক্রি হচ্ছে ১৬০-২০০ টাকা কেজি। তেলাপিয়া ১৩০-১৭০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৪০-১৮০ টাকা কেজি, শিং ৩০০-৪৫০ টাকা, শোল মাছ ৪০০-৭৫০ টাকা, পাবদা ৪৫০-৬০০ টাকা, বোয়াল ৫০০-৮০০ টাকা, টেংরা ৪৫০-৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৬ টাকা কেজি। মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৬ টাকা, গরিবের মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৪০ টাকা। পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। খোলা সয়াবিন তেল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা, ভালো মানের পাম অয়েল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বড় দানার মসুরের ডাল ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ছোট দানার মসুরের ডাল ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন ৮০ থেকে ১০০ এবং আমদানি করা রসুন ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।