মলমপার্টি নিয়ে সতর্ক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী

ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

মলমপার্টি নিয়ে সতর্ক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী

এম কবীর ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ, মে ২২, ২০২০

print
মলমপার্টি নিয়ে সতর্ক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী

করোনাভাইরাসের কারণে গণপরিবহন বন্ধ ও সাধারণ ছুটি থাকায় ছিনতাইকারী ও মলমপার্টির তৎপরতা কিছুটা কম লক্ষ্য করা গেলেও মাঝে মধ্যেই রাজধানী ঢাকা নগরীর বিভিন্ন গলিতে তারা তাদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। বিশেষ করে সীমিত পরিসরে দোকানপাট খোলা থাকায় এবং রাস্তা কিছুটা নীরব থাকায় এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে মৌসুমি ছিনতাইকারী ও মলমপার্টির সদস্যরা। তবে নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঈদ মৌসুমে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি না হয় সেই দিকে বিশেষ নজর দিয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এই বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে বিশেষ বার্তাও দিয়েছেন মেট্রো কমিশনার।

পুুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরই ঈদ ও বিশেষ দিনকে কেন্দ্র করে কিছু কিছু অপরাধী সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। এ বছর ভিন্ন পরিবেশের কারণে ঈদযাত্রা প্রাণবন্ত না হলেও অপরাধীরা থেমে নেই। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বসে নেই। তাদের দমনে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শপিং মার্কেটগুলোতে পোশাকে ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে পুলিশ। গত কয়েক দিনে ঢাকা মেট্রোপলিটনে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এক গাড়িচালক ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়। ছিনতাইকারীরা কেড়ে নেয় তার নগদ টাকা, মোবাইল ও বাইসাইকেল। এর আগের দিন মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে সন্দেহজনক ঘোরাফেরা করার সময় র‌্যাবের কাছে আটক হয়েছে মলমপার্টির কয়েকজন সদস্য। এ সময় তাদের কাছ থেকে মলমসহ অজ্ঞান করার জিনিসপত্র জব্দ করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ) এর মো. আবু আশরাফ সিদ্দিক বলেন, এ বছর যেহেতু যান চলাচল ও জনসমাগম স্থল নেই সেহেতু এই ধরনের মৌসুমি অপরাধীদের উপদ্রব নেই বললেই চলে। তারপরও প্রশাসন সজাগ রয়েছে ওদের বিষয়ে। নগরে বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা ঘটলেও সবকিছু মিলে নগর শান্তিময় রয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা ও সৃষ্টি না হয় তার জন্য নগরের প্রতিটি থানাকে কমিশনারের বিশেষ বার্তা দিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। টহলের পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন মোড়ে চেকপোস্টের মাধ্যমে তল্লাশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাছাড়া মলমপার্টি ও ছিনতাইকারীদের একটি গ্রুপ প্রতি বছর মাইক্রো ও প্রাইভেটকারের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহনের নামে সর্বস্ব লুটে নিত। অসংখ্য চেকপোস্ট থাকায় এই ধরনের অপরাধীরাও নেই। তারপরও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অপরাধ দমনে সচেষ্ট রয়েছে।

অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় টহলরত অবস্থায় রয়েছে র‌্যাব। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নগরের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সর্বদাই প্রস্তুত তারা। বিশেষ করে ঈদ উপলক্ষে মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় অপরাধীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। সন্ধ্যায় মার্কেট থেকে বাড়ি ফেরা মানুষদের টার্গেট করে চক্রটি। এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে র‌্যাব সজাগ রয়েছে। এরই মধ্যে মলমপার্টির বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, লকডাউনের পর থেকে অপরাধ অনেকটাই কমে গেছে। তারপরও ছোটখাটো বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতে যাতে ছিনতাই, মলমপার্টির খপ্পরে কেউ যাতে না পড়ে তার জন্য টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।