দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ৫, মোট ৪৪

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০ | ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ৫, মোট ৪৪

নিজস্ব প্রতিবেদক ৪:২২ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০২০

print
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ৫, মোট ৪৪

বৈশ্বিক মহামারি প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে দেশে নতুন করে আরও পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে। তবে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও চারজন। এতেকরে সবমিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১১ জন। এ ভাইরাসে নতুন করে কারও প্রাণহানি হয়নি। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন লাইভ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

এ সময় মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ৯২০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নতুন করে যাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন পাঁচজন। ফলে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪-এ। নতুন আক্রান্তদের একজন বিদেশ থেকে এসেছেন, তিনজন আগে আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে থেকে সংক্রমিত হয়েছেন, অন্যজনের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

নতুন আক্রান্তের সবাই পুরুষ। এর মধ্যে ৩০-৪০ বছর বয়সী দুজন, ৪১-৫০ বছর বয়সী দুজন এবং ষাটোর্ধ্ব একজন। এ ভাইরাসে নতুন করে কারও প্রাণহানি হয়নি। আক্রান্ত ৪৪ জনের মধ্যে নতুন করে আরও চারজন সুস্থ হয়েছেন, অর্থাৎ মোট ১১ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

ডা. ফ্লোরা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআরের হটলাইনে কল এসেছে ৩৩২১টি। এর সব ক’টিই করোনাভাইরাস সংক্রান্ত।

ব্রিফিংয়ে করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে নাগরিকদের করণীয়ও তুলে ধরেন তিনি।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাস এখন বৈশ্বিক মহামারি। বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাসটি। এখন পর্যন্ত এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় পৌনে ৫ লাখ এবং মারা গেছেন ২১ হাজার ৩৩৬ জন মানুষ। অপরদিকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ১৪ হাজার ৭৭৯ জন।

বাংলাদেশে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এরপর দিন দিন এ ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাবে দেশে এখন পর্যন্ত ৪৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন পাঁচজন।

করোনাভাইরাস এখন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে গোটা ইউরোপে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ইতালিতে। টানা এক সপ্তাহ ধরে সেখানে গড়ে ছয়শর বেশি করে মানুষ মারা যাচ্ছেন। হাসপাতালগুলোর মর্গে লাশ রাখার জায়গা নেই। সেনাবাহিনীর ট্রাকে করে দূর-দূরান্তের করবস্থানে নিয়ে গণহারে মরদেহগুলো মাটিচাপা দেয়া হচ্ছে।

এ মহামারী পুরো বিশ্বকেই যেন স্তব্ধ করে দিয়েছে। অধিকাংশ দেশেই রাস্তাঘাট, অফিস-আদালত, শপিংমল-মার্কেট, রেস্তোরাঁ-বার ফাঁকা। যেন সব ভুতুড়ে নগরী, যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা চলছে। সবার মধ্যে ভয়, আতঙ্ক আর আশঙ্কা।

করোনার বিস্তাররোধে দেশের সব স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এবং সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর। চীন ও যুক্তরাজ্য ছাড়া সব দেশ থেকেই যাত্রী আসা বন্ধ হয়ে গেছে।

বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশের সব বিপণিবিতান। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে আদালতও। এমনকি একাধিক এলাকাকে লকডাউনও ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ সব ধরনের গণপরিবহন। এ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার জন্য দেশের সব জেলায় মোতায়েন রয়েছে সশস্ত্র বাহিনী।