‘আমি বাঙালি আমি মুসলমান’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

‘আমি বাঙালি আমি মুসলমান’

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০

print
‘আমি বাঙালি আমি মুসলমান’

‘আমার ফাঁসির হুকুম হয়েছিল, জীবন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছিলাম, আমি বলেছিলাম, তোমরা আমাকে মারতে চাও মেরে ফেল। আমি বাঙালি, আমি মানুষ, আমি মুসলমান। মুসলমান একবার মরে, বারবার মরে না।’। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১০ জানুয়ারি দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভায় এ কথা বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

শেখ মুজিব ছিলেন দেশপ্রেমিক, তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক, একইসঙ্গে তিনি ছিলেন ধর্মভীরু মুসলমান। পাকিস্তানের কারাগারে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও তিনি সগৌরবে নিজের পরিচয় ঘোষণা করেছেন তিনি। সেখানে তার জাতিসত্তা আর ধর্মবিশ্বাসের কথা বলেছেন দৃঢ়তায়।

অথচ সবাই জানেন, পাকিস্তান আমলে তাকে বারবার ইসলামবিরোধী হিসেবে প্রচারণা চালানো হয়েছে। তিনি লেবাসধারী মুসলমান ছিলেন না, ছিলেন মনের ভেতর থেকে বিশ্বাসী মুসলিম, তাই মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও তিনি উচ্চারণ করেছেন চিরসত্য ’আমি মুসলমান’। স্বাধীন বাংলাদেশে অনৈসলামিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে তিনি পদক্ষেপ নেন। তিনি জুয়া, হাউজি, মদ প্রভৃতি অসামাজিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং শাস্তির বিধান করেন। ইসলামের চর্চা ও গবেষণার জন্য বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠা ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব বাঙালিকে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পরতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, মানুষ জীবনবাজি রেখে যুদ্ধে গেছে, লাখো মানুষ শহীদ হয়েছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর যে ব্যক্তিজীবন যা দেশ, জাতি ও মানুষের জন্য উৎসর্গীকৃত, যেখানে আছে ধর্মের পুরোপুরি ছাপ ও প্রভাব তা আমাদের কতটা অনুপ্রাণিত করছে? এই প্রশ্নগুলোর জবাব আমাদের খুঁজতে হবে।

জাতির জনকের প্রদর্শিত পথে আমরা চলবো একইসঙ্গে তার জীবন ও দর্শনকেও অনুসরণ করতে হবে, বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান দেখানোর ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনে তাই হবে উত্তমপন্থা।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ