পাপিয়ার মোবাইলে রঙিন দুনিয়া

ঢাকা, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

পাপিয়ার মোবাইলে রঙিন দুনিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:১২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

print
পাপিয়ার মোবাইলে রঙিন দুনিয়া

বহিষ্কৃত যুব মহিলা লীগ নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়ার মোবাইল ফোন ঘেঁটে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। এর সূত্র ধরে পাপিয়ার পাপের সাম্রাজ্যের সঙ্গে জড়িতদের ধরার চেষ্টায় র‌্যাব।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, পাপিয়ার মোবাইল ফোনটি অশ্লীল ভিডিওতে পরিপূর্ণ। এসব ভিডিওতে সুন্দরী তরুণীদের সঙ্গে উঠতি শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী ছাড়াও আমলা এবং রাজনৈতিক নেতাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে তোলপাড় চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাপিয়ার পাপের সাম্রাজ্য বিস্তর। রাজধানীর আবাসিক হোটেলগুলোতে সুন্দরী তরুণী সরবরাহ করতেন তিনি। ভিআইপিদের কাছে সুন্দরী ললনা পাঠিয়ে বড় বড় কাজ বাগিয়ে নিতেন তিনি। পরবর্তীতে এই ছবি ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করতেন। রাজধানীর তারকা হোটেলগুলোয় মাঝেমধ্যেই ‘ককটেল পার্টি’র আয়োজন করতেন। এসব পার্টিতে উপস্থিত হতেন সমাজের উচ্চস্তরের লোকজন। মাদকের পাশাপাশি থাকত উঠতি বয়সী সুন্দরী তরুণীরা। মাদকের নেশায় টালমাটাল আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কৌশলে ধারণ করা হতো ওই তরুণীদের অশ্লীল ভিডিও। পরে ওইসব ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করতেন পাপিয়া। পাপিয়ার অপকর্মের সঙ্গীদের ধরতে এরই মধ্যে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে বলেও জানান গেছে।

র‌্যাব জানায়, জাল টাকা এবং নারীঘটিত কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে পাপিয়ার অজানা সব কাহিনী বেরিয়ে আসে। বিদেশে টাকা পাচারসহ ভয়ংকর সব অপরাধে জড়িত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসব ঘটনায় তার সঙ্গে আর কারা জড়িত জিজ্ঞাসাবাদে সে তথ্যও মিলেছে।

পাপিয়ার যৌথ মালিকানাধীন শোরুম ‘কার এক্সচেঞ্জ’ এবং নরসিংদীতে ‘কেএমসি কার ওয়াশ অ্যান্ড অটো সলুশন’ নামে গাড়ি সার্ভিসিং সেন্টারের আড়ালে অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডই ছিল তার প্রধান কাজ। অপকর্ম করে অল্প সময়েই পাপিয়া নরসিংদী ও ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লটসহ বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন। এছাড়া ফেসবুকে প্রকাশ্যে যৌন ব্যবসার গ্রুপ ‘এসকর্ট’ থেকেও সুন্দরীদের সংগ্রহ করতেন পাপিয়া। পরে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে অনেককে শয্যাসঙ্গী করতে বাধ্য করতেন। এসবের বেশকিছু ভিডিও এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। লজ্জায় অনেক ভুক্তভোগি কথা না বললেও পাপিয়া গ্রেফতারের পর অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যোগাযোগ করছে বলে জানা গেছে। ককটেল পার্টিতে টিপসের বাইরে প্রতি তরুণীকে মাসে ৩০ হাজার টাকা করে দিতেন পাপিয়া। এসব তরুণীকে আইনের আওতায় আনা হবে কি না সে বিষটি ভাবছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এসব তরুণী যদি ব্ল্যাকমেইলের সঙ্গে যুক্ত থাকেন তবে তাদেরও আইনের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

গত শনিবার দুপুরে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশত্যাগের সময় শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউসহ (২৮) চারজনকে আটক করে র‌্যাব।