দুদুক নিরপেক্ষ আচরন পেতে সমর্থ হয়নি: টিআইবি

ঢাকা, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬

দুদুক নিরপেক্ষ আচরন পেতে সমর্থ হয়নি: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক ২:০১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

print
দুদুক নিরপেক্ষ আচরন পেতে সমর্থ হয়নি: টিআইবি

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কাগজে কলমে স্বাধীন হলেও বাস্তবে স্বাধীনভাবে কাজ করছে না। আর তাই দুদকের কার্যক্রম ও ক্ষমতার ব্যবহারের কারণে এর স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। দুর্নীতি দমন কমিশনের ওপর ফলোআপ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে গবেষণাপত্র তুলে ধরেন টিআইবির রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাম্মী লায়লা ইসলাম ও সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম।

এ সময় টিআইবি বলছে, ছোট দুর্নীতিবাজদের ধরতে দুদকের মনোযোগ বেশি। কিন্তু দুদক বড় ধরনের দুর্নীতির ক্ষেতে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ব্যাংক খাতের দুর্নীতি, সম্পদ আত্মসাতের মামলা ও তদন্তের ক্ষেত্রে দুদকের দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। অনুসন্ধান ও তদন্ত কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুদকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন ও দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগও উঠেছে প্রতিবেদনে।

দুর্নীতির ঘটনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে দুদক নিরপেক্ষ আচরণ পেতে সমর্থ হয়নি বলেও জানিয়েছে টিআইবি।

সংস্থাটির মতে, কমিশন পক্ষপাতপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং সকলের বিরুদ্ধে সমানতালে পদক্ষেপ গ্রহণ করে না।

তথ্যদাতাদের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তাদের মধ্যে একটি সাধারণ ধারণা হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে তাদের বেশিরভাগই বিরোধী রাজনৈতিক দলের অন্তর্ভুক্ত। তবে কয়েকজন রয়েছেন যারা ক্ষমতাসীন দলের সদস্য।

সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারের পূর্বে সরকারের অনুমোদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়টি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের আইনকে খর্ব করে। এছাড়াও এই আইনটি বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক।

দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের সাড়া প্রদানের হার কম হওয়ার একটি কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দুদকের অভিযোগ বাছাই ব্যবস্থা। দেখা গেছে, ২০১৬-২০১৮ সালে মোট ৪৭ হাজার ৫৪৯টি অভিযোগের মধ্যে ৩ হাজার ২০৯টি অভিযোগ (৬.৭৫%) অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয়। অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে এই হার ৬৬ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা।

তবে দুদকের মতে, অধিকাংশ অভিযোগ দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধের মধ্যে পড়ে না। এছাড়া প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ২ হাজার ৩৬৯টি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। দুদক ২০১৬-২০১৮ সালে ৪ হাজার ৩৮টি অনুসন্ধানের মধ্য থেকে ৮৪৮টি (২১%) মামলা করেছ, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ৭৫ শতাংশের বেশি।