চার মেয়েকে নিয়ে আমরণ অনশনে মুক্তিযোদ্ধা

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৬

চার মেয়েকে নিয়ে আমরণ অনশনে মুক্তিযোদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:৫৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৮, ২০২০

print
চার মেয়েকে নিয়ে আমরণ অনশনে মুক্তিযোদ্ধা

সন্ত্রাসীদের ভয়ে নিজের পৈতৃক ভিটে ছেড়ে পরিবারসহ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন জাহাঙ্গীর আলম খান নামের অসহায় এক মুক্তিযোদ্ধা। প্রায় ১৫ দিন ধরে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বেড়ানোর পর মঙ্গলবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে চার কন্যাসহ আমরণ অনশনে বসেছেন তিনি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণও করছেন তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, তার বাড়ি ঝালকাঠি জেলার দক্ষিণ পিপলিতা গ্রামে। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। গেজেট নং- ৪০১, মুক্তিবার্তা- ০৬০২০১০৩২৬। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বাড়িতেই তিনি বসবাস করছেন। কয়েক বছর আগে একই এলাকার প্রভাবশালী মৃত আশ্রাফ আলী ডাকুয়ার ছেলে ‘ভূমিদস্যু’ আব্দুল খালেক ডাকুয়া ও তার সহযযোগীরা ১৫ শতাংশ সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের পায়তারা করে আসছিলেন। এক পর্যায়ে সেখানে একটি বাড়িও তৈরি করেন। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে রায় যায় আব্দুল খালেকের বিপক্ষে। তবুও সেই সম্পদের লোভ ছাড়েনি তিনি।

দুদফা মামলায় পরাজিত হয়ে আব্দুল খালেক মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম খানের বিরুদ্ধে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে মামলা (নং ৩০৬ / ২০১৫ইং ) করেন। গত বছরের ৪ এপ্রিল আদালতের বিচারক যুগ্ম জেলা জজ সিহাবুল ইসলাম মামলাটি খারিজ করে দেন।

এরপর খালেক গং চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় সন্ত্রাসীদের নিয়ে তাদেরই নির্মিত বাড়ি ভাঙচুর করে উল্টো ওই মুক্তিযোদ্ধাসহ পরিবারের লোকজনসহ কয়েকজনের নামে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করছে। এরপর থেকে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির কোনো সুরাহ না পেয়ে বাদীর হুমকিতে পুরো পরিবার নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এই মুক্তিযোদ্ধা।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু ও পুলিশ সুপার ফাতিহার কর্মব্যস্ততায় তাদের সাক্ষাৎ না পেয়ে নিরুপায় হয়ে স্ত্রী ও চার কন্যাকে নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খোলা আকাশের নীচে পৈতৃক ভিটা ফিরে পেতে ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে রেহাই পেতে আমরণ অনশনে বসেছেন।

অনশনে থাকা মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে নুসরাত জানান, হয়রানিমূলক মামলাটি করার পর থেকেই এলাকার ভূমি সন্ত্রাসী খালেক ডাকুয়া ও তার লোকজন নানান হুমকি দিয়ে আসছে। প্রাণভয়ে এবং পরিবারের বাবা ছাড়া কোনো পুরুষ না থাকায় আমরা নিরুপায় হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমরা দুই বোন সরকারি চাকরি করে তাদেরও অফিস ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আমার ছোট বোনটিও তাদের ভয়ে কলেজে যেতে পাচ্ছে না। এ অবস্থায় নিরুপায় হয়ে ঢাকায় এসে প্রেসক্লাবের সামনে অনশন করছি।

বিষয়টি সুরাহার প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আমার বাবা বয়স্ক মানুষ। আমাদের কোনো ভাই না থাকায় আমরা আরও অসহায়। আমরা চাই, প্রশাসন বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করুক এবং আমরা যাতে নিরাপদে বসত বাড়িতে ফিরতে পারি সেই আশ্বাস চাচ্ছি।

নুসরাত আরও জানান, যে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে আদৌ সেটার কোনো ভিত্তি নেই। তাছাড়া সদর থানার ওসি আসামি গ্রেফতারের নামে আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে সবার সামনে নানা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে অপমান করেছেন। সেদিন আমি ওয়ারেন্ট বা গ্রেফতারের কোনো পেপারস আছে কিনা জানতে চাইলে ওসি আমাকেও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং আমার পাখা গজিয়েছে বলে শাসিয়ে যান। এমনকি যারাই আমাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে তাদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ওই এলাকার একজন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বিষয়টি তদান্তধীন রয়েছে। তবে সেই মুক্তিযোদ্ধা বাদীর ভয়ে পরিবারসহ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বিষয়টি আমার জানা নেই। তিনি যদি কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেন অবশ্যই সেটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে।