সারা দেশে আইসোলেশন ইউনিট খোলার নির্দেশ

ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০ আশ্বিন ১৪২৭

সারা দেশে আইসোলেশন ইউনিট খোলার নির্দেশ

করোনা ভাইরাস

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৩৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২০

print
সারা দেশে আইসোলেশন ইউনিট খোলার নির্দেশ

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সারা দেশের সরকারি হাসপাতালে অনতিবিলম্বে আইসোলেশন ইউনিট খোলা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। আপাতত দেশের আটটি বিভাগের সকল জেলা সদর ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ইউনিট খোলা হবে। একই সঙ্গে দেশের সকল স্থল ও নৌবন্দরে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সংস্থার মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ এ নির্দেশনা দেন। এদিন বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জনদের সঙ্গে করোনা ভাইরাস নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন ডা. আবুল কালাম আজাদ।

এ বিষয়ে ডা. আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, এখন পর্যন্ত দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে স্ক্যানার মেশিন দিয়ে চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত যাত্রীদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

এর আগে রোববার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জেলা সদর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি দেশের ২৪টি স্থল ও নৌবন্দরে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি চিঠি দিয়ে বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জনদের জানিয়ে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, গতকালের বৈঠকে বিভিন্ন স্থলবন্দরে আপাতত বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের হেলথ কার্ডের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর মেপে মনিটরিং করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘আজ (২৭ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ক্যানার মেশিন ও হ্যান্ড স্ক্যানিং মেশিনের মাধ্যমে দুই হাজার ৪৭০ জন যাত্রীর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত দেশে কোনো করোনা ভাইরাস রোগী পাওয়া যায়নি।’

তিনি জানান, হেলথ কার্ডের মাধ্যমে আগত যাত্রীদের তথ্য-উপাত্ত রাখা হচ্ছে। কোনো যাত্রী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার এ রোগের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দুই থেকে ১৪ দিনের মধ্যে রোগী দেখা দিতে পারে। এ কারণে যাত্রীদের বলা হচ্ছে এ সময়ের মধ্যে যদি কেউ অসুস্থতা অনুভব করে তাহলে যেন আইডিসি আরে যোগাযোগ করে।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের মধ্যাঞ্চলের উহান শহরে প্রথমবারের মতো প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে। এরপর এই ভাইরাস চীনের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি ইতোমধ্যে বিশ্বের এক ডজনের বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

জ্বরে এক পরিবারের দুজনের মৃত্যু : করোনা ভাইরাস আতঙ্ক
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় হঠাৎ অসুস্থতায় শিশুসহ একই পরিবারের দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার উপজেলার জসলদিয়া এলাকায় ১৭ ঘণ্টার ব্যবধানে ওই দুজনের মৃত্যু হয়। তাদের নাম জসলদিয়া গ্রামের মীর সোহেলের ছেলে মীর আবদুর রহমান (৩) ও সোহেলের ভাবি শামীমা বেগম (৩৪)।

মৃতের পরিবারের দাবি, চীনের করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে জেলা সিভিল সার্জন এ দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মৃত ব্যক্তিদের স্বজনদের দাবি, দুজনই হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। অল্প সময়ের মধ্যে একই পরিবারের দুজনের মৃত্যুতে ওই এলাকার মানুষের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অনেকে এই মৃত্যুকে করোনা ভাইরাসজনিত অসুস্থতা বলে উল্লেখ করেছেন।

শামীমার দেবর মীর মো. শিবলু জানান, তার ভাবি গত শনিবার সকালে শরীরে জ্বর অনুভব করছিলেন। দুপুরে জ্বরের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা চলছিল তার। রাতে জ্বর আরও বাড়ে। একই সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অংশে চাক চাক রক্তের দাগসদৃশ কিছু দৃশ্যমান হয়। রোববার সকাল ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

শিশু আবদুর রহমানের মা পপি আক্তার বলেন, ‘আমার জা শামীমাকে আজ বিকেলে দাফন করা হয়। সে সময় থেকে ছেলের জ্বর শুরু হয়। শামীমার শরীরে যেসব লক্ষণ দেখা দিয়েছিল, একই রকম লক্ষণ আমার ছেলের শরীরেও দেখা দেয়। কোনোরকম চিকিৎসা দেওয়ার আগেই রাত ২টার দিকে ছটফট করতে করতে মারা যায়।’

মো. শিবলু বলেন, এমন রোগ এর আগে তারা কেউ দেখেনি। এটা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণেই হয়েছে।

এ ঘটনায় পর সোমবার সকালে সিভিল সার্জন অফিস ও উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মেডিকেল টিম পাঠানো হয়। উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ জানান, লক্ষণ দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি করোনা ভাইরাস নয়। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন। এ ছাড়া ওই এলাকায় এমন রোগী আর আছে কি-না, তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।