১২ দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ১৩ শতাধিক

ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬

১২ দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ১৩ শতাধিক

চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১

ডেস্ক রিপোর্ট ১০:৫১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২০

print
১২ দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ১৩ শতাধিক

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর ইউরোপ-আমেরিকা এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার ভারত ও নেপালে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। মহামারী ঠেকাতে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তুমুল লড়াইয়ের মধ্যে চীনসহ ১২ দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। একদিনের ব্যবধানে চীনে মৃতের সংখ্যা ২৬ থেকে বেড়ে ৪১ হয়েছে। ভারতে ১১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চীনের কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, হুবেইর উহানে জিনহুয়া হাসপাতালের ৬২ বছর বয়সী চিকিৎসক লিয়াং ? উডং করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। নিউমোনিয়া সদৃশ প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টিকারী এ ভাইরাস সংক্রমনের প্রথম প্রমাণ মেলে গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহরে। ওই শহরের পর এ ভাইরাস রাজধানী বেইজিং ও অন্যান্য প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়ে।

সংক্রমণের বিস্তৃতি ঠেকাতে গত কয়েকদিন ধরে শহরটিকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা শনিবার পর্যন্ত এক হাজার ২৮৭ হয়েছে বলে দেশটির ন্যাশনাল হেলথ কমিশন নিশ্চিত করেছে। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, নেপাল, ভারত, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে।

উহান থেকে ১৯ জানুয়ারি আসা এক চীনা নাগরিকের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। ওই ব্যক্তি মেলবোর্নের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ফরাসী কর্তৃপক্ষ ইউরোপে নতুন করোনা ভাইরাসটিতে আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তির উপস্থিতির খবর নিশ্চিত করে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, তারা প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ৬৩ জনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। এর মধ্যে দুই ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্ত দুই ব্যক্তিই উহান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন।

নেপালের স্বাস্থ্য বিভাগ শুক্রবার এক ঘোষণায় জানায়, চীনে পড়তে যাওয়া এক নেপালি শিক্ষার্থীর দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষও তিন নাগরিকের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি সনাক্তের তথ্য দেয় বলে স্ট্রেইট টাইমস জানিয়েছে। গত সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নতুন এ করোনা ভাইরাসটির কারণে চীনে জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে ঘোষণা করলেও, এখনি আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেনি বলে জানিয়েছিল।

এ ভাইরাস যাতে ছড়াতে না পারে সে লক্ষ্যে চীনে ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উহান ও পার্শ্ববর্তী হুয়াংগ্যাং শহরে গণপরিবহন বন্ধ করা হয়েছে। উহানের সঙ্গে বিমান ও রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। উহানের সর্বত্র ‘মাস্ক’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে শহরটি একটি ভূতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। বেইজিংয়ে সব বড় উৎসব ও মন্দিরে মেলা নিষিদ্ধ এবং চলচ্চিত্র মুক্তি স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার থেকে বন্ধ হচ্ছে সাংহাইয়ের ডিজনিল্যান্ডও।

ভারতে ১১ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত
ভারতের চার শহরে ১১ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ সনাক্ত করা গেছে। তাদেরকে হাসপাতালের সম্পূর্ণ আলাদা ওয়ার্ডে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি ওই ব্যক্তিরা চীন থেকে দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে সাতজন কেরালার, দু’জন মুম্বাইয়ের এবং একজন বেঙ্গালুরু ও একজন হায়দারাবাদের বাসিন্দা। কেরালার করোনা ভাইরাসবিষয়ক যোগাযোগ ইন-চার্জ ড. অমর ফেটল বলেন, চীন থেকে আসা সাতজনের দেহে করোনা ভাইরাসের সামান্য লক্ষণ দেখা গেছে।

শুক্রবার তাদের আলাদা ওয়ার্ডে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন বিমানবন্দরে চীন এবং হংকং থেকে দেশে ফিরে আসা ২০ হাজারের বেশি যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কেরালায় ৮০ জনকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে।

এর মধ্যে ৭৩ জনের দেহে এই ভাইরাসের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু বাকি সাতজনের জ্বর এবং কাশিসহ এই ভাইরাসের সামান্য লক্ষণ দেখা গেছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসকদের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরামর্শে রাখা হয়েছে। দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সাইন্স (এইমস) ইতোমধ্যেই একটি আলাদা ওয়ার্ড প্রস্তুত করে রেখেছে। নতুন এই ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় সেখানে আলাদা শয্যা প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো হলো জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসের কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ এই ভাইরাস অনেকটাই সেভার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা সার্সের মতো। ২০০২ এবং ২০০৩ সালে সার্সের কারণে শত শত মানুষের মৃত্যু ঘটে।