আর নয় গলাকাটা পাসপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬

আর নয় গলাকাটা পাসপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ১২:১৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২০

print
 আর নয় গলাকাটা পাসপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী

ই-পাসপোর্ট মুজিববর্ষে বাংলাদেশের মানুষের জন্য উপহার মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাবো। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চাই। সে জন্যই ই-পাসপোর্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের কারণে মানুষকে আর ধোঁকায় পড়তে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। “অতীতে একটা সমস্যা ছিল পাসপোর্ট নিয়ে। একসময় ‘গলাকাটা’ পাসপোর্টও প্রচলিত ছিল। আধুনিক ই-পাসপোর্টের কারণে সেটা আর কখনও হবে না। এখন আর মানুষ ধোঁকায় পড়বে না।”

 

বুধবার (২২ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ই-পাসপোর্ট বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৫ সালে ২৪ নভেম্বর আমরা বাংলাদেশ জনগণের জন্য মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) শুরু করি। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে আগামী ১০ বছরের জন্য আমরা ই-পাসপোর্ট প্রদানের পদক্ষেপ নিয়েছি। এজন্য আমি ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই এই কাজ সম্ভব হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা যে প্রকল্প ই-পাসপোর্টের জন্য গ্রহণ করেছি তাতে মনে করি, বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। কারণ আমরা যে পাসপোর্ট দিতে যাচ্ছি, সেটি বায়োমেট্রিক। এতে এম্বেডেড ইলেকট্রনিক মাইক্রো প্রসেসর চিপ থাকবে। সেখানে যে পাসপোর্ট গ্রহণ করবেন তার বায়োগ্রাফি ও বায়োমেট্রিক অর্থাৎ তার ছবি, ফিঙ্গার প্রিন্ট এবং চোখের কর্নিয়া থাকবে। কাজেই আর মানুষ ধোঁকায় পড়বে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশ এই আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন পাসপোর্ট গ্রহণ করেছে। প্রায় ১১৮টি দেশে এটি চালু হয়ে গেছে। কাজেই বাংলাদেশ হলো ১১৯তম দেশ। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বপ্রথম বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট চালু করতে সক্ষম হয়েছে।’

‘আধুনিক প্রযুক্তির জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষিত জাতি হিসেবে বাংলাদেশ যেন গড়ে উঠতে পারে সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশকে উচ্চমর্যাদায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’-বলেন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমাদের সরকার চায় বাংলাদেশ উন্নত, সমৃদ্ধশালী ও আত্মমর্যাদাশীল হবে। আমরা অর্থনৈতিকভাবে আজকে এগিয়ে গেছি। দেশের মানুষেরও আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে। এখন অনেকেই বিদেশে মানুষ যায়। আমাদের প্রবাসীরা বিদেশিরা কাজ করে রেমিট্যান্স পাঠায় যা আমাদের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রেখেছে। কাজেই তারা দেন কোনও হয়রানির শিকার না হন সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশই সর্বপ্রথম ই-পাসপোর্ট চালু করতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ৯৬ সাল থেকে আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তখন শেষ করতে পারিনি। পরে ক্ষমতায় এসে সেগুলো করি। আজকে প্রায় সমগ্র বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেব দিতে সক্ষম হয়েছি।'

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের সঙ্গে যাঁরা সম্পৃক্ত তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন সবাই। প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানীর আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা পাসপোর্ট অফিসে এই কার্যক্রম চলবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কেন্দ্র থেকেই ই-পাসপোর্ট সরবরাহ করা হবে।