হাইকমিশনেই ব্রুনাই প্রবাসীদের হয়রানি

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

হাইকমিশনেই ব্রুনাই প্রবাসীদের হয়রানি

তোফাজ্জল হোসেন ১০:৩৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২০

print
হাইকমিশনেই ব্রুনাই প্রবাসীদের হয়রানি

ব্রুনাইয়ের বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। খোদ ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার উইং এ নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। দূতাবাসের ভেতরই প্রবাসী শ্রমিকদের বেধড়ক মারধরের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার হয়ে ৭ বাংলাদেশী দেশে ফিরে পররাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছেন। ওই সাত বাংলাদেশির সম্পদ আত্মসাতের চেষ্টা চালাচ্ছে ওই সিন্ডিকেট, এমন অভিযোগও উঠেছে।

হাইকমিশন দুর্নীতি ও হয়রানির প্রতিবাদ করায় গত অক্টোবর ও নভেম্বরে প্রায় ২০ জন প্রবাসী শ্রমিক ও ব্যবসায়ীকে দেশে ফিরতে বাধ্য করা হয়েছে। ব্রুনাই ফেরত শ্রমিকরা জানান, হাইকমিশনের লেবার উইংয়ে কর্মরতদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। প্রবাসী শ্রমিক বা ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখা তো দূরের কথা উল্টো তাদেরকে হয়রানি করছেন।

অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় কামরুল নামের এক শ্রমিককে নির্মম নির্যাতন করা হয় হাইকমিশনের ভেতরেই। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। নির্যাতনের শিকার কামরুল হাসান দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হাইকমিশন থেকে ভয়ভীতি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে ২০১৮ সালের ৭ মার্চ হাইকমিশন ভবনে মনির হোসেন নামে একজনকে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় মনির হোসেন বাদী হয়ে পরের দিন একটি মামলা করেন। পরে ওই মামলা তুলে নিতে তার ওপর চাপ দেওয়া হলেও তিনি মাথা নত করেননি কিন্তু হাইকমিশনের ওই সিন্ডিকেট মানবপাচারের সাজানো অভিযোগ এনে তাকে জোর করে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।

আরেক ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগে বলেন, হাইকমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা অতিরিক্ত ঘুষের দাবি না মেটানোর ফলে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। তিনি বলেন, যেখানে ব্রুনাই সরকার কোন অভিযোগ করেনি সেখানে নিজ দেশের হাইকমিশনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তাকে।

নির্যাতনের শিকার ব্রুনাই প্রবাসী ব্যবসায়ী সবুজ মির্জা খোলা কাগজকে বলেন, ব্রুনাইতে প্রায় ১৫ বছর ধরে ব্যবসা করছি। সেখানে আমার পুরো পরিবার থাকে। আমার ৫টি দোকান ছিল। গত ২৭ অক্টোবর হঠাৎ ব্রুনাইর পররাষ্ট্র দফতর জানায়, আমার বিরুদ্ধে অবৈধ মানবপাচার ব্যবসা ও ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ করেছে বাংলাদেশি হাইকমিশন। পরে আমাকে দু’দিন কারাগারে রেখে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এভাবেই অনেক সচ্ছল ব্যক্তিও দিন দিন নি:স্ব হচ্ছেন এই চক্রের কারণে।

বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে দেশে ফেরত এসেছেন এমন কয়েকজন হচ্ছেন, আসিফ ,শাহেদ মজুমদার মুন্না, জাকির হোসেন, জসিম সরকার, সোহরাব খান, মো. মেহেদী হাসান, মো. মনির হোসেন, আব্দুর রহিম, মো. ইসমাইল সরদার, জাজ মিয়া, কামরুল হাসান এবং মো. আনোয়ার হোসেন।

নির্যাতিত শ্রমিকদের অভিযোগ, ব্রুনাইয়ে বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা হাইকমিশনের কাউন্সিলরের (শ্রম) কাছে অভিযোগ করেন। ওই সময় সুযোগ বুঝে কাউন্সিলরের সিন্ডিকেটের আবু নাঈম কৌশলে অভিযুক্ত কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং বিভিন্ন মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে নেয়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার জন্য ব্রুনাই হাইকমিশনের কর্মীদের ভিসা ছাড়পত্রে কর্মী প্রতি ১৫ ব্রুনাই ডলার দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ওই সিন্ডিকেট কর্মী প্রতি ছাড়পত্রে ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে। কেউ কম দিতে চাইলে বা প্রতিবাদ করলেই ছাড়পত্র দেওয়া হয় না এমনকি কোম্পানিকে ‘কালোতালিকাভুক্ত’ করা হয়।

এসব বিষয়ে ব্রুনাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশী হাইকমিশনার এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) মাহমুদ হোসেন এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।