রাজাকারের তালিকা প্রকাশ আজ

ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০ | ৫ মাঘ ১৪২৬

রাজাকারের তালিকা প্রকাশ আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

print
রাজাকারের তালিকা প্রকাশ আজ

একাত্তরে খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুণ্ঠনে যারা পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল, সেসব রাজাকারের তালিকার প্রথম পর্ব আজ রোববার প্রকাশ করবে সরকার। সরকারি পরিবহন পুল ভবনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলন করে এ তালিকা প্রকাশ করবেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে বলা হয়েছিল, এ তালিকা ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে প্রকাশ করা হবে। এখন এর একদিন আগেই তা প্রকাশ করা হচ্ছে।

একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থানা, মহকুমা, জেলা প্রশাসন থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনকারী রাজাকারদের তালিকা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার সুপারিশ করেছিল সংসদীয় কমিটি। গত ২৫ আগস্ট মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিকে রাজাকারদের তালিকা সংগ্রহের কাজ শুরুর কথা জানায়। এজন্য জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়।

পরে গত ২ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওইদিন বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শাজাহান খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘তালিকা হাতে আসা শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, ১৬ ডিসেম্বরের আগে থেকে যতটুকু আসবে পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।’ একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।

ডিসিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, মাগুরা, শেরপুর, গাইবান্ধা ও যশোরের শার্শা উপজেলায় কোনো বেতনভোগী রাজাকার ছিল না। চাঁদপুরে ৯ জন, মেহেরপুরে ১৬৯, শরীয়তপুরে ৪৪, বাগেরহাটে একজন ও নড়াইলে ৫০ জন রাজাকার ছিল। তবে এসব রাজাকারদের নামের তালিকা সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া হয়নি।
রাজাকারদের তালিকা সংগ্রহের কাজ শুরু হওয়ার কথা গত ২৫ আগস্ট সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জানায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বৈঠকে জানানো হয়েছিল, রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তি কমিটির সদস্যদের তালিকা সংগ্রহ করে তা রক্ষণাবেক্ষণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আধাসরকারি (ডিও) চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীতাকারী মানবতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলসামসদের পূর্ণাঙ্গ কোনো তালিকা প্রণয়ন করা হয়নি। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র যুদ্ধে সীমাহীন ত্যাগ অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে বিজয় ছিনিয়ে আনে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা।

তিনি বলেন, জাতির পিতার যোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা সমুন্নত রেখে বঙ্গবন্ধুর আজন্ম লালিত স্বপ্ন একটি সুখী ও সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়তে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এ সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি রাজাকার, আলবদর ও আলসামসের একটি সঠিক তালিকা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।