১২ মরদেহ হস্তান্তর

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি ২০২০ | ৮ মাঘ ১৪২৬

কেরানীগঞ্জের কারখানা সিলগালা

১২ মরদেহ হস্তান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:১১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯

print
১২ মরদেহ হস্তান্তর

রাজধানীর কেরানীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জন নিহত হওয়া সেই প্লাস্টিক কারখানাসহ একই মালিকের আরও একটি কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দেবনাথ জানান, চুনকুটিয়া ও শুভাঢ্যা এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে গড়ে ওঠা কারখানা দুটি জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সিলগালা করে দেন তারা।

জেলা প্রশাসক কারখানা দুটি পরিদর্শন করেছেন জানিয়ে ইউএনও বলেন, নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির দুটি কারখানাই আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে। কোনোটাতেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার রাস্তাও নেই। তাই জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে কারখানা দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

দুটি কারখানার মধ্যে চুনকুটিয়া এলাকার প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে বুধবার আগুন লেগে ঘটনাস্থলে একজন আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ১২ জন মারা যান। দগ্ধ আরও ১৮ জন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের অবস্থাও ভালো নয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

এদিকে নিহতদের মধ্যে ১২ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে মৃতদেহ হস্তান্তর শুরু করেন জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মো. আব্দুল আওয়াল। এ সময় তিনি বলেন, দাফন কাফনের জন্য নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে আপতত ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

আহতদের চিকিৎসার জন্য দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার টাকা করে। যাদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে, তারা হলেন- কেরানীগঞ্জের আলম (৩৫), পিরোজপুরের জাহাঙ্গীর হোসেন (৫৫), নরসিংদীর বাবলু (২৬), নড়াইলের রায়হান বিশ্বাস (১৬), পটুয়াখালীর ইমরান হাওলাদার (১৮), বরিশাল বাকেরগঞ্জের আবদুল খালেক (৩৫), মাগুরার জিনারুল মোল্লা (৩২), জয়পুরহাটের সুজন দেওয়ান (১৯), মুন্সীগঞ্জের ফয়সাল দেওয়ান (২৪), টাঙ্গাইলের সালাউদ্দিন (২৬), জয়পুরহাটের ওমর ফারুক (৩২) ও কেরানীগঞ্জের মেহেদী হাসান (২০)।

আরও একজনের পোড়া মরদেহ মর্গে আছে, যার হাতের আংটি দেখে মাহবুব হোসেন বলে শনাক্ত করেছে রংপুরের একটি পরিবার। তবে আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে বলে জানান জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মো. আবদুল আওয়াল।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেদিনই কারখানার ধ্বংসস্তূপ থেকে মাহবুবের লাশ উদ্ধার করেন। বাকিরা পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বলেন, ওই ঘটনায় দগ্ধ আর ১৮ জন হাসপাতালে আছেন। তাদের মধ্যে আটজন বার্ন ইউনিটের এইচডিইউতে এবং ১০ জন শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষের নিষেধের পরও বৃহস্পতিবার দুর্জয় দাস নামে ৯৫ শতাংশ দগ্ধ এক যুবককে কেরানীগঞ্জের বাসায় নিয়ে যান তার বাবা মিন্টু দাস।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের দশটি ইউনিট সোয়া একঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
একতলা টিনশেড ওই কারখানায় ওয়ান টাইম প্লেট, কাপসহ প্লাস্টিকের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি হতো। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ জানতে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।