রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু শিবিরে বেপরোয়া ‘গ্যাং’

ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০ | ৫ মাঘ ১৪২৬

রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু শিবিরে বেপরোয়া ‘গ্যাং’

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৯

print
রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু শিবিরে বেপরোয়া ‘গ্যাং’

নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে কক্সবাজারে আশ্রয় দেওয়া হলেও শিবিরগুলো অপরাধের আখড়া হয়ে উঠছে। খোদ মিয়ানমার থেকে ইয়াবা সরবারহ, খুন, ধর্ষণসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে তারা। রোহিঙ্গাদের ভেতরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য গ্রুপ। গত দুই বছরে ক্যাম্পের ভেতরে রোহিঙ্গাদের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে অন্তত ৪৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

রোহিঙ্গাদের হামলায় স্থানীয় বাংলাদেশিও নিহত হয়েছে। গত দুই বছরে অন্তত ৫০ জন রোহিঙ্গা পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের মাঝে উদ্বেগ বাড়ছে।

তারা দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি দেশে জঙ্গি কার্যক্রমেও অংশ নিচ্ছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অনেক রোহিঙ্গা শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছে। তবে সেখানে কাজ করা বিছু বিদেশি এনজিও এটাকে বন্দুকযুদ্ধ না বলে হত্যা বলে অভিহিত করছে। অনেক রোহিঙ্গা ডাকাতির গ্যাং গড়ে তুলেছে, অনেকে আবার পেশাদার খুনি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গত শনিবার রাতে টেকনাফে রোহিঙ্গাদের দুটি গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে অন্তত একজন নিহত এবং আরও একজন আহত হয়েছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন জানান, নয়াপাড়া এলাকায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। রোহিঙ্গাদের মধ্যে দুটি গ্রুপ সেখানে নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। গ্রুপ দুটির সদস্যরা ১৯৯২ সালের পরে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ গ্রুপ দুটির মধ্যে একটি ছলিম গ্রুপ এবং অপরটি জাকির গ্রুপ। এরা ক্যাম্পে বসবাস না করে পাহাড়ে লুকিয়ে থাকে। মাঝে মধ্যেই তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করে। উভয় গ্রুপ চেষ্টা করছে নতুন রোহিঙ্গাদের মাঝে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে। এ দুটি গ্রুপ ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় আছে। নবাগত রোহিঙ্গাদের নিজেদের আয়ত্তে রাখার জন্য উভয় গ্রুপ এখন তৎপরতা চালাচ্ছে। এই গ্রুপ দুটি ইয়াবা চোরাচালান, মানব পাচার এবং ডাকাতিসহ নানা অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, এসব রোহিঙ্গা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। কিন্তু মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মনে করে বন্দুকযুদ্ধ নয় বরং এসব রোহিঙ্গাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, রোহিঙ্গাদের গ্রুপগুলো ক্যাম্পের ভেতরে নানা অপরাধ করে গহীন পাহাড়ে লুকিয়ে থাকে। র‌্যাব হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পাহাড়ের ওপর টহল দিয়ে রোহিঙ্গা গ্রুপগুলোর অবস্থান জানার চেষ্টা করছে।