এবার দেশজুড়ে হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার

ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০ | ৪ মাঘ ১৪২৬

এবার দেশজুড়ে হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার

নিজস্ব প্রতিবেদক ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৯

print
এবার দেশজুড়ে হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার

বিভিন্ন খাদ্য ও ফলমূলে কার্বাইডসহ অন্যান্য ভয়াবহ কেমিক্যাল মেশানো রোধে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার স্থাপন করা হচ্ছে রাজধানীতে। এবার দেশের ৬৪টি জেলায় মোট ৭০টি ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এ-সংক্রান্ত একটি আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। খাদ্যমন্ত্রী ও কমিটির সদস্য সাধনচন্দ্র মজুমদার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ইউএসএইডের আর্থিক সহায়তায় এসব পরীক্ষাগার স্থাপন করা হচ্ছে। এতে ফলমূলে কার্বাইডসহ অন্যান্য কেমিক্যাল সম্পর্কে একটি মনিটরের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক তথ্য জানা সম্ভব হবে। এ সংক্রান্ত একটি আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে সবার আন্তরিক সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি। বৈঠকে অডিও রেকর্ড থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহান বলেন, কার্বাইডসহ অন্যান্য কেমিক্যাল দিয়ে ফলমূল পাকানোর ব্যাপারে অতি সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালত চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ফলমূল পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি জেলা পর্যায়ে জনবল বৃদ্ধির ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের যথাযথ ভূমিকা রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি অবহিত করেন।

তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তাপর্যায়ে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ১৮টি সংস্থার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ভারতসহ অন্যান্য দেশে খাদ্যসামগ্রী নিরাপদ করতে পারলেও বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায়- এ ব্যাপারে আরও কঠোর উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম।

তিনি বলেন, খাদ্যে ভেজালের কারণে সাধারণ জনগণ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তসহ বিভিন্ন রোগে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে সাধারণ জনগণের সমর্থন বৃদ্ধি পাবে। প্রয়োজনে জনসমর্থন বাড়ানোর ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে।

কমিটির সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু কৃষকের উৎপাদিত বোরো ধান যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও গুদামজাত সহজীকরণের লক্ষ্যে বরগুনাসহ দেশের যেসব স্থানে অটোরাইস মিল নেই, সেখানে অটোরাইস মিল স্থাপনের ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ ও সহযোগিতা কামনা করেন। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি আনুপাতিক হারে ধান-চাল ক্রয়ের ফলে দালাল এবং মধ্যসত্বভোগীদের হয়রানি থেকে পরিত্রাণ পাবে বলে তিনি জানান।

তিনি অঞ্চলভিত্তিক কৃষি সমবায় কেন্দ্র করা যায় কিনা- সেটি বিবেচনা করার ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব দেশের ৬৪টি জেলায় সর্বমোট ৭০টি ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়ায় মন্ত্রীসহ সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সুপারিশসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যান্য সংস্থা দ্বারা তদারকি জোরদার করার মাধ্যমে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের মেয়াদ এবং সময়সীমা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্যান্সারসহ নানা প্রকার জটিল রোগ থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করেন। তিনি মজুতবিরোধী আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক, মধ্যম এবং বড় কৃষকের আনুপাতিক হারে ধান ক্রয়ের ব্যাপারে সকলের উপস্থিতিতে লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে এবং কেউ যদি লটারিতে ধানের চাহিদা পায় সে ক্ষেত্রে কোনো স্লিপ বিক্রি করতে পারবে না, তাহলে সেটি মধ্যসত্বভোগীর নিকট চলে যাবে। চলতি বছর কৃষকদের কাছ থেকে ছয় লাখ টন ধান-চাল ক্রয় করা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে দাবি করেন তিনি। মাঠপর্যায়ে সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা-নজরদারি জোরদার করার ফলে কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্য দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, চালের বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে ২২টি মনিটরিং টিম গঠনের মাধ্যমে প্রতিদিন কোন মিলে কী পরিমাণ মজুত রয়েছে, তা সার্বক্ষণিক জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মনিটরিং করছে। তিনি একটি চক্রকে লবণের মতো চালের বাজার অস্থিতিশীল করার প্রক্রিয়া শুরুর সঙ্গে সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে বেশি মুনাফার সুযোগ যাতে না করতে পারে, সে ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল মজুত রয়েছে; এ ক্ষেত্রে চালের কোনো সংকট হবে না বলে তিনি জানান।