সিগারেট আমদানির লাইসেন্স প্রদান বন্ধের দাবি ২০ সংগঠনের

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সিগারেট আমদানির লাইসেন্স প্রদান বন্ধের দাবি ২০ সংগঠনের

নিজস্ব প্রতিবেদক ৩:৪৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০১৯

print
সিগারেট আমদানির লাইসেন্স প্রদান বন্ধের দাবি ২০ সংগঠনের

তামাক কোম্পানীকে সিগারেট আমদানীর লাইসেন্স (IRC) প্রদান বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে তামাক বিরোধী ২০টি সংগঠন। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বানিজ্য মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে এলায়েন্স ফর এফসিটিসি ইমপ্লিমেন্টেশন বাংলাদেশ (এএফআইবি) এবং বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটভুক্ত ২০টি সংগঠন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, সম্প্রতি জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল (ইউনাইটেড ঢাকা টোব্যাকো কোম্পানী লিঃ) বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের নিকট সিগারেট আমদানির জন্য বানিজ্যিক আইআরসি (Import Registration Certificate) প্রাপ্তির আবেদন করেছে। জাপান টোব্যাকোর এই আবেদন সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ পলিসি পরিপন্থি।

বানিজ্যিক আইআরসি পেলে তারা বিদেশী ব্র্যান্ডসমূহ সূলভ মূল্যে এই দেশে বিক্রি করবে এবং ভোক্তাগণ ধূমপানের দিকে আরো অধিক ঝুকে পড়বে। আমদানি লাইসেন্স প্রদান করা হলে তামাক কোম্পানীগুলো যে সুকৌশলে বৈধ পথে সামান্য কিছু সিগারেট আমদানি করে অবৈধ পথে চোরাচালানের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে বিদেশী সিগারেটের বিস্তার ঘটাবে। যা জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ও তামাক নিয়ন্ত্রণে এক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। অর্থাৎ সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ পলিসির বাস্তবায়নে বড় বাঁধার সৃষ্টি করবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তামাকের ব্যবহার সম্পূর্ণ রুপে নির্মূল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৫ সালের মধ্যে তামাকের ব্যবহার ২৫% কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছে। যেখানে বিশ্বনেতাদের সাথে একাত্বতা ঘোষনা করে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকার প্রতিনিয়ত তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে বদ্ধ পরিকর, সেখানে তামাক কোম্পানীগুলো তাদের মৃত্যুবিপনন কার্যক্রম চলমান রাখতে একের পর এক পদ্ধতি অবলম্বন করে আসছে।

তামাক কোম্পানীর এ সকল কুটকৌশল কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের বোর্ড অব ট্রাস্টি এম. রফিকুল ইসলাম মিলন, এলআরবি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা রাজিয়া শিলা, স্বদেশ মৃত্তিকা মানব উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান আকবর হোসেন, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইবনুল সাঈদ রানা, হোমস্টেড রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট এর নির্বাহী সদস্য অসিত রঞ্জন মজুমদার, হোমস্টেড রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট এর মহাসচিব ফারুক আহমেদ, মানবিকের তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, জনঅধিকার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সদস্য খাদিজা জাহান, স্বচ্ছ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুমন শেখ প্রমুখ। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন এএফআইবি সদস্য সংগঠন স্বজীব সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক আইনুল হক।

বিআরডিএস এর নির্বাহী পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম পিন্টু বলেন, দেশে ২০১৮ সালে তামাকজনিত রোগে প্রায় ১ লক্ষ ২৬ হাজার জনের অকাল মৃত্যু হয়েছে, যা এ সময়ে সকল মৃত্যুর ১৩.৫ শতাংশ। তামাকজনিত ব্যাধি ও অকাল মৃত্যুর কারনে বাংলাদেশে প্রতিবছর ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে যা বিগত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জাতীয় আয়ের (জিডিপি) ১.৪ শতাংশ। এই অকাল মৃত্যু রোধে আমাদের দেশে তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরী।

এতদসত্ত্বেও অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি যে, গত বছর দেশে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ আসে তামাক খাত থেকে। ২০১৮ সালে জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে আমাদের দেশে তাদের ব্যবসায়ীক কার্যক্রম শুরু করে যা কিনা আমাদের জনস্বাস্থ্যর জন্য একটি হুমকি। এই বিনিয়োগ বৈশ্বিক বিশে^ এটা প্রমান করবে যে বাংলাদেশে তামাক খাতে বিনিয়োগ করার অফুরন্ত সুযোগ রয়েছে এবং এর ফলে অন্যান্য আন্তর্জাতিক তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তামাক খাতে এ দেশে বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদান করবে।