মধ্যরাতে মন্ত্রীর আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মধ্যরাতে মন্ত্রীর আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০১৯

print
মধ্যরাতে মন্ত্রীর আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার

নতুন সড়ক পরিবহন আইন স্থগিতের দাবিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। নতুন সড়ক পরিবহন আইন আংশিক পরিবর্তনের বিবেচনার আশ্বাসে এ গণপরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।

বুধবার (২০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ধানমন্ডিস্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের নিজস্ব বাসভবনে দীর্ঘ ৪ ঘণ্টার রুদ্ধদার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তারা।

বৈঠক শেষে রাত ১২টা ৫০ মিনিটে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা ধর্মঘট প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা তাদের ৯ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা করেছি। লাইসেন্স, ফিটনেস সনদ আপডেটের জন্য তাদের ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। তারা আইন সংশোধনের যে দাবি জানিয়েছেন সেটা বিবেচনার জন্য সুপারিশ আকারে আমরা যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। তারা এগুলো বিবেচনা করে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করবে। এ আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়ে তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছে। বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চলাচল করবে।

দাবিগুলো সম্পর্কে মন্ত্রী আরও বলেন, যে লাইসেন্স দিয়ে তারা গাড়ি চালাচ্ছে সেগুলোর অনেকগুলো সঠিকভাবে বিআরটিএ সময়মতো দিতে পারেনি। অর্থাৎ বিভিন্ন ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন বা নবায়নের জন্য তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিআরটিএ নির্দিষ্ট সময়মতো তা দিতে পারেনি। ফলে তারা সঠিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছে। এক্ষেত্রে তাদের লাইসেন্সগুলো ঠিক করতে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আমরা তা মেনে নিয়েছি। এখন তারা বর্তমানে যে লাইসেন্স আছে সেগুলো দিয়ে গাড়ি চালাতে পারবে।

আবার অনেকে গাড়ির ফিটনেস হালনাগাদ করার জন্য নিয়মমাফিক কর প্রদান করেনি। ফলে তাদের কাছে ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই গাড়ির ফিটনেস থাকা সত্ত্বেও। তাদের ক্ষেত্রেও এ সমস্যা সমাধানে বা বিআরটিএর ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন করতে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। এ সময় পর্যন্ত তাদের যে ফিটনেস সার্টিফিকেট আছে সেগুলো দিয়ে গাড়ি চালাতে পারবে।

নতুন সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বুধবার থেকে ধর্মঘটের ডাক দেয় ট্রাক ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।

এদিকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও দুদিন ধরে বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখছিলেন চালকরা, যাতে রাজধানীর সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পরিবহন শ্রমিক-মালিক এরা উভয়ই এই আইনের সংশোধন করার জন্য আমাদের কাছে বলেছেন। কভার্ড ভ্যান মালিক-শ্রমিক এবং আন্তঃজেলা বাস শ্রমিকদের সাথে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তাদের ৯ দফা ছাড়াও আরও কিছু দাবি ছিল। যে দাবিগুলো সংগত মনে করা হয়েছে, সে ব্যাপারে কথা হয়েছে।

বাংলাদেশ ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক রুস্তম আলী খান বলেন, আমাদের সমস্যাগুলো শুনে দাবিগুলো নীতিগতভাবে তারা মেনে নিয়েছেন।

ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এখন কাগজপত্র ছাড়া কোনো গাড়ি রাস্তায় চলে না। তবে কিছু গাড়ির কাগজপত্র ঠিক নাই। সেগুলো বসে আছে। জরিমানার অঙ্ক বেশি হওয়ার কারণে অনেকেই হালনাগাদ করতে পারেনি। আমরা জরিমানা মওকুফের দাবি করেছি।

ট্রাক ড্রাইভার ইউনিয়নের সভাপতি মো. মনির জানান, ধর্মঘটের কোনো পরিকল্পনা তাদের ছিল না। কিন্তু কোনো আালোচনা না করেই সাধারণ শ্রমিকরা ধর্মঘট ডেকে বসে।

বৈঠকে বাস-ট্রাক কাভার্ডভ্যানসহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা, বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে পূর্বনির্ধারিত এই বৈঠকে যোগ দিতে রাত সাড়ে ৮টার পর থেকেই বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিক নেতারা মন্ত্রীর বাসভবনে আসতে শুরু করেন।

মঙ্গলবার ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ স্থগিত ও সংশোধনসহ ৯ দফা দাবি আদায়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

ট্রাক শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে সড়কে চলছিল হাতেগোনা কয়েকটি গণপরিবহন। এছাড়াও কয়েকটি সড়কে বাস থামিয়ে চালকদের কাছ থেকে চাবি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটিয়েছেন ট্রাকচালকরা।