ডিসেম্বরেই উৎপাদন শুরু

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ডিসেম্বরেই উৎপাদন শুরু

পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র

সৈয়দ ফয়সাল ১০:১১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০১৯

print
ডিসেম্বরেই উৎপাদন শুরু

দেশের প্রথম কয়লাভিত্তিক পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ প্রায় শেষের দিকে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নিশানবাড়িয়ায় ১০০২ একর জমিতে গড়ে ওঠা সরকারের অন্যতম বড় এ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। ২.৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এ মেগা প্রকল্প থেকে আগামি ডিসেম্বর মাসেই ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে উৎপাদনে আসার কথা ছিল। কিন্তু শ্রমিক অসন্তোষসহ নানা কারণে তা পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত চলতি বছরের অক্টোবরে এর উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য ধার্য করা হয়। কিন্তু স্থানীয়দের সঙ্গে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বড় রকমের দ্বন্দ্বের কারণে আবার তা ঝুলে যায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী মাসে (ডিসেম্বর) বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে যাবে। কয়েকদফা ডেডলাইন মিস করার পর ডিসেম্বরেই উৎপাদনের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ কঠোর তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় চলছে মহা কর্মযজ্ঞ। এখানে বর্তমানে চীনা ও বাংলাদেশি প্রায় সাড়ে নয় হাজার কর্মী আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কাজ করছেন। আগেই ইন্দোনেশিয়া থেকে এমভি জিংহাইটন নামের একটি কয়লাবাহী জাহাজ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটিতে কয়লা খালাস করেছে।

দ্বিতীয় ইউনিট আগামী বছর ২০২০ সালের জুন মাসে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। সে লক্ষ্যে এরই মধ্যে প্রকল্পের ইউনিট-১ ও ২ এর টারবাইন-জেনারেটর বসানোর কাজ ও সমস্ত সিভিল কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। বয়লার ইউনিট-১ এর হাইড্রোটেস্ট, ইন্সুলাশান ও প্রেসিপিটেটরের কাজও প্রায় শেষের দিকে।

বয়লার ইউনিট-২ এর কাজ চলমান, প্রকল্পের মালামাল লোড আনলোডের জন্য অনেক আগেই জেটির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ছাড়া সম্পন্ন করা হয়েছে ওয়াটার ইন্টেকের কাজ। কোল ডোম, কুলিং টাওয়ার, পানি পরিশোধন প্লান্ট, কনভেয়ার বেল্ট, প্লান্টারের বিভিন্ন মোটরের প্রি-কমিশন, ডিসিএস সিস্টেমের কমিশনিং এবং জিআইএসের শেষ দিকের কাজ চলমান রয়েছে।

নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি, বাংলাদেশ এবং ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি), চায়না যৌথভাবে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ ২০১৬ সাল থেকে শুরু করে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্র জানায়, কয়লাভিত্তিক এ প্রকল্পে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আনার জন্য কোরিয়ার একটি কোম্পানির মাধ্যমে ৪০০ কেভি এবং চীনের একটি কোম্পানির মাধ্যমে ২৩০ কেভির লাইন নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। এই প্লান্ট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎগোপালগঞ্জের সাবস্টেশনে যুক্ত হবে। সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

মেগা এ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থায়ন করছে চীনের এক্সিম ব্যাংক। ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট পায়রা বন্দরের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ প্রকল্প ম্যানেজার শহিদউল্লা ভুইয়া জানান, কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হলে সবাই উপকৃত হবে।

উৎপাদন শুরুর বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক শাহ মো. গোলাম মাওলা বলেন, ‘ এ বছরের ২৫ ডিসেম্বর প্রথম ইউনিট ৬৬০ মেগাওয়াট উৎপাদন করবে। এবং আগামী বছরের জুনের ভিতরে বাকি ৬৬০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হবে। আর এই প্রকল্পের পাশেই আরো একটি ১৩২০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্ট তৈরী হবে। ইতোমধ্যে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২২ সালে এটির কাজও শেষ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’