ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর শিগগির

ঢাকা, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর শিগগির

১২শ একর জমিতে প্রস্তুত বসতি

ডেস্ক রিপোর্ট ১০:৪১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

print
ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর শিগগির

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে পালিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের আসন্ন শীত মৌসুমের আগেই ভাসানচরে স্থানান্তর শুরু করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের জন্য ভাসানচর এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা থেকে প্রথমে এক লাখ সেখানে সরিয়ে নেওয়া হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শাহরিয়ার আলম বলেছেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল, এই বর্ষা মৌসুমের পরই তাদের নিয়ে যাওয়ার। বর্ষা শেষ হয়েছে, এখন শীতকাল শুরুর আগেই রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে আশা করি।

কর্মকর্তারা বলেছেন, ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজারের মতো তালিকাভুক্ত হয়েছেন। প্রায় ১২শ একর জমির ওপর ভাসানচরকে পুরোপুরি বসবাসের উপযোগী করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, ভাসানচরের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের একটি পূর্ণাঙ্গ থানা স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। নোয়াখালী জেলার অন্তর্ভুক্ত এই চরে স্থানান্তরের ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের আপত্তি ছিল। কিন্তু সরকার তাদের বুঝিয়ে রাজি করানোর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছিল।

এখন ভাসানচরে পাঠানোর জন্য রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দুটি টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘ভাসানচর প্রস্তুত’।

শাহরিয়ার আলম বিবিসিকে জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন তারা। যত দ্রুততার সঙ্গে সম্ভব এটা করা হবে। জাতিসংঘের কর্তাব্যক্তিরা চার মাস আগে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। তখন তাদের কাছেও প্রধানমন্ত্রী তার পরিকল্পনা পরিস্কারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

এদিকে ইউএনএইচসিআরের কর্মকর্তা লুইস ডনোভান বলেছেন, ‘জাতিসংঘ সব সময় বলে আসছে, এই স্থানান্তর স্বেচ্ছায় হতে হবে। জায়গাটি বসবাসের উপযোগী কিনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কী- এ বিষয়ে সরকার রোহিঙ্গাদের বিস্তারিত জানাবে বলে আশা করি।’

তবে রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহ বলেন, আগে আমাদের ভাসানচরে নিয়ে গিয়ে সেখানকার পরিবেশ দেখাতে হবে, তাহলে মানুষের বিশ্বাস হবে। চোখে না দেখলে এবং বিশ্বাস না হলে মানুষ কীভাবে সেখানে যাবে?