গুজবের নৃশংসতা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬

গুজবের নৃশংসতা

এভাবে আর কত

শফিক হাসান ১১:১৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯

print
গুজবের নৃশংসতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে নৃশংস তাণ্ডব চালানোর অপসংস্কৃতির সর্বশেষ নজির স্থাপিত হয়েছে ভোলার বোরহানউদ্দিনে। সেখানকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তরুণ বিপ্লবের ফেসবুক আইডি হ্যাক করেন তারই পরিচিত তিন ব্যক্তি। আইডি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তারা টাকা দাবি করে। বিপ্লব তাতে সম্মত না হয়ে বিষয়টি থানায় অবহিত করে। ঘটনার ধারাবাহিকতায় হ্যাক করা ব্যক্তিরা বিপ্লবের ফেসবুক বন্ধুদের মেসেঞ্জারে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

এসব মন্তব্যের স্ক্রিনশট নিয়ে সংশ্লিষ্টরা পোস্ট করেন। পরে তা ভাইরাল হলে সাধারণ মানুষ ফুঁসে উঠে বিপ্লবের বিরুদ্ধে। থানা থেকেই আপস রফার চেষ্টা করা হলেও একটি শ্রেণি বিপ্লবের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। একপর্যায়ে ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে প্রতিবাদে রাস্তায় নামে আরেক পক্ষ।

গত রোববার রাতে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয় পুলিশ সদর দফতর। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ জনগণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়, গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট না করার জন্য। কোনো অবস্থাতেই যেন ধর্মীয় উপাসনালয়ে আক্রমণ করা না হয়। ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত শুক্রবার নিজ ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য (২৫) ওরফে শুভ রাত ৮টা ৫ মিনিটে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানায় জিডি করেন।

জিডি করার সময় থানায় অবস্থানের সময়েই তার নম্বরে কল আসে এবং তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। বিষয়টি ভোলার পুলিশ সুপারকে জানান। প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সেদিন রাতের মধ্যেই শুভ’র ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাককারী ও তার ফোনে কলকারী শরিফ এবং ইমন নামে দুই মুসলিম যুবককে পটুয়াখালী এবং বোরহানউদ্দিন থেকে আটক করে পুলিশ। এরই মধ্যে শুভ’র আইডি থেকে দেওয়া কথিত ‘কমেন্টের’ জেরে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা উত্তেজিত হয়ে তার ফাঁসি দাবি করেন।

একপর্যায়ে ‘আপত্তিকর পোস্ট’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মারা যান এক মাদ্রাসাছাত্রসহ চারজন। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৫ হাজার অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ। কটূক্তির ঘটনায় বিপ্লব চন্দ্র শুভ, শাকিব ও লিমনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেওয়া হয়। তাদের ভোলা কোর্টে পাঠানো হয়েছে।

ফেসবুক পোস্ট সৃষ্ট গুজবে হামলার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, রংপুরের পাগলাপীরসহ কয়েকটি জায়গায় হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় সম্পদহানিসহ প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। প্রায় সব গুজবেরই প্রায় অভিন্ন একটি চরিত্র ছিল- যার কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই, থাকলেও ফেসবুকে সক্রিয় নন, ফটোশপে ছবি বানানোর ক্ষমতা নেই তাদেরই করা হয়েছিল হামলার লক্ষ্যবস্তু। নেপথ্যে ছিল ব্যক্তিগত কিংবা সমষ্টিগত প্রতিশোধস্পৃহা, সম্পদলিপ্সাসহ নানা হিসাবনিকাশ।

এ নৃশংসতা রোধে করণীয় কী এ বিষয়ে গতকাল সোমবার খোলা কাগজে মতামত জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং লেখক-বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ। মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ভোলায় সংঘটিত ঘটনাটি দুঃখজনক। ফেসবুক বড় একটি প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রযুক্তি এমনভাবে কাজ করে- কোন লোক কখন কার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করবে অথবা নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে অপপ্রচার, গুজব ছড়াবে এটা শনাক্ত করা যাবে না। অপ্রত্যাশিত এই অবস্থা থেকে বেরোনোর সহজসাধ্য পন্থা নেই।’

এই তথ্যপ্রযুক্তিবিদ আরও বলেন, ‘যখন কোনো ঘটনা ঘটে সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের যতটুকু সময় লাগে, মধ্যবর্তী সময়টুকুই সর্বনাশ করার জন্য যথেষ্ট। আমরা চেষ্টা করছি, প্রযুক্তিগত বিষয়টি মোকাবিলার পাল্টা প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেরা প্রতিরোধ করতে পারব। তবে মূল বিষয় হচ্ছে- সচেতনতা। মানুষের মধ্যে যদি সচেতনতা না জন্মায়, তাহলে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় নেই।’

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘কোথাও কোনো কমেন্ট দেখেই যদি কেউ যাচাই-বাছাই না করেই এটি বিশ্বাস করা শুরু করে দেয় তাহলে সেটার পরিণতি তো ভয়ংকর হবেই! সাঈদিকে চাঁদে দেখা কিংবা পদ্মা সেতুর জন্য কল্লা লাগবে; নাসিরনগরে, রামুতে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে এগুলো একধরনের মুর্খতা, ধর্মান্ধতা ও উগ্রতা। নেপথ্যে একটি গোষ্ঠী কাজ করে যারা মানুষের সরলতা ও নির্বুদ্ধিতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। সরকার চেষ্টা করছে, গুজব মোকাবিলার প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সংগ্রহের। পাশাপাশি সচেতনতাও তৈরি করা জরুরি।

সাম্প্রতিক একটি ‘গুজবের’ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ফেসবুকে গতকাল (রোববার) থেকে দেখছি, ব্যারিস্টার তাপসকে যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়েছে। কোথাও কিন্তু খবরটি আমি দেখিনি! মানুষ যদি কেউ স্ট্যাটাস দিলেই সেটাকে বিশ্বাস করে, সেটা প্রতিরোধ করা যাবে কীভাবে? ৫ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে কীভাবে নজরে রাখবে সরকার। ৫ কোটি লোকের ৫ কোটি মন্তব্যে তারা সত্য বলতে পারেন, মিথ্যাও বলতে পারেন। গুজবও ছড়াতে পারেন। এটা প্রতিরোধ করা অসম্ভব।’

লেখক-বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘সমাজবিরোধী মানুষের প্রযুক্তির অপব্যবহারে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পাঁয়তারায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তবে ভোলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও সংযত থাকা উচিত ছিল। প্রশাসনের আরও দায়িত্বশীলতা ছিল বাঞ্ছনীয়। এই ধরনের ঘটনা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। দায়ী ব্যক্তিসহ এই ধরনের ষড়যন্ত্রের পেছনের ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি করতে হবে।’

এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামিস্ট আরও বলেন, ‘ভোলায় গুজবের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ পরিবারের মানুষ। বিষয়টি হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতির নেতৃত্বে নিরপেক্ষ কমিটি করে নেপথ্যের ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। দেশের ভাবমূর্তির জন্য এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব ষড়যন্ত্র বন্ধে সবারই সতর্ক থাকা উচিত।’

এই বিষয়ে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ভোলার ঘটনায় কে আসল অপরাধী বা আসল ফেসবুক আইডি তা শনাক্ত করতে সিঙ্গাপুরে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তদন্ত চলছে, দুই-এক দিনের মধ্যে বিস্তারিত জানা যাবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পর্যন্ত দেশে কোনো গুজবেরই সঠিক তদন্ত পরবর্তী বিচার হয়নি। যে কারণে দায়ী ও উসকানিদাতারা থেকে গেছে আড়ালেই। সাজা দেওয়ার নজির নেই বললেই চলে। নেপথ্যে স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনসহ নানাভাবেই ‘রচিত’ হয়ে আসছে এসব গুজব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারে নীতিমালা ও সুষ্ঠু ব্যবহারই হতে পারে সমাধান। পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচারিক সাজা নিশ্চিতের বিষয় উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধদের বাড়িঘর ও বৌদ্ধবিহারে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছিল বাংলাদেশকে। ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর সংঘটিত হয়েছিল রামুর আদলে আরেকটি তাণ্ডব। অভিযোগ তোলা হয়, মুসলমানদের কাবাঘরের সঙ্গে হিন্দুদের দেবতা শিবের একটি ছবি জুড়ে দেন মৎস্যজীবী রসরাজ। এ ঘটনায় তাকে পিটিয়ে পুলিশে দেওয়ার পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ৩০০ বাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

২০১৭ সালের নভেম্বরে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ফেসবুক থেকে ছড়ানো গুজবের জের ধরে একজনের মৃত্যু হয়। অভিযোগ করা হয়, হিন্দু তরুণ টিটু রায়ের ফেসবুক থেকে নবীকে অবমাননা করা হয়েছিল।

চলতি বছরের জুনে ঈদের নামাজের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটে সিলেটের ওসমানীনগরে। সনাতন ধর্মের এক নারীর মৃত্যুর পর সৎকার নিয়ে হিন্দু ও মুসলিমদের কয়েক ব্যক্তির মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে হামলা চালানো হয় কয়েকটি বাড়িতে।

ফেসবুককে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে আরও অনেক অপরাধ। অন্তত এক বছর পরপর সংঘটিত হচ্ছে নৃশংস তাণ্ডব। এ এক অনিঃশেষ গল্প, কেউ জানে না কবে মুড়োবে নটেগাছটি!

থমথমে ভোলা, মামলায় আসামি ৫০০০
ভোলার বোরহানউদ্দিনে এক তরুণের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ‘ধর্ম অবমাননাকর’ বক্তব্য ছড়ানোর পর সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ হাজার লোককে আসামি করে মামলা হয়েছে। গত পরশুর ওই সহিংসতায় পুরো জেলাতেই থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো সমাবেশ বা মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ দিকে নবীকে নিয়ে ‘কটূক্তিকারীর’ ফাঁসি, পুলিশ কর্মকর্তাদের অব্যাহতিসহ ৬ দফা দাবি পূরণের জন্য প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ভোলার ‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ’।

এর আগে, গত পরশু ভোলার বোরহানউদ্দিনে ‘তৌহিদি জনতার’ ব্যানারে এক সমাবেশ শেষে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। পুলিশসহ আহত হন দেড় শতাধিক। সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশের দিকে গুলিও ছোড়া হয়; তাতে একজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষে যে চারজন নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে দুজনের মাথা ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে থেঁতলানো ছিল বলে চিকিৎসকের বরাতে জানিয়েছে পুলিশ সদরদফতর।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার সকালে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল ‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ’।

প্রশাসন অনুমতি না দেওয়ায় তারা সংবাদ সম্মেলন করে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভোলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক জেলা ‘ঈমান আক্বিদা সংরক্ষণ কমিটির’ সভাপতি মাওলানা বশির উদ্দিন বলেন, ‘ভোলার নেতা তোফায়েল আহমেদ এমপি ও ডিসি মহোদয়ের অনুরোধে আমাদের সমাবেশ স্থগিত করেছি। তবে আমরা ৬ দফা দাবি দিয়েছি, তা আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দেব।’

সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি পড়ে শোনান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান। দাবিগুলো হলো, যে যুবকের ফেসবুক আইডি থেকে ‘অবমাননাকর’ বক্তব্য এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তার ফাঁসি কার্যকর, সংঘর্ষে নিহতদের লাশ বিনা ময়নাতদন্তে পরিবারের কাছে হস্তান্তর, আহতদের সরকারি খরচে চিকিৎসা, ভোলার পুলিশ সুপার ও বোরহানউদ্দিনের ওসিকে প্রত্যাহার, নিহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও গ্রেফতারদের বিনা শর্তে মুক্তি দেওয়া।

ঐক্য পরিষদের এই সংবাদ সম্মেলনের পর জেলা সার্কিট হাউসে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের নেতাদের দাবিগুলো দেখার জন্য আমাদের নির্দিষ্ট বিভাগ আছে। ফেসবুক আইডি হ্যাক করার বিষয়টি ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশের বিশেষজ্ঞ টিম ফেসবুকের সঙ্গে আলোচনা করবে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’

এ দিকে রোববারের সহিংসতার পর আশপাশের জেলা থেকে বাড়তি পুলিশ আনা হয় বোরহানউদ্দিনে। হেলিকপ্টারে করে মোতায়েন করা হয় চার প্লাটুন বিজিবি। বোরহানউদ্দিন থানার ওসি এনামুল হক বলেন, সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা, বিশৃঙ্খলার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় চার থেকে পাঁচ হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে সেখানে।

ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, কেউ যেন প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের সভা সমাবেশ বা মিছিল না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।