বন্ধ হয়নি ইলিশ ধরা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বন্ধ হয়নি ইলিশ ধরা

ডেস্ক রিপোর্ট ৭:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯

print
বন্ধ হয়নি ইলিশ ধরা

উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ শিকার, মজুদ ও বাজারজাতকরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য অধিদফতর। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরলে জেল জরিমানারও বিধান রয়েছে। অবশ্য এ সময়টাতে জেলেদের সহায়তা দিচ্ছে সরকার। তারপরও থেমে নেই ইলিশ শিকার। রাতের আঁধারে এক শ্রেণীর জেলে নদীতে ইলিশ ধরছে নির্বিঘ্নে।

সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে যমুনা নদীর প্রায় ১৯ কিলোমিটার এলাকায় চলছে ইলিশ শিকার। নদীপাড়ের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধির কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ শিকার। পরে বেচাকেনার জন্য প্রায় ১২টি পয়েন্টে যমুনার চরে বসছে ভ্রাম্যমাণ বাজার। রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এসব বাজারে সবচেয়ে বেশি ইলিশ বেচাকেনা হয়।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তি অনৈতিক সুবিধা নিয়ে যমুনা নদীর খাষকাউলিয়া, খাষপুখুরিয়া, ঘোড়জান, উমারপুর, বাঘুটিয়া, বোয়ালকান্দি, নওহাটা, দত্তকান্দি, দক্ষিণ খাষকাউলিয়া, বিনানুই, আজিমুদ্দির মোড়, খগেন ঘাট, ভুতের মোড়, জনতা স্কুলের পশ্চিমে ও চরছলিমাবাদ এলাকায় জেলেদের মা ইলিশ ধরতে সহায়তা করছেন।

এসব ইলিশ নদী পাড়ের প্রায় ১২টি পয়েন্টে বিভিন্ন সময়ে বেচাকেনা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা আসছেন এখানে। তারা কম দামে ডিমওয়ালা ইলিশ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

খাষপুখুরিয়ার এক জেলে জানান, তারা নির্বিঘ্নে ইলিশ ধরার জন্য একজন জনপ্রতিনিধিকে নৌকা প্রতি তিন হাজার টাকা করে দিয়েছেন। এভাবে ৫০টি নৌকা থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। থানা পুলিশ ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করার দায়িত্ব নিয়েছেন ওই জনপ্রতিনিধি।

এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান জানান, মৎস্য অফিসের কেউ অনৈতিক সুবিধার সঙ্গে জড়িত না। আমরা অভিযানে ব্যস্ত আছি, অন্য কেউ আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকলে আমাদের কিছু করার নেই।

এদিকে, রাজশাহীর বাঘায় গত ১১ দিনে ১২টি অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা মৎস্য অধিদফতর। অভিযানে দুই জেলের জরিমানাসহ ৪৫ হাজার মিটার জাল এবং ৫০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। গতকাল রোববার এসব জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ৯ তারিখ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত নদীতে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। তারপরও এক শ্রেনীর অসাধু জেলেরা গোপনে মাছ ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে মাছ শিকার প্রতিরোধে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা ও মৎস্য কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম পদ্মায় নিয়োমিত অভিযান পরিচালনা করছেন।

অন্যদিকে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাবনার বেড়া উপজেলার সীমানা সংলগ্ন যমুনা নদীতে মা ইলিশ ধরার ধুম পড়েছে। নদীর তীরবর্তী এলাকাসমূহের লোকজন জানান, উপজেলার পেচাকোলা, নাকালিয়া, হরিরামপুর, চর নাকালিয়া, চর সাঁড়াশিয়া, চর নাগদাহ, হাটাইল আড়ালিয়া, নগরবাড়ি, ঢালার চর ও কাজীর হাট এলাকার যমুনা নদীতে দিন-রাতে শত শত নৌকা নিয়ে এক শ্রেণির অসৎ মৎস্যজীবী মা ইলিশ ধরছে।

স্থানীয়রা জানান, মৎস্য অফিস থেকে অভিযান চালালেও মাছ ধরা থামছে না। প্রতিদিনই অসংখ্য নৌকা নিয়ে মা ইলিশ শিকার করা হচ্ছে। পরে এসব মাছ ৩০০-৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে। দেশের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে নদীর তীরবর্তী এসব এলাকার আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে আসছে শুধু মাছ কেনার জন্য। গোপনে মাছ কিনে ওষুধ কোম্পানির গাড়িসহ বিভিন্ন বাহনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছেন। আবার অনেইে দূর-দূরান্তে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে মাছ পৌঁছে দিচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনের এ অভিযানে মাছ, জালসহ ধরপাকড়, অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দিলেও মাছ ধরা থেমে নেই।

এছাড়া সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রোববার পটুয়াখালীর বাউফলে ইলিশ শিকারের অপরাধে কবির বিশ্বাস (৩২), হাসান খা (৪৬) ও জুয়েল খান (৪২) নামে তিন জনকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। তেঁতুলিয়া নদীর মমিনপুর লালচর পয়েন্টে ইলিশ শিকারের সময় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক ও বিপুল পরিমান কারেন্টজালসহ ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়।