শেখ রাসেলের জন্মদিন আজ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০ | ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

শেখ রাসেলের জন্মদিন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৯

print
শেখ রাসেলের জন্মদিন আজ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শহীদ শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মদিন আজ শুক্রবার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই শেখ রাসেল ১৯৬৪ সালের এই দিনে ধানমণ্ডির ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মানবতার শত্রু ঘৃণ্য ঘাতকদের নির্মম বুলেট থেকে রক্ষা পাননি শিশু শেখ রাসেল। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ঘাতকরা নির্মমভাবে তাকেও হত্যা করেছিল। ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন রাসেল।

জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগ আজ সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্টে নিহত শহীদদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল এক বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি যথাযোগ্যভাবে পালন করার জন্য দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি অনুরোধ জানান।

‘হৃদয়মাঝে শেখ রাসেল’ স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন
এ দিকে শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মদিন উপলক্ষে একটি স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে ‘হৃদয়মাঝে শেখ রাসেল’ নামের এই স্মারক গ্রন্থের মোড়ক খোলেন তিনি।

‘হৃদয়মাঝে শেখ রাসেল’ সচিত্র গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে জয়ীতা প্রকাশনী। ৯২ পৃষ্ঠার বইটিতে স্থান পেয়েছে শখানেক আলোকচিত্র, যার মধ্যে অনেকগুলোই দুর্লভ। বইটিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার পাশাপাশি কথাশিল্পী রশিদ হায়দারের একটি লেখা রয়েছে।

শিশু একাডেমিতে অনুষ্ঠান কাল
এ দিকে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আগামীকাল বাংলাদেশ শিশু একাডেমি বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান লাকী ইনাম বলেন, বেঁচে থাকলে শেখ রাসেলের বয়স হতো ৫৫। প্রায়ই ভাবি, যারা এই হত্যাকা-টি ঘটিয়েছে তারা তো শেখ রাসেলকে মুক্তি দিলেও পারত। কিন্তু তাকে খুন করতে পাষ-দের হাত কাঁপেনি।

তিনি জানান, শেখ রাসেলের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি আমরা। বিশেষ করে বাচ্চাদের ছবি আঁকার আয়োজন করেছি, সবাই শেখ রাসেলের ছবি আঁকবে। আঁকা শেষে ক্ষুদে আঁকিয়েদের পুরস্কার দেওয়া হবে। এরপর শেখ রাসেলকে যেখানে সমাহিত করা হয়েছে, বনানী কবরস্থান, সেখানে একাডেমির বাসে শিশুরা যাবে এবং ফুল দেবে।

লাকী ইনাম বলেন, গত নয় তারিখে প্রধানমন্ত্রী শিশু একাডেমিতে এসেছিলেন। উদ্বোধন করেছেন শেখ রাসেল গ্যালারি। বাবার কোলে, মায়ের কোলে কিংবা বাবার হাত ধরে কোথাও যাওয়া, শেখ রাসেলের এমন নানাবিধ ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে ওখানে।

শিশু একাডেমি থেকে একটা বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি আমরা। শেখ রাসেলের ওপর একটা প্রামাণ্যচিত্র বানানো হবে। ছবি তো অনেক আছে কিন্তু একটা ডকুমেন্টারি বানিয়ে সেটা শিশুদের দেখানো হবে।

আমি মনে করি, শিশু রাসেলকে বারবার স্মরণ করা উচিত, যেন এর মধ্য দিয়ে আমরা একটা আলোকিত সমাজ গড়তে পারি, যে সমাজে শিশুরা ফুলের মতো ফুটবে, তাদের গায়ে কেউ একটা আঁচড়ও দেবে না।