ছাত্ররাজনীতি বন্ধের পক্ষে না, বুয়েট চাইলে করুক

ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

ছাত্ররাজনীতি বন্ধের পক্ষে না, বুয়েট চাইলে করুক

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৪২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

print
ছাত্ররাজনীতি বন্ধের পক্ষে না, বুয়েট চাইলে করুক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বুয়েট যদি মনে করে, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে দিতে পারে; এটা তাদের ব্যাপার। তবে ছাত্ররাজনীতি পুরোপুরি বন্ধের বিপক্ষে মত দেন তিনি। বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের জেরে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সাম্প্রতিক ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ৩টায় গণভবনে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সেখানে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন, আবরার হত্যাকা-ের জেরে ওঠা আট দফার দাবির একটি হলো ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য জানতে চান তিনি। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্ররাজনীতি পুরো নিষিদ্ধের কথা তো মিলিটারি ডিক্টেটরের কথা। তারাই এসে এটা নিষিদ্ধ করে, সেটা নিষিদ্ধ করে। এ সময় তিনি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ছাত্রলীগ সব সময় একটি স্বাধীন স্বতন্ত্র সংগঠন ছিল। তবে নীতি-আদর্শের প্রশ্নে মূল দল তো কিছু দিকনির্দেশনা দেবেই। জিয়াউর রহমান আসার পর নষ্ট রাজনীতি শুরু হয়েছে, যেটা করছিলেন আইয়ুব খান। ছাত্র সংগঠনগুলোকে মূল দলের অঙ্গসংগঠন করা হয়। শেখ হাসিনা বলেন, নেতৃত্ব উঠে এসেছে ছাত্র নেতৃত্ব থেকে। রাজনীতি শিক্ষার ব্যাপার, ট্রেনিংয়ের ব্যাপার। আমি নিজেই ছাত্ররাজনীতি করে এসেছি। দেশের ভালো-মন্দের চিন্তা তখন থেকেই আমার তৈরি হয়েছে। এ জন্য তিনি দেশের মানুষের ভালোমন্দ দেখতে পারছেন বলেও মন্তব্য করেন। তবে একটা ঘটনার (আবরার হত্যাকাণ্ড) কারণে পুরো ছাত্ররাজনীতিকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না।

কে ছাত্রলীগ জানি না, অপরাধী অপরাধীই
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কেউ যদি কোনো অপরাধ করে, সে কোন দল করে, কী করে, তা আমি দেখি না। অপরাধী অপরাধীই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তো বলেছি, ঘটনা সঙ্গে জড়িত কে কোথায় আছে সব কয়টাকে গ্রেফতার করতে। একটা বাচ্চা ছেলে, ২১ বছর বয়স। তাকে হত্যা করা হলো। মারা হলো পিটিয়ে পিটিয়ে। কী অমানবিক। পোস্টমর্টেম রিপোর্টটা দেখেছি। সব ইনজুরি ভেতরে। তিনি বলেন, একটা কথা আমার মাথায় এলো। ২০০১ সালে আমাদের নেতাকর্মীদের এভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মারা হতো এমনভাবে যাতে বাইরে থেকে বোঝা যেত না। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ পর্যন্ত কত হত্যা হয়েছে। ছাত্রদল বুয়েটে টেন্ডারবাজি করতে গিয়ে সনিকে হত্যা করেছে। ওই বুয়েটে আমাদের কত নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমরা কারও কাছে বিচার পেয়েছি? ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমি চেষ্টা করেছি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে তারা আমার পার্টির এটা আমি কখনই মেনে নেব না। আমি সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগকে ডেকেছি। তাদের বহিষ্কার করতে বলেছি, পুলিশকে বলেছি অ্যারেস্ট করতে। ছাত্ররাজনীতিতে, এই বুয়েটে আমাদের অনেক নেতাকর্মীকেও তো হত্যা করা হয়েছে। কেউ কোনো দিন বলেছে, কেউ অ্যারেস্ট হয়েছে? এটা করা হয়নি।

ফুটেজ সংগ্রহে বাধা দিল কারা?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুয়েটের ঘটনা খুব সকালে জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলাম আলামত সংগ্রহ করার জন্য। সঙ্গে সঙ্গে এটাও বলেছিলাম যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে। তারা সেখানে পৌঁছে যায়। আলামত সংগ্রহ করে এবং সিসিটিভি ফুটেজগুলো দীর্ঘসময় ধরে সংগ্রহ করে। যখন পুলিশ সিসি ক্যামেরা থেকে ফুটেজ হার্ডডিস্কে নিয়ে আসছে তখন তাদের ঘেরাও করা হলো। তাদের ফুটেজ নিয়ে আসতে দেওয়া হবে না। আইজিপি যোগাযোগ করল, বলল, আমাদের লোকদের আটকে রেখে দিয়েছে। আলামত নিয়ে আসতে দিচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফুটেজগুলো আনতে দেবে না কেন? তারা বলছে, ফুটেজগুলো পুলিশ নষ্ট করবে। আমি আইজিকে বললাম, বলা যায় না এর মধ্যে কী যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারা আছে? ফুটেজ পেলে পরে তারা ধরা পড়ে যাবে এ জন্য তারা পরবর্তীতে এই ফুটেজগুলো সংগ্রহ করে এবং একটা কপি কর্তৃপক্ষকে দিয়ে আসে। সেগুলো দেখে আইডেন্টিফাই করা দরকার ছিল, যেটা করা হচ্ছে এখন।

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাঁড়াশি অভিযান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হলে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নামমাত্র টাকা ভাড়া দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা ও আবাসিক হলে কারা থাকছে, কারা মাস্তানি করছে তা খতিয়ে দেখা হবে।

কেউ পানি পান করতে চাইলে না দিলে কেমন হয়?
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কেউ যদি পানি পান করতে চায়; তাকে যদি না দিই সেটা কেমন হয়? বিএনপি নেতাদের কাছে আমার প্রশ্ন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে ভারত গেলেন অথবা খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়ে ভারত গিয়েছেন তারা কি গঙ্গা চুক্তি করতে পেরেছিলেন? উল্টো যখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন, গঙ্গা নদী নিয়ে তখন বলেছিলেন, আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম। যারা নিজ দেশের স্বার্থ ভুলে যায় তাদের মুখে এসব কথা কতটা মানায়?

তিস্তা ও এনআরসি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে। তিস্তা ছাড়াও আরও সাতটি নদী নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আসামের এনআরসি নিয়ে অসুবিধা হয়নি। এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে আমি আসামের এনআরসি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত অসুবিধা হয়নি, আর হওয়ারও কথা নয়। তাহলে যেখানে অসুবিধাই হয়নি সেখানে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু দেখি না।

গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি
ভারতে এলপিজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) রপ্তানি সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজ যারা বলছে, গ্যাস বিক্রি করে দিচ্ছে, বিক্রি করে দিচ্ছে, তারাই কিন্তু গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেছিল। আমরা সব সময় আমাদের নিজেদের দেশের স্বার্থটাই দেখছি। আমরা এলপিজি উৎপাদন করি না, আমরা আমদানি করা গ্যাস থেকে তাদের দিচ্ছি। আমরা যে গ্যাস ত্রিপুরায় দিচ্ছি সেটা বটল গ্যাস (বোতলজাত গ্যাস)।’

ক্যাসিনো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাস্যরস
ক্যাসিনো বা জুয়ার জন্য দেশের একটি জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়ার কথা হাসতে হাসতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক্ষেত্রে তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য নির্ধারিত নোয়াখালীর ভাসানচরের এক পাশে জুয়াড়িদের জন্য একটি জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার কথা বলেন। ক্যাসিনো ও জুয়ার জন্য প্রয়োজনে নীতিমালা তৈরি করে লাইসেন্স দেওয়া হবে, তাতে রাজস্ব বাড়বে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভ্যাস যদি বদভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়, এই বদভ্যাস যাবে না। তার চেয়ে এটা করলে আমরা (সরকার) টাকা পাব।