প্রস্তুতি নিচ্ছে সাভার চামড়া শিল্পনগরী

ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯ | ১ কার্তিক ১৪২৬

প্রস্তুতি নিচ্ছে সাভার চামড়া শিল্পনগরী

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

print
প্রস্তুতি নিচ্ছে সাভার চামড়া শিল্পনগরী

লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সাভার চামড়া শিল্পনগরী। শিল্প মন্ত্রণালয় আশা করছে, আগামী বছরের শুরুর দিকে চামড়া শিল্পের জন্য বাংলাদেশ এলডব্লিউজি সনদ অর্জনে সক্ষম হবে। সাভার (ঢাকা) চামড়া শিল্প নগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারসহ (সিইটিপি) এ প্রকল্পের সার্বিক বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এ কথা জানানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার সাভার চামড়া শিল্পনগরীর সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

এ সভায় সে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সাভার (ঢাকা) চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারসহ (সিইটিপি) অন্যান্য সব কাজ সম্পন্ন হবে। এ শিল্পনগরীর সব কাজ শেষ করার পর লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জনের লক্ষ্যে নিরীক্ষার আমন্ত্রণ জানানো হবে।

তিনি আরও বলেন, যেভাবে চামড়া শিল্প নগরীর কাজ এগোচ্ছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা যদি এলডব্লিউজি সনদটা পেয়ে যাই, তাহলে আমাদের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে যে সমস্যা হচ্ছে সে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এবং আমরা তখন আশা করি আমাদের এ খাত থেকে বড় ধরনের রপ্তানি করতে পারব। এসব ব্যাপারে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি এবং এটা রিভিউ করার জন্য আমরা আবার মন্ত্রীর নেতৃত্বে ছয় সপ্তাহ পরে এসে সরেজমিনে দেখব সিদ্ধান্তগুলো কতদূর বাস্তবায়িত হয়েছে। আমি মনে করি, আমরা ঠিক পথেই আছি এবং আমরা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সনদটা পাওয়ার পথে অনেক দূর এগিয়ে যাব। এ ছাড়াও সভায় চামড়া শিল্পনগরীর উন্নয়ন কাজের সর্বশেষ অবস্থা বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হয়। এ সময় জানানো হয়, ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) কাজ শতকরা ৯৮ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সিইটিপির চারটি মডিউল চালু রয়েছে এবং এগুলো বর্জ্য পরিশোধনের কাজ করছে।

সভায় উল্লেখ করা হয়, সিইটিপির কার্যক্রম শতভাগ সম্পন্ন করার জন্য যন্ত্রপাতিসহ আমদানিযোগ্য মালামাল ইতিমধ্যে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে এগুলো স্থাপনের কাজ চলছে। সিইটিপির ডি-ওয়াটারিং হাউসের নয়টি ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইউনিটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ছয়টি ইউনিটের কাজ ২৫ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে।

সভায় আরও জানানো হয়, সিইটিপির ক্রোম সেপারেশনের লক্ষ্যে অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সিইটিপিতে স্থাপিত সাতটি জেনারেটরের সবক’টি সচল রয়েছে এবং সব পাম্প চালু আছে। এর সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরি ও অটোমেশনের কাজ নভেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে। একই সঙ্গে এ শিল্প নগরীতে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ২টি ডাম্পিং ইয়ার্ড স্থাপনের লক্ষ্যে ড্রয়িং ও ডিজাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি নির্মাণের জন্য আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হবে। এছাড়া, সিইটিপির অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

সভায় এলডব্লিউজি সনদ অর্জনের লক্ষ্যে এখন থেকে অডিট পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ অডিটের ফলাফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন সূচকে ধারাবাহিক গুণগত পরিবর্তনের জন্য সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এতে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বাই-প্রোডাক্ট উৎপাদনকারীদের অনুকূলে জায়গা বরাদ্দ দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে যেসব প্লটে এখনও ট্যানারি কারখানা স্থাপন করা হয়নি, সেগুলোর বরাদ্দ বাতিল করে বাই-প্রোডাক্ট উৎপাদনকারীদের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। সভায় শিল্পমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প-কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

সালমান ফজলুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি চামড়া শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যেকোনো মূল্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। যারা শিল্পনগরীতে প্লট বরাদ্দ নিয়ে কারখানা স্থাপন করেননি, তাদের প্লট বরাদ্দ বাতিল করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সিইটিপি অবশ্যই এলডব্লিউজি স্ট্যান্ডার্ড হতে হবে। এলডব্লিউজি সার্টিফিকেট পেতে যে যে প্যারামিটার্স মিট করতে হয় তা আমরা করব। যখন হাজারীবাগে ট্যানারিগুলো ছিল তখন সলিড ওয়েস্ট কোনো সমস্যা ছিল না। সব সলিড ওয়েস্টই কনজিউম হতো অ্যাজ এ বাই-প্রডাক্টস হিসেবে। আমরা যখন হাজারীবাগ থেকে সাভার আসলাম তখন যারা বাই প্রডাক্টস করে তাদের জন্য কোনো জায়গা আমরা দিতে পারিনি। তার ফলে তারা এখানে আসতে না পেরে আর কোনো ব্যবসা করতে পারেনি। ফলে আমাদের সলিড ওয়েস্ট জমা শুরু হলো। ইতিমধ্যে একটি কোম্পানি প্রতিদিন ২০ টন সলিড ওয়েস্ট নিয়ে যাচ্ছে জিলেটিন তৈরি করার জন্য। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যারা বাইপ্রোডাক্টস তৈরি করেন তাদের জন্য চামড়া শিল্পনগরীতে কিছু জায়গা প্রদান করা হবে। বিসিক এ ব্যাপারে সংবাদপত্রে একটি বিজ্ঞপ্তি দেবে। তারা কাজ শুরু করে দিলে ৯০ শতাংশ সলিড ওয়েস্ট ব্যবহার হয়ে যাবে। বাকি ১০ শতাংশ খুব সহজেই ব্যবস্থা করা যাবে।’

তিনি বলেন, চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপির বাস্তবায়ন কাজ সন্তোষজনক গতিতে এগিয়ে চলছে। সরকার চামড়াখাতে রপ্তানি বাড়াতে সিইটিপির পাশাপাশি পুরো শিল্পনগরীকে এলডব্লিউজি সনদের আওতায় নিয়ে আসবে। এর মাধ্যমে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পরে শিল্পমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং শিল্প সচিব চামড়া নগরীর বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্প প্লটে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।