যশোর-মেহেরপুরে কমছে না ডেঙ্গু

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬

যশোর-মেহেরপুরে কমছে না ডেঙ্গু

যশোর ও মেহেরপুর প্রতিনিধি ৯:২৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯

print
যশোর-মেহেরপুরে কমছে না ডেঙ্গু

সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে যশোরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও মাঝামাঝি এসে আবারও বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বেসরকারি হিসাবে যশোরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ১১ জন। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, তাদের হিসাবে মৃতের সংখ্যা সাতজন।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ১১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া গত তিন দিনে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৬৯ জনে। এদের মধ্যে গাংনী উপজেলাতেই শনাক্ত হয়েছেন ১৯৮ জন। এদের বেশিরভাগই স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হয়েছেন।

যশোর স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩ জন। এ সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৯৪ জন। আর চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৬৫ জন। এর মধ্যে যশোর জেনালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৪ জন। উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ১৩৩ জন। আর বিভিন্ন ক্লিনিকে রয়েছেন ৩৭ জন। জেলায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ২৬৬ জন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন দুই হাজার এক জন।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ কিছুটা কমেছে। আক্রান্তদের সুস্থ হতে নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে গত ১১ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৭৪ জন। ৫ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২৯ জন। ৪ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৫৭ জন। এছাড়া ২২ আগস্ট যশোরে ৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়। ২৫ আগস্ট ৬০ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। ৩১ আগস্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১৯ জন। ২৮ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৫২ জন।

অন্যদিকে, রাজধানীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমলেও মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে এডিস মশা। প্রতিদিনই এর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত শুক্রবার গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ জন ও আগের দিন ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়। প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়েছে। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখনও ভর্তি রয়েছেন আটজন। নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে অব্যাহত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে দিশেহারা কর্তৃপক্ষ।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বিডি দাস বলেন, গত শনিবার অর্ধশত মানুষ ডেঙ্গু সন্দেহে হাসপাতালে আসেন। হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি ডায়গনস্টিক সেন্টারে তাদের রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১১ জনের রক্তে ডেঙ্গু এনএস-১ পজিটিভ পাওয়া গেছে।