বাড়ছে ডিজিটাল সেবার পরিসর

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

বাড়ছে ডিজিটাল সেবার পরিসর

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

print
বাড়ছে ডিজিটাল সেবার পরিসর

‘সেফ সিটি’ প্রকল্পের আওতায় আসছে ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব শহর। এ প্রকল্পের আওতায় শুধু ঢাকার প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে বসবে উন্নত প্রযুক্তির ক্যামেরা। এর ফলে যেকোনো অপরাধীর এনআইডি থেকে ছবি নিয়ে শনাক্ত করা যাবে তার অবস্থান। শিগগিরই ‘সেফ সিটি’ প্রজেক্ট হাতে নিয়ে প্রথমে ঢাকাকে সেফটি সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ঢাকার পর পর্যায়ক্রমে সব সিটি করপোরেশনকেও এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। এছাড়া পুলিশের ৯৯৯ সেবা ও টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের ‘স্বজন’ নামে কর্মসূচির সফলতা নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী।

দেশের মানুষের মাঝে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সভায় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।

‘সেফ সিটি’ প্রকল্পের ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার পাকা রাস্তা রয়েছে। এসব রাস্তায় ১৪ থেকে ১৬ হাজার বিভিন্ন ধরনের উন্নত প্রযুক্তির ক্যামেরা লাগানো হবে। ট্রাফিক কন্ট্রোল করাসহ গাড়ি দিয়ে অপরাধ করলে তা শনাক্ত করার জন্য গাড়ির নম্বর প্লেট দেখে এ ক্যামেরাগুলো শনাক্ত করতে পারবে নিশ্চিন্তে। তাছাড়া এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ফেজ নিকোনেশন অর্থাৎ কোনো অপরাধী এ ধরনের যেকোনো ক্যামেরার আওতায় পড়ে তাহলে সেই ক্যামেরা বলে দেবে তার অবস্থান।

এর মাধ্যমে অপরাধীকে শনাক্ত করা সহজ হবে। এক্ষেত্রে অপরাধীর এনআইডি থেকে তার ছবি নিয়ে এই সার্ভারে দিলে তা ডিটেক্ট করতে পারবে অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান।

প্রযুক্তিখাতের প্রশংসা করে কামাল বলেন, পুলিশের ৯৯৯ সেবা খুব জনপ্রিয় হয়ে আসছে। এ পর্যন্ত এক কোটি ৪২ লাখ মানুষ ৯৯৯-এ কল দিয়ে সেবা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাই এটিকে আরও জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নূরুল ইসলামকে প্রধান করে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাছাড়া বর্তমান জনবল ১৪২ থেকে ৫০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী জানান, সভায় ডিজিটাল জিডি (সাধারণ ডায়েরি) ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য এক সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। আপাতত হারানো সংক্রান্ত জিডি অনলাইনে করা যাবে। পরে বিস্তারিত এ প্রোগ্রামের আওতায় আসবে।

অন্যদিকে, জেলখানায় বন্দি আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে ‘স্বজন’ নামে কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে চালুর পর বন্দিদের সঙ্গে আত্মীয়-স্বজনদের সরাসরি জেলখানায় এসে দেখা করার প্রবণতা কমেছে ৮০ শতাংশ।

এ কর্মসূচি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে বলে দেশের সব কারাগারে ‘স্বজন’ কর্মসূচি চালুর চিন্তাভাবনা চলছে। বিষয়গুলোর ওপর আইসিটি মন্ত্রণালয়ের ছয় সপ্তাহের একটি কর্মশালা হবে এবং সেখান থেকে কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুরোপুরি ডিজিটালাইজড করা হবে বলে মন্তব্য করেন আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।