বারবার লক্ষ্য কেন শেখ হাসিনা

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

বারবার লক্ষ্য কেন শেখ হাসিনা

কুন্তল দে ১১:১৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯

print
বারবার লক্ষ্য কেন শেখ হাসিনা

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার বর্ষপূর্তি আজ। রাষ্ট্র-সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের এবং জঙ্গিগোষ্ঠীর সরাসরি যোগসাজশে বর্বরোচিত এ হামলার উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। রাজনীতি থেকে বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরি, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ও আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিল হামলাকারীরা। এ হামলার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল শোকাবহ আগস্ট মাসকেই। ষড়যন্ত্রকারী চক্রের কাছে পরিকল্পনা ছিল পরিষ্কার।

২৯ বছর আগে ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসেই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রুদ্ধ করে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে নির্বাসিত করার ষড়যন্ত্র এঁটেছিল মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত দেশি-বিদেশি শক্তি। জার্মানিতে অবস্থান করায় বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত ওই হত্যাযজ্ঞ থেকে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। ছয় বছর পর স্বদেশে ফিরে শেখ হাসিনা হাল ধরেন আওয়ামী লীগের। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতিকে দেন পুনরুজ্জীবন।

১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর থেকে শেখ হাসিনাকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৯বার হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি পর্যায়ে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছে আরও অন্তত পাঁচবার। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দলের নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে রক্ষা করেন শেখ হাসিনাকে। এসব হামলায় কমপক্ষে ৬৬ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারান। আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ। এরশাদ, খালেদা, তত্ত্বাবধায়ক এমনকি আওয়ামী লীগের আমলেও হত্যাচেষ্টা বা হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্র হয়েছে শেখ হাসিনার ওপর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশে মূলধারার যে রাজনৈতিক সমীকরণ সেখানে মোটাদাগে দুটো ধারা। একটি বাঙালির স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার নেতৃত্বদায়ী আওয়ামী লীগ। ধর্মকেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে বাংলা ভাষাকেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা চেতনাভিত্তিক উদারনৈতিক রাজনীতি আওয়ামী লীগের মূলভিত্তি। বাংলাদেশ নামের জাতিরাষ্ট্রের জন্ম ও বিকাশের প্রতিপর্বের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে জড়িত একমাত্র রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ।

এর বিপরীতে বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় থাকা অন্য রাজনৈতিক দলগুলো মূলত আওয়ামী লীগের রাজনীতির বিপরীতে ও বিরোধিতাকারী শক্তি। ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেওয়া এসব দলে ব্যবসায়ী, আমলা, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সন্নিবেশ ঘটেছে। আওয়ামী লীগেরও দলছুট সুবিধাবাদীদেরও কেউ কেউ সে সব দলে যুক্ত হয়েছে। নিজেদের নড়বড়ে অস্ত্বিত্ব টিকিয়ে রাখতে গিয়ে এ দলগুলো জামায়াতে ইসলামীসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও বাংলাদেশের অস্তিত্ব অস্বীকার করা ব্যক্তিদের মন্ত্রী বানিয়েছে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার করে সমাজে বিভেদ ও বিভক্তি বাড়িয়েছে।

আওয়ামী লীগ বিরোধী এই শক্তিই বারবার শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা করেছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে চিরতরে রাজনীতি থেকে চিহ্নিত করে দিতে চেয়েছিল সেই শক্তি। দীর্ঘ দুই দশকের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগের ভিত্তি একেবারে তৃণমূলে প্রোথিত থাকায় এ ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। সামরিক শাসক থেকে রাষ্ট্রপতি হওয়া জিয়াউর রহমানের আমলের একেবারে শেষদিকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়। আরেক সামরিক শাসক এরশাদের আমলে শেখ হাসিনাকে দুবার হত্যাচেষ্টা করা হয়। একবার ১৯৮৮ সালে। ”ট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পুলিশ শেখ হাসিনার জনসভায় নির্বিচারে গুলি চালায়। সহযোদ্ধারা মানবঢাল তৈরি করে ঘাতকের গুলি থেকে বাঁচান তাদের নেতাকে। প্রাণ হারান ২৪ নেতাকর্মী।

দ্বিতীয়বার হত্যাচেষ্টা হয় ১৯৮৯ সালে। ফ্রীডম পার্টির সশস্ত্র ক্যাডাররা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বাসভবনে গুলি ও গ্রেনেড হামলা চালায়। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা এই ফ্রীডম পার্টি গঠন করে। জিয়ার আমলে গড়ে ওঠা দলটি এরশাদের সামরিক সরকারেরও পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিল। এরশাদ নিজেও যে জাতীয় পার্টি গড়ে তুলেছিলেন তার পেছনে তার উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগের রাজনীতির বিরোধিতাকারীদের নিয়ে একটা রাজনৈতিক দল গড়ে তোলা।

জানা যায়, ১৯৯১-৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের আমলে চারবার, ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে চারবার, ২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত সরকার আমলে চারবার, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে একবার, ২০১৪-২০১৮ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের আমলে চারবার হত্যাচেষ্টা করা কথা জানা যায়।

ঢাকাতেই শেখ হাসিনার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয় ছয়বার। ১৯৮৯ সালের ১১ আগস্ট ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে হামলা করে ফ্রীডম পার্টি। ১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচন চলাকালে রাজধানীর গ্রিন রোডে ও ১৯৯৫ সালের ৭ ডিসেম্বর ধানমন্ডির রাসেল স্কোয়ারে জনসমাবেশে গুলিবর্ষণ করা হয়। ১৯৯৬ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বক্তৃতা দেওয়ার সময় মাইক্রোবাস থেকে সভামঞ্চ লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করা হয়।

সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালানো হয় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে। সেখানে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও মারা যান আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মী।

২০১৫ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভায় যাওয়ার পথে কারওয়ান বাজারে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় জেএমবি। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি, ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ও গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় হামলা হয় ২০০০ সালের ২০ জুলাই। খুলনায় ২০০১ সালের ২৯ মে, একই বছর ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটে, ২০০২ সালের ৪ মার্চ নওগাঁয়, ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ও ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল বরিশালে তাকে হত্যার উদ্দেশে সশস্ত্র হামলা করে হুজি, জেএমবি, জামায়াত ও বিএনপি।

সবশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয়। এ ঘটনাও শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা বলে মনে করেন অনেকে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শীর্ষ নেতাদের যোগসাজশে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে এ হামলা চালায় জঙ্গি সংগঠন হুজি-বি। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চালানো এ হামলার ঘটনাপ্রবাহ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সব ধরনের চেষ্টায় করা হয়। ভয়াবহ ওই হামলায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। নেতাকর্মীরা মানববর্ম তৈরি করে রক্ষা করেন তাকে।

আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন ওই হামলায়। শেখ হাসিনাসহ আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী। ১৪ বছর পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ওই মামলার রায় ঘোষিত হয়। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

কোটালীপাড়ায় হত্যাচেষ্টা
হুজি-বির অন্যতম শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নান আদালতে দুদফায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে শেখ হাসিনার ওপর বিভিন্ন হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিবরণ দিয়েছেন। তার জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০০০ সালের জুলাই মাসে হুজি-বির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে শেখ হাসিনাকে হত্যার সিদ্ধান্ত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই বছরের ২০ জুলাই কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার সমাবেশস্থল ও হেলিপ্যাডের কাছে দুটি শক্তিশালী বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল। তবে সমাবেশের আগে পুলিশ তা উদ্ধার করে ফেলে। ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট আদালত ওই ঘটনায় করা দুটি মামলার রায় ঘোষণা করেন। তাতে আদালত ১০ জনের ফাঁসি এবং আরও ১৩ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন।

সিলেটে হত্যাচেষ্টা
২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটে নির্বাচনী জনসভায় বোমা পুঁতে রেখে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল হুজি-বি। তখন ক্ষমতায় ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। কিন্তু হামলার আগেই জনসভাস্থলের অদূরে বোমা বিস্ফোরণে জঙ্গিদের দুই সদস্য নিহত হওয়ায় জঙ্গিদের পরিকল্পনা ভুল হয়ে যায়। ওই ঘটনায় মামলা হলেও শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনার কথা শুরুতে জানা যায়নি।

২০০৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি মাদ্রাসা থেকে মুফতি হান্নানের ‘গুরুখ্যাত’ জঙ্গিনেতা মাওলানা আবু সাইদ ওরফে আবু জাফরকে গ্রেফতারের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। আবু সাইদ ২০০৬ সালের ৫ অক্টোবর সিলেট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার কথা স্বীকার করেন।

খুলনাতে হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা
২০০১ সালের ৩০ মে খুলনায় রূপসা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল হুজি-বি। অনুষ্ঠানের তিন দিন আগে ২৭ মে সেতুর কাছাকাছি রূপসা নদীতে দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ১৫ জঙ্গি ধরা পড়ে যাওয়ায় সেটিও আর সফল হয়নি। এই ১৫ জনের একজন মাসুম বিল্লাহ ওরফে মুফতি মইন ঢাকায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় অংশ নিয়েছিলেন।

চট্টগ্রামের লালদীঘিতে হত্যাচেষ্টা
১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জনসভা বানচাল করতে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। নিহত হন আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতাকর্মী। এটি পরে চট্টগ্রাম গণহত্যা নামে পরিচিতি পায়। সেদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে রক্ষা করেন তাকে। এ ঘটনায় ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ আইনজীবী শহীদুল হুদা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ কমিশনার রকিবুল হুদাসহ ৪৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলার বিচার আলোর মুখ দেখেনি।

ফ্রীডম পার্টির ব্যর্থ চেষ্টা
১৯৮৯-এর ১১ আগস্ট রাতে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ফ্রীডম পার্টির একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে গুলিবর্ষণ ও গ্রেনেড হামলা চালায়। ওই হামলাও শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা ছিল, এ অভিযোগে ঢাকার ধানমন্ডি থানায় দুটি মামলা হয় তখন। তিন দশক পর ২০১৭ সালে মামলার রায়ে বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার আবদুর রশীদসহ ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়।