রায় দ্রুত কার্যকর দাবি তাদের

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

রায় দ্রুত কার্যকর দাবি তাদের

হাসান ওয়ালী ১০:৫৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯

print
রায় দ্রুত কার্যকর দাবি তাদের

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের পরিবার আজো বিচারের অপেক্ষায়। ১৫ বছর পার হলেও রায় কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সে দিনের হামলায় হতাহতদের পরিবার। তিন দফা আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও রায় কার্যকরে দীর্ঘসূত্রতায় হতাশ তারা। ভুক্তভোগী পরিবার চায় উচ্চ আদালতে যেন দ্রুত নিষ্পত্তি হয় এ মামলার।

২০০৪ সালের ওই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দলটির উদ্যোগে সমাবেশ চলছিল। সমাবেশে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন সেনাবাহিনী থেকে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মাহবুব রশীদ। অস্থায়ী মঞ্চ ট্রাকের ওপরেই ছিলেন তিনি। শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে নিক্ষিপ্ত গ্রেনেডের আঘাতে সেখানেই প্রাণ হারান মাহবুব। কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের সন্তান মাহবুবের স্বজনরা চেয়ে আছেন রায় বাস্তবায়নের দিকে।

‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আমরা ভেবেছিলাম দ্রুত শাস্তি কার্যকর হবে; কিন্তু এতদিনেও হলো না। আমরা খুবই হতাশ। একটা রায় হলেও তার বাস্তবায়ন হলো না। আশাকরি এবার একটা কিছু হবে।’ বলছিলেন মাহবুব রশীদের বড় ভাই শাহজাহান আলী।

আওয়ামী লীগের প্রতিও রয়েছে তার অভিমান। খোলা কাগজের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলছিলেন, ‘সরকার হেল্প করেছে। কিন্তু দলের তরফ থেকে কেউ খোঁজ নেয় না। শেখ হাসিনার দেহরক্ষী তো শুধু চাকরি না। আমাদের পরিবার আওয়ামী লীগ করে বলেই মাহবুব এ কাজে যোগ দিছিলো।’

শুধু মাহবুব রশীদের পরিবারই না, ওই দিনের হামলায় নিহত ২৪ জনসহ ওই ঘটনায় আহতদের ক্ষোভ রয়েছে এত দিনেও রায় কার্যকর না হওয়ায়। গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে গেল বছরের ১০ অক্টোবর তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। একই সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়। এরপরই বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়সহ ৩৭ হাজার ৩৮৫ পৃষ্ঠার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। সে পর্যন্তই থেমে আছে রায়। তারেক রহমান এবং হারিছ চৌধুরীসহ ১৮ জনকে মামলার নথিতে দেখানো হয়েছে পলাতক।

নিহতের স্বজন এবং আহতরা মনে করছেন, স্পর্শকাতর এ মামলার রায় কার্যকরে দীর্ঘসূত্রতা বিচার বানচালে ভূমিকা রাখতে পারে। সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিলেই এর বাস্তবায়ন সম্ভব। ২১ আগস্টের ওই ঘটনায় আহত বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খুরশিদা বেবী হেনার ভাষ্য, ‘আমার সারা শরীরে স্প্লিন্টার। এখনো আমি রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। এই রায়ে আমরা খুশি নই। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মূল নায়ক তারেক রহমানকে তো ফাঁসি দেওয়া হয়নি। তবে আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দ্রুত এ রায়ের বাস্তবায়ন চাই।’