বাসে ট্রেনে মহাভোগান্তি

ঢাকা, রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬

বাসে ট্রেনে মহাভোগান্তি

ঈদ উৎসবে গ্রামে ফেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:১৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০১৯

print
বাসে ট্রেনে মহাভোগান্তি

বঙ্গবন্ধু সেতুর দু’পাশে লেগে আছে ভয়াবহ যানজট। বিশেষ করে সেতুর পূর্বাংশ-টাঙ্গাইলে ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে খণ্ড খণ্ড যানজটে পড়ে গাড়ির গতি এতটাই ধীর হয়ে গেছে যে, টাঙ্গাইল পার হতেই বাসগুলোর সময় লেগে যাচ্ছে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। ফেরিঘাটে কোনো সমস্যা না থাকলেও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কও যেন স্থবির হয়ে আছে। অপরদিকে ঈদযাত্রার প্রথম দিন থেকেই শিডিউল বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে ট্রেন। গতকালও ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে উত্তর ও পশ্চিমের অধিকাংশ ট্রেন। এতে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তির পৌঁছেছে একশেষ অবস্থায়।

এর মধ্যেই সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মন্তব্য করেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ঈদযাত্রার দুর্ভোগকে দুর্ভোগ হিসেবে মনে করে না। এটা তারা ঈদ আনন্দের অংশ হিসেবে মনে করে।’ রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে শনিবার পরিচালিত মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এ দাবি করেন। এমনকি তিনি এমন দাবিও করেছেন, ‘আজকে (শনিবার) রাস্তার কোথাও দুর্ভোগ আছে এমন কোনো ইনফরমেশন আমি পাইনি।’

অন্যদিকে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি অভিযোগ করেছে, সড়কপথে অব্যবস্থাপনার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে ঈদে ঘরমুখী মানুষের। ফিটনেসবিহীন ট্রাকে পশু বহন, ফিটনেসবিহীন বাসে যাত্রী পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। রেলপথে টিকিট কালোবাজারি, ছাদে যাত্রী ও শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে ঘরমুখী যাত্রীরা। নৌপথে চলছে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়। ফেরিঘাটগুলোয় বসে থাকতে হচ্ছে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা। আর আকাশপথে ৪ থেকে ৫ গুণ বাড়তি দামে টিকিট কিনতে হচ্ছে। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘হয়রানিমুক্ত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করুন’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উত্থাপন করে তারা।

উত্তরের পথে দীর্ঘ জট
তিন দিন ধরেই অতিরিক্ত গাড়ির চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ছে উত্তরবঙ্গমুখী যাত্রীরা। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় দাবি করেছেন, ঢাকা-গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকার গাড়ি এলেঙ্গা পর্যন্ত আসছে চার লেন দিয়ে। কিন্তু এলেঙ্গা থেকে সড়ক হচ্ছে দুই লেনের। চার লেন দিয়ে আসা গাড়িঘোড়া দুই লেনে এসে জট পাকাচ্ছে। এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার দুই লেনের সড়কে এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অতিরিক্ত গাড়ির চাপে জটে পড়ছে উত্তরবঙ্গের যান।

দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে টাঙ্গাইলের পাকুল্লা পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটে আটকা পড়ে নাকাল হচ্ছেন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। এই ৪০ কিলোমিটারে কখনো খুব ধীরগতিতে, কখনো থেমে থেমে চলছে যানবাহন। মাঝেমধ্যেই আটকা পড়ে থাকছে দশ-বিশ মিনিট। পাকুল্লা, করটিয়া বাইপাস, নগরজলফই, রাবনা বাইপাস ও এলেঙ্গায় এই জট কিছুক্ষণ পরপর পাঁচ-ছয় কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হচ্ছে।

আজিজুর রহিম নামের উত্তরবঙ্গগামী এক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর যানজটের কারণে টাঙ্গাইল পার হতেই সময় লাগছে ৫-৬ ঘণ্টা। তিনি জানান, সকাল ১০টায় বাস ছেড়েছে, আর সে বাস বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়েছে বিকালে। যমুনা সেতুর যানজটের কারণে ফিরতি পথের বাসগুলো ঢাকায় পৌঁছাতে পারছে না। ফলে শ্যামলী, কল্যাণপুর ও গাবতলীতেও বাসের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে সকালে যেসব বাস ছাড়ার কথা ছিল, সেগুলো দুপুর পর্যন্তও উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকায় পৌঁছায়নি। এ নিয়ে ঘরমুখো মানুষের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বাসের জন্য অপেক্ষায় থেকে রোদে-গরমেও অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন যাত্রীরা। উত্তরবঙ্গগামী শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার নুরুল আমিন দুপুর ২টার দিকে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৭টা, ৯টা ও ১০টার বাস ঢাকায় এসে পৌঁছায়নি। যমুনা সেতুর দুই পাড়েই জ্যাম রয়েছে। তাই গাড়ি আসতে পারছে না। এছাড়া ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কেও জ্যাম আছে। হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার থেকেও একই কথা জানানো হয়। জ্যামের কারণে গাড়ি এসে পৌঁছায়নি।’

অপেক্ষমাণ রংপুরগামী যাত্রী ফারুক হোসেন বলেন, ‘গতবার ঈদের সময় আমার রংপুর যেতে সময় লেগেছিল ১৩ ঘণ্টা। ঈদের সময় গাড়ির চাপ এত থাকে যে রাস্তায় গাড়ি আস্তে আস্তে চলে। এমনকি জ্যাম যমুনা সেতুর ওপরেও থাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি এক জায়গায় বসে থাকার ঘটনাও ঘটে। তাই বাস কখন এসে পৌঁছবে কেউ জানে না।’

ঢাকা-আরিচায় গাড়ির চাপ
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে ঈদে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় থাকলেও ফেরিঘাট এলাকায় যানজট নেই। কিন্তু ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানবাহনের চাপে জট লেগে আছে শুক্রবার থেকে। এখানেও যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করায় স্থায়ী রূপ নিয়েছে যানজট। রাস্তায় আটকে পড়া যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

পরিবহনগুলোতেও যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে না থাকায় যাত্রীরা পথিমধ্যে নেমে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট হয়ে লঞ্চ-ফেরিতে উঠে গন্তব্যে যাচ্ছেন। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে লঞ্চে নির্ধারিত হারে যাত্রীপ্রতি ভাড়া আদায় করা হলেও অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে লঞ্চ চলাচল করায় সাধারণ যাত্রীরা দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন।

শিমুলিয়ায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি
শনিবারও যাত্রী এবং যানবাহনের চাপে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ছিল যানবাহনের দীর্ঘ সারি। এ নৌরুটে ছোট-বড় ১৭টি ফেরি যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করছে। পাশাপাশি যাত্রী পারাপারের জন্য রয়েছে ৮৮টি লঞ্চ, সাড়ে ৪০০ স্পিডবোট ও ট্রলার। কিন্তু যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিআইডব্লিউটিএকে। শনিবার ভোর থেকে শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। দুপুর পর্যন্ত ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় দেখা গেছে ছোট বড় পাঁচ শতাধিক যানবাহনকে।

বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক (মাওয়া) শাহাদাত হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন বৈরী আবহাওয়ার কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় শুক্রবার থেকে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে।

ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয় ট্রেনে
ঈদযাত্রার প্রথম দিন থেকেই ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে রেলওয়ে। এ শিডিউল বিপর্যয় নিয়েই বিভিন্ন রুটের ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে। উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমের ট্রেনগুলোই মূলত এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। শুক্রবার টাঙ্গাইলে সুন্দরবন এক্সপ্রেস লাইনচ্যুতের ঘটনা থেকে এ শিডিউল বিপর্যয় আরও বেড়ে গেছে। এতে ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মূলত বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেনগুলো শিডিউল বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারছে না।

শনিবার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে আগেই জানানো হয়, বেশকিছু ট্রেন বিলম্বে কমলাপুর ছাড়বে। এক ঘণ্টা থেকে শুরু করে আট ঘণ্টারও বেশি বিলম্বে গন্তব্যে ছেড়েছে এসব ট্রেন। কোনো কোনো ট্রেন এর চেয়েও দেরিতে ছেড়েছে।

বিলম্বে ছাড়ার পরও ট্রেনে যাত্রীদের ভিড় এতটাই যে টিকিট করা যাত্রীরাও ট্রেনে উঠতে হিমশিম খাচ্ছেন। কমলাপুর স্টেশন থেকে ট্রেনের ছাদে করে ঝুঁকি নিয়েই বাড়ি ফিরছেন হাজার হাজার যাত্রী। রেলওয়ে জানিয়েছে, যাত্রীদের ছাদে ওঠার নিয়ম না থাকলেও তারা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না যাত্রীদের।

শনিবার সকালে কমলাপুর স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে হাজার হাজার মানুষকে। রাজশাহীগামী ৭৬৯ নং ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল সাড়ে ৬টার পরিবর্তে ছেড়ে গেছে দুপুর দুইটার দিকে। ৭২৬নং সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন ৫ ঘণ্টা বিলম্বে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কমলাপুর ছেড়ে যেতে পারে বলে ঘোষণা দেওয়া হলেও এ ট্রেন ছাড়তে সময় লেগেছে ৭ ঘণ্টা। ৭৬৫নং নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন ৮টার পরিবর্তে বিকাল ৪টায় ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাব্য সময় দেওয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ওই সময়েও ট্রেনটি প্লাটফর্মে পৌঁছেনি। ৭৭১ নং রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ৮ ঘণ্টা বিলম্বে আনুমানিক বিকেল ৫টায় গন্তব্য ছেড়ে যাওয়ার কথা বলেছিল কর্তৃপক্ষ।

লালমনিরহাট ঈদ স্পেশাল ট্রেনটি ১০ঘণ্টা বিলম্বে আনুমানিক সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ছেড়ে যায়। আরো কয়েকটি ট্রেন দেরি করবে বলে জানিয়েছে রেল সূত্র। বাসের মতোই উত্তর ও পশ্চিমের যাত্রীরা রেল শিডিউলের বিপর্যয়ে পড়লেও দক্ষিণ ও পূর্বের যাত্রীদের এমন ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়নি।

রাস্তার দুর্ভোগকে মানুষ ঈদ আনন্দ মনে করে : ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ঈদযাত্রার কষ্টকে দুর্ভোগ হিসেবে মনে করে না। এটা তারা ঈদ আনন্দের অংশ হিসেবে মনে করে। কিছুটা দুর্ভোগ যে নেই সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে গত দু-দিনের তুলনায় ঈদযাত্রা কিছুটা স্বস্তিদায়ক।’

গতকাল শনিবার রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শনিবার রাস্তার কোথাও দুর্ভোগ আছে এমন কোনো তথ্য পাইনি। টাঙ্গাইলের রাস্তায় গাড়ির ধীরগতি আছে। কিন্তু যানজটের কোনো খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কোনো যানজট নেই। এলেঙ্গায় গাড়ির কিছুটা ধীর গতি আছে, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।

রাস্তায় কোনো সমস্যা নেই দাবি করে তিনি বলেন, বেহাল সড়কের কারণে কোথাও যানজট হয়েছে, এমন তথ্য আমার কাছে নেই। পরশু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া গেছে, তার কারণে যে গাড়িগুলো আটকে ছিল, সে প্রেসারটাও ওই রাস্তার ওপর দিয়ে গেছে। কোরবানির ঈদে না চাইলেও পশুবাহী গাড়ির জন্য রাস্তা ধীর গতির হয়ে যায়।

ধীরগতির জন্য গাড়িগুলো আসতে দেরি হচ্ছে। এজন্য টার্মিনালে অনেক যাত্রী বসে কষ্ট পাচ্ছেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ঈদের আনন্দে মানুষ ডেঙ্গুর কথা ভুলে গেছে। এবার আমি টার্মিনালগুলোতে মানুষের চাপ বেশি দেখছি। বাঙালি জাতি ভয় করে না ভয়কে জয় করতে জানে।

সড়ক-নৌ-আকাশপথে ভাড়া নৈরাজ্য
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালক অপসারণ করে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও দুর্ঘটনামুক্ত ঈদযাত্রা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ সংক্রান্ত ১২ দফা দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলো হলো- সড়ক, নৌ ও আকাশপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধ; পশুবাহী ট্রাক থামিয়ে চাঁদাবাজি বন্ধ; সড়ক-মহাসড়কের ওপর বসা পশুর হাট-বাজার উচ্ছেদ করা। টোলপ্লাজাগুলোর সবকটি বুথ চালু করে দ্রুত গাড়ি পাসিং এবং যানজট হয় এমন এলাকায় দ্রুত গাড়ি পাসিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া। মোটরসাইকেলে ঈদযাত্রা নিষিদ্ধ; বেপরোয়া বাইকারদের নিয়ন্ত্রণ করা। ফুটপাত পরিষ্কার রেখে পথচারীদের হাঁটার পরিবেশ নিশ্চিত ও নিরাপদে রাস্তা পারাপার নিশ্চিত করা। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্পিডগান ব্যবহার, উল্টোপথে গাড়ি চলাচল বন্ধ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক, প্যাডেলচালিত রিকশা, অটোরিকশা, নসিমন-করিমন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, রেলপথে টিকিট কালোবাজারি বন্ধ; ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে সড়ক মহাসড়ক প্রতি ইঞ্চি অবৈধ দখল ও পার্কিংমুক্ত করা এবং নৌ-পথে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক বলেন, এ ঈদে ঢাকা থেকে ১ কোটি ৫ লাখ, দেশব্যাপী এক জেলা থেকে অপর জেলায় যাতায়াত করবে আরও প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ যাত্রী। সব মিলিয়ে ১২ দিনে প্রায় ৪ কোটি ৫৫ লাখ যাত্রীর ২৭ কোটি ট্রিপ যাত্রী ঈদ যাত্রার বহরে থাকবে।

সড়কপথে ফিটনেসবিহীন ট্রাকে পশু বহন, ফিটনেসবিহীন বাসে যাত্রী বহনের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। একদিকে বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটের কারণে যানবাহনের গতি কমায় ধীরগতির কারণে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে থেমে থেমে যানবাহন চলছে। অন্যদিকে মানবসৃষ্ট দুর্ভোগ নিরসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজির কড়া নিদের্শনা উপেক্ষা করে পথে পথে পশুবাহী ট্রাক থামিয়ে পুলিশ ও বিভিন্ন সংগঠনের নামে চাঁদাবাজির কারণে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কে কৃত্রিম যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও দেশের সড়ক-মহাসড়কে এবং নগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে পশুরহাটের কারণেও কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। রেলপথে টিকিট কালোবাজারি ও শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে দুর্ভোগে পড়ছে বেশিরভাগ ঘরমুখো যাত্রীরা।

এছাড়া এবারও অভ্যন্তরীণ রুটে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ গুণ বাড়তি দামে টিকিট কিনতে হচ্ছে আকাশপথের যাত্রীদের। ঈদকেন্দ্রিক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে সীমিত পরিসরে প্রতীকীভাবে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মনিটরিং টিমের কার্যক্রম থাকলেও আকাশপথের ভাড়া নৈরাজ্য প্রতিরোধে আজও ভ্রাম্যমাণ আদালত, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, দুদক বা মনিটরিং টিমের কার্যক্রম নেই।

সংবাদ সম্মেলনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী বলেন, এই সরকারের আমলে বিগত ১১ বছরে ২২টি ঈদ হলেও সরকারের কোনো সঠিক ব্যবস্থাপনা দেখছি না। ফলে ভাড়া নৈরাজ্য এবং যানজটে মানুষকে কষ্ট পেতে হচ্ছে।

গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বারভিটার সভাপতি আবদুল হক, নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামন শরীফ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।