‘প্রিয়া সাহা আমার সহ-গবেষক ছিলেন না’

ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬

‘প্রিয়া সাহা আমার সহ-গবেষক ছিলেন না’

নিজস্ব প্রতিবেদক ৬:৪২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০১৯

print
‘প্রিয়া সাহা আমার সহ-গবেষক ছিলেন না’

অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বিষয় নজরে এনে আলোচিত প্রিয়া সাহা কখনো তাঁর ‘সহ-গবেষক, গবেষণা সহযোগী অথবা গবেষণা সহকারী’ ছিলেন না।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি আরো দাবি করেন, ‘একজন সমাজ-গবেষক হিসেবে আমি নিশ্চিত হতে চাই যে, প্রিয়া সাহা আমার নাম উল্লেখপূর্বক যেসব বিভ্রান্তিমূলক ও নীতি-গর্হিত বক্তব্য দিয়েছেন তিনি তা অতি দ্রুত প্রত্যাহার করবেন।’

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির প্যাডে আজ সোমবার পাঠানো এক বিবৃতিতে আবুল বারকাত এই দাবি করেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, প্রিয়া সাহা ভিডিও বক্তব্যে তাঁর (আবুল বারকাত) ‘গবেষণা-তথ্য-উপাত্ত ব্যবহারে বিকৃতকরণ’ করেছেন।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বিষয়ে নালিশ করে আলোচনায় আসেন প্রিয়া সাহা। তিনি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদকও। তাঁর বক্তব্য নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনা শুরু হলে নিজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এই নারী। যদিও তাঁর সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে আজ সোমবার নিন্দা জানানো হয়েছে।

প্রিয়া সাহার ভিডিওর বক্তব্যের বরাত দিয়ে অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি (প্রিয়া সাহা) বলেছেন যে, বাংলাদেশে ৩৭ মিলিয়ন (তিন কোটি ৭০ লাখ) হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান নিখোঁজ রয়েছেন। এরপর ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি আমার নাম উল্লেখ করে বলেছেন যে : উল্লেখিত পরিসংখ্যান আমার গবেষণা উদ্ভূত তথ্য-উপাত্তের সঙ্গে মিলে যায় (অথবা একই)।

অর্থনীতি সমিতির সভাপতি দাবি করেছেন, প্রিয়া সাহার এই বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর গবেষণার তথ্য-উপাত্তের কোনোই মিল নেই।

এরপর নিজের গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে আবুল বারকাত বলেন, “আমার হিসাবে প্রায় পাঁচ দশকে (১৯৬৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত) আনুমানিক এক কোটি ১৩ লাখ হিন্দুধর্মাবলম্বী মানুষ নিরুদ্দিষ্ট হয়েছেন।... অর্থাৎ আমি কোথাও ‘তিন কোটি ৭০ লাখ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান নিখোঁজ রয়েছেন’- এ কথা বলিনি। উপরন্তু তিনি (প্রিয়া সাহা) কোথাও বললেন না যে, আমার গবেষণা তথ্যটির সময়কাল ৫০ বছর- ১৯৬৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত।”

আবুল বারকাত আরো বলেন, ‘২০১১ সালে সরকারি আদমসুমারির তথ্যের ভিত্তিতে ১৯০১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মোট জনসংখ্যার বিভিন্ন ধর্মগোষ্ঠীর আনুপাতিতক হার উল্লেখ করেছি মাত্র।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৭ জুলাই হোয়াইট হাউসে তাঁর কার্যালয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। এতে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে এক নারী ট্রাম্পকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। এখানে (বাংলাদেশে) প্রায় ৩৭ মিলিয়ন (তিন কোটি ৭০ লাখ) হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ডিসঅ্যাপেয়ার (নিখোঁজ) হয়ে গেছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এখনো সেখানে (বাংলাদেশে) ১৮ মিলিয়ন (এক কোটি ৮০ লাখ) সংখ্যালঘু মানুষ রয়েছে। আমার অনুরোধ, দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। শুধু আমাদের (বাংলাদেশে) থাকতে সাহায্য করুন। আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি। তারা আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা আমার জমি কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু কোনো বিচার হয়নি।’

এ সময় ট্রাম্প জানতে চান, ‘কারা জমি দখল করেছে? কারা বাড়ি দখল করেছে?’ জবাবে ওই নারী বলেন, ‘মুসলিম মৌলবাদী গ্রুপ এগুলো করছে। তারা সব সময় পলিটিক্যাল শেল্টার (রাজনৈতিক ছত্রছায়া) পায়।’