আলোচনায় সামাজিক প্রতিরোধ

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

এডিস মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ

আলোচনায় সামাজিক প্রতিরোধ

ছাইফুল ইসলাম মাছুম ১০:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৯

print
আলোচনায় সামাজিক প্রতিরোধ

রাজধানীবাসীর মূর্তিমান আতঙ্ক এখন ডেঙ্গু। এডিস মশা ছড়াচ্ছে এই ডেঙ্গু ভাইরাস। সারা বছর কমবেশি মশার উপদ্রব থাকলেও বর্ষা মৌসুমে বেড়ে যায় মশাবাহিত এ রোগ। এ বছর বর্ষা শুরুর থেকে বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। ধরন পাল্টানোয় এবার ডেঙ্গু জটিল আকার ধারণ করেছে। এ বছরে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪৩৩। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮৫ জন। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ জন। তবে সরকারি তথ্য বলছে, এ বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মারা গেছে পাঁচজন।

আগে থেকে সতর্কতার পরও মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় নাগরিকরা দুষছেন দুই সিটি করপোরেশনকে। এদিকে ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশা দমনে সামাজিক প্রতিরোধ জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এডিস মোকাবেলাকে রীতিমত যুদ্ধ বলে সম্বোধন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। গত শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের বাহক এডিস মশা সম্পর্কে নগরবাসীকে সচেতন করতে র‌্যালির উদ্বোধনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা এক প্রকার যুদ্ধ বলা চলে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে আমাদের যা কিছু করা দরকার তার সব কিছুই করা হচ্ছে। এডিস মশার উৎপত্তিস্থল বন্ধ করতে পারলে এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব।’

অন্যদিকে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন। গতকাল রোববার ডিএসসিসি আয়োজিত মশক নিধন মেয়র বলেন, ‘আমাদের ৫৭টি ওয়ার্ডের ইনস্পেকশন টিম বিভিন্ন বাসাবাড়িতে যাবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের টিমও থাকবে। এ টিম প্রতিটি বাসাবাড়িতে গিয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করবে। এছাড়া বাসাবাড়ির মানুষকে কীভাবে বাসাবাড়ি পরিষ্কার ও এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে হয় সেটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এডিস মশা ময়লা পানিতে জন্মায় না। স্বচ্ছ পানি, বাসাবাড়ির আঙিনা, ছাদের টব ইত্যাদি স্থানে এডিস মশা জন্ম নেয়। তাই এগুলোকে নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার রাখতে হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মশক নিধনে যারা কাজ করছেন, তাদের সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আগামী ঈদেও তাদের ছুটি বাতিল থাকবে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বর্ষাকালীন জরিপে প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়িতেই মিলছে এডিসের লার্ভা। বর্ষার আগে ঢাকার দুই সিটিতে মশার ঘনত্ব নির্ণয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর জরিপে উত্তর সিটি করপোরেশনের ৭টি ও দক্ষিণের ১৪টি ওয়ার্ডকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায় এড়াতে পারবে না সিটি করপোরেশন তবে, শুধু নগর কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে এডিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয় সম্ভব হবে না। এডিস মশা দমনে প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ।

বাসা মালিকদের সচেতনতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাড়ির আঙিনা কিংবা ছাদে মশার প্রজনন কেন্দ্র গড়ে ওঠার জন্য নাগরিক সচেতনতার অভাবকেই দায়ী করছেন তারা। তাই এডিস দমনে বাসায় বাসায় অভিযানের পরামর্শ তাদের। স্থপতি ইকবাল হাবিব খোলা কাগজকে বলেন, মশা হওয়ার মতো কোনো অবস্থা যদি কারও বাসার ছাদে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রয়েছে সিটি করপোরেশনের। একটা অভিযান পরিচালনা করা গেলে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব।

এ বিষয়ে এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালযয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ আরাফাতের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর বর্ষা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। বর্ষার জলাবদ্ধতার কারণে মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব আরো বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, মশাবাহিত রোগ থেকে দূরে থাকতে, বাড়িঘর সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি না জমে থাকে। কারণ অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে জমে থাকা পানিতে এ মশা জন্ম নেয়। মশার আনাগোনা থাকলে, অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। আর মশক নিধনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর তৎপরতা জোরদার করতে হবে।